স্টাফ রিপোর্টার:যশোর ক্যান্টনমেন্ট নিকটবর্তী শানতলায় হরিশচন্দ্র কবিরাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন ও কোন প্রকার শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই তান্ত্রিক মতবাদে দিচ্ছে সকল রোগের চিকিৎসা।
জানা যায়,যশোর সদর উপজেলার ক্যান্টনমেন্ট নিকটবর্তী হরিশচন্দ্র কবিরাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন নিয়ম নীতি ও কোন প্রকার শিক্ষা দীক্ষা ছাড়াই জ্বিনের অজুহাত এবং তন্ত্র মন্ত্র দিয়ে বহু বছর ধরে মানুষের সকল রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি,অনেক টাকার বিনিময়ে নিঃসন্তানদের সন্তান দান,কারো বউ-মেয়ে হারিয়ে গেলে অথবা বাড়ি থেকে চলে গেলে তাকে ফিরিয়ি আনতে পারবে অনুরূপভাবে কারো বউ মেয়ে ভাগিয়ে দেয়ার কাজে,স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে কিংবা তালাক প্রাপ্ত হলে পুনরায় নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে দিতে পারবে,কারো ঘাড়ে জ্বীন লাগলে তা ছাড়িয়ে দিবে,তন্ত্র মন্ত্রের মাধ্যমে বান প্রয়োগ করে যে কাউকে মেরে ফেলা,মূল্যবান জিনিস হারিয়ে গেলে জ্বীনের মাধ্যমে তা উদ্ধার করা,আবার জ্বীনের মাধ্যমে গুপ্ত সম্পদ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে মানুষকে বোকা বানিয়ে বহু টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
ভুক্তভোগী পৃথক ভাবে নাম না বলার শর্তে এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন তার স্বামীর সাথে সম্পর্ক নষ্ট হলে হরিশচন্দ্র কবিরাজের শরণাপন্ন হয়ে মোটা টাকা ব্যয় হয়েছে কিন্তু কোন সমস্যার সমাধান হয়নি।চৌগাছার আরেকজন জানিয়েছেন,তার পছন্দের একটা মেয়ে অন্য ছেলের সাথে বিয়ে হওয়ার পর তাকে ফিরে পাবার জন্য হরিশচন্দ্রকে জানালে সে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়ে কোনো উপকার করতে পারিনি। ভুক্তভোগী কোটচাঁদপুরের একজনের নিকট থেকে ২ লাখ টাকা নিয়ে তাকে মামলায় জিতিয়ে দেবে কিন্তু সেও টাকা খোয়ায়ে কোনো উপকার পায়নি। ভুক্তভোগী আরেক জন ও জানান,তার বিবাহের কয়েক বছর পার হলেও বহু চিকিৎসা করে কোনো সন্তানাদি না হওয়ায় লোকমুখে জানতে পারে হরিশ্চন্দ্র কবিরাজ জ্বিন হাসিল করে সন্তান না হওয়ার কারণ নির্ণয় করে ঔষধ দিলে সন্তান হবে এ কথা শুনে সে কবিরাজের কাছে কয়েকবার যেয়ে ৫০ হাজার টাকা খোয়ায়ে তার কোন সন্তানাদি হয়নি।
প্রতিনিধি সরজমিনে,যেয়ে দেখতে পায় হরিশচন্দ্র রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছে এবং তাদের নিকট থেকে টাকা পয়সা নিচ্ছে সাংবাদিক উপস্থিতি টের পেয়ে কবিরাজ প্রায় ৫০ জন রোগীকে বসিয়ে রেখে সাংবাদিকদের বিভিন্নভাবে বোঝাতে চাই যে তার এভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়ার যথাযথ অনুমোদন আছে।সাংবাদিকরা তার অনুমোদন দেখতে চাইলে সে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা সেবা দেয়ার কোন অনুমোদন দেখাতে পারেনি। সাংবাদিকরা কবিরাজের কাছে জানতে চান সে এত রোগীর সমাগম কিভাবে ঘটালো কৌশল কি?জবাবে কবিরাজ জানাই সে কুইন্স হসপিটাল প্রাঃ লিমিটেডে চাকরি করে সেসুবাদে বিভিন্ন রোগীদের সাথে তার একটা যোগাযোগ আছে সেই হিসাবে সে রোগীগুলো জোগাড় করে।এছাড়া হরিশচন্দ্রর বেআইনিভাবে তন্ত্র মন্ত্র খাটিয়ে বিভিন্ন রোগের এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার সংবাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে,সে মোবাইলে কল দিয়ে পেশাগত দায়িত্ব রত সাংবাদিক কে জানাই রবি তার কাকা হয় সে তাকে এই চিকিৎসা দেওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে রবি তাকে বলেছে তোমাকে যদি কেউ কখনো ডিস্টার্ব করে আমাকে জানাবা একথা শুনে সাংবাদিকরা রবির পরিচয় জানতে চাই আপনি কথা বলেন তার পরিচয় পেয়ে যাবেন অতঃপর হরিশচন্দ্র রবির সাথে সাংবাদিককে ফোনে কথা বলিয়ে দেয়। রবি তার পরিচয় না দিয়ে সাংবাদিক কে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে এবং হরিশচন্দ্র কবিরাজের আস্তানা ছেড়ে চলে যেতে বলে আর সে জানায় এ বিষয়ে সাংবাদিকদের দেখার কোন অধিকার নেই।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে যশোর সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা কে অবহিত করলে তিনি লোকসমাচার কে জানান কবিরাজের চিকিৎসার কোন ভিত্তি নেই। কবিরাজের চিকিৎসা অবশ্যই অপরাধ মূলক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি প্রশাসনকেও এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।





















