ঢাকা ১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি: ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন

  • আপডেট সময়: ০৪:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯
  • ১৮৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:প্রায় ২৫ বছর আগে পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মামলায় ৯ আসামিকে ফাঁসি দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে পাবনা জর্জ কোর্টে পাবনা দায়রা জজ-১ এর বিচারক মো. রোস্তম আলী এ আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার সময় মামলার ৫২ আসামির মধ্যে ৩২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- ঈশ্বরদীর সাবেক পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা মোখলেসুর রহমান, ইশ্বরদী পৌর বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া পিন্টু, ইশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান প্রমুখ।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনায়েন ও পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার ও অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ট্রেনে করে খুলনা থেকে সৈয়দপুরে যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে পৌঁছুলে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। প্রাণে বেঁচে গেলেও দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।

এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ বিএনপির ৭ নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা করেন।

এক পর্যায়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। পরে তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

এদিকে মামলার ৫২ জন আসামির মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন। গত রবিবার ৩০ জন আসামি জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলি: ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন

আপডেট সময়: ০৪:৪৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:প্রায় ২৫ বছর আগে পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মামলায় ৯ আসামিকে ফাঁসি দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বুধবার (৩ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে পাবনা জর্জ কোর্টে পাবনা দায়রা জজ-১ এর বিচারক মো. রোস্তম আলী এ আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার সময় মামলার ৫২ আসামির মধ্যে ৩২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- ঈশ্বরদীর সাবেক পৌর মেয়র ও বিএনপি নেতা মোখলেসুর রহমান, ইশ্বরদী পৌর বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া পিন্টু, ইশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান প্রমুখ।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনায়েন ও পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার ও অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে ট্রেনে করে খুলনা থেকে সৈয়দপুরে যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে পৌঁছুলে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। প্রাণে বেঁচে গেলেও দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।

এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ বিএনপির ৭ নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা করেন।

এক পর্যায়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়। পরে তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

এদিকে মামলার ৫২ জন আসামির মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন। গত রবিবার ৩০ জন আসামি জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।