স্টাফ রিপোর্টার:প্রতিবন্ধকতা জয় করে এবার বিএসএস ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছেন যশোরের শারিরিক প্রতিবন্ধি সম্পূর্ণ অচল ছেলে,রুবায়েত হাকিম স্নিগ্ধ।সে যশোর সরকারি এমএম কলেজের একজন নিয়মিত ছাত্র হিসাবে তার পরীক্ষা কেন্দ্র যশোর সরকারি সিটি কলেজ।
তার বাবার সাথে কথা বলে জানা যায়, স্নিগ্ধর বাড়ী যশোর সদর উপজেলা নরেন্দ্রপুর গ্রামে। তার বাবার নাম এম এ হাকিম এবং মায়ের নাম রুবিনা খাতুন।বাবা একজন বেসরকারি সংস্থায় চাকুরীজীবি, মা একজন গৃহিনী , দুই ভাইয়ের মধ্যে স্নিগ্ধ বড়। তার বাবার সাথে কথা বলে আরও জানা যায়,স্নিগ্ধর ছোট বেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি অগাধ আগ্রহ ছিল বারান্দায় বসে ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া দেখে সে অনবরত কান্নাকাটি করত।
বাবা ও মা ভাবতো সে তো জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী লেখাপড়া করবে কিভাবে?তার অদম্য ইচ্ছা শক্তি এবং অনবরত কান্নাকাটির কাছে বাবা-মায়ের ভাবনা পরাজিত বরণ করে,স্নিগ্ধকে প্রথমে বরিশালের বাকেরগঞ্জ সরকারি মডেল স্কুলে প্রথম শ্রেনিতে ভর্তি করে দেন। সেখান থেকে স্নিগ্ধ ২০১০ সালে পিএসসি পরীক্ষায় ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়।
তার সাফল্য দেখে তার বাবা-মা বরগুনা জেলা স্কুলে ভর্তি করে দেন এবং অত্র স্কুল থেকে জিপিএ ৩.৪৪ পেয়ে জেসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।পরে বাবার বদলি জনিত কারণে স্নিগ্ধ এবং পরিবারসহ পটুয়াখালি চলে আসেন পরে পটুয়াখালি জেলা স্কুলে স্নিগ্ধ ভর্তি হন। পটুয়াখালি জেলা স্কুল থেকে,২০১৬ ইংরেজি সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে জিপিএ ৩.৮৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তারপর সে পটুয়াখালি সরকারি কলেজ থেকে ২০১৮ ইংরেজি সালে মানবিক বিভাগে ২.৮৮ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
পরবর্তীতে তার পরিবার যশোর চলে আসেন এবং স্নিগ্ধকে যশোর সরকারি এমএম কলেজে বিএসএস পাশ কোর্সে ভর্তি করান এবং সেখান ১ম ও ২য় বর্ষ কৃত্বিত্তের সাথে উত্তীর্ণ হন। স্নিগ্ধর সাথে কথা বলে জানাযায়, মাষ্টার শেষ করে মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকুরী করে দেশ ও জাতির সেবা করতে চাই।সে তার সকল শিক্ষক এবং শুভাকাক্ষীদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে।























