ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে জানানো যাবে না: হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

  • আপডেট সময়: ০৭:১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ১৭৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সংবিধানবিরোধী। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও লঙ্ঘন।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না বরং বাস্তবায়ন, ডিজিটাল মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছয় মাসের মধ্যে নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। এতে গর্ভের ভ্রূণসংক্রান্ত ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

আদালত মন্তব্য করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি করে, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। একই সঙ্গে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ নির্দেশনাকে আদালত “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে এর বাস্তবায়ন নিয়মিতভাবে আদালতের তদারকিতে থাকে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ বিষয়ে রিট আবেদন দায়ের করেন। শুনানিতে তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে জানানো যাবে না: হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

আপডেট সময়: ০৭:১১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১১ মে) প্রকাশিত হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ নারীর প্রতি বৈষম্য, কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা, সামাজিক ভারসাম্যহীনতা এবং সংবিধানবিরোধী। আদালতের মতে, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডেরও লঙ্ঘন।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণে বলেন, বাংলাদেশে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না বরং বাস্তবায়ন, ডিজিটাল মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ছয় মাসের মধ্যে নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। এতে গর্ভের ভ্রূণসংক্রান্ত ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট সংরক্ষণ ও তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

আদালত মন্তব্য করেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য এবং সম্ভাব্য নারী ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি করে, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের পরিপন্থি। একই সঙ্গে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ নির্দেশনাকে আদালত “continuous mandamus” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে এর বাস্তবায়ন নিয়মিতভাবে আদালতের তদারকিতে থাকে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ বিষয়ে রিট আবেদন দায়ের করেন। শুনানিতে তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।