লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিনিধি:মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের উচ্চ মান সহকারী আঃ মান্নানের বিরুদ্ধে বয়স ও সার্টিফিকেট জালিয়াতির ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যঅনুসন্ধানে জানা যায় আঃ মান্নানের জন্মসাল ১/৭/১৯৬৭ তার বিভিন্ন আবেদন ও ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী।আঃ মান্নান যশোর শিক্ষা বোর্ডে ১৯৭৬ সাল হতে দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে এম এল এসএস পদে যোগদান করে পদমর্যাদায় আজ উচ্চ মান সহকারী হিসাবে চাকুরী করিয়া আসিতেছেন। ১৯৭৬ সালে চাকুরীতে যোগদান করার পর তার জন্ম সাল হিসাব করলে দেখা যায় জন্মের পর মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি চাকুরীতে যোগদান করেন।যাহা বোর্ডকে বোকা বানানো ছাড়া আর কিছুই নই।খোজ নিয়ে দেখা যায় তৎকালীন আঃ মান্নানের ভাই, মকবুল হোসেন যশোর শিক্ষাবোর্ডে
চাকুরীর সুবাদে তাকে দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে চাকুরীর ব্যবস্হা করে যান।আঃ মান্নান তখন বিনা সার্টিফিকেটে বোর্ডে যোগদান করলেও পদের লোভ সামলাতে না পেরে বিভিন্ন সার্টফিকেট জাল জালিয়াতির চেষ্টা করেন সে মোতাবেক তিনি তার গ্রামের স্কুল সিংহঝুলি এম এন এস এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ ম শ্রেনী পাশের ভূয়া সার্টিফিকেট বোডে জমা দেন এবং তার চাকুরী নিয়মিতকরন আবেদনে উল্লেখ করেন যে তিনি নবম শ্রেনী পাশ। তিনি যখন চাকুরী নিয়মিত করন এর জন্য আবেদন করেন সেখানে তিনি তার জন্মতারিখ উল্লেখ করেন ১/৭/১৯৬৭ এবং তার চাকুরী নিয়মিত করনের জন্য উল্লেখ করেন যে তিনি ১৯৭৬ সাল হতে বোর্ডে চাকুরী করে আসিতেছেন।আঃ মান্নানের জাল জালিয়াতি বুঝতে না পেরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বোডে ১৯৮৬ সালে নিয়মিত করন করা হয়।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়,সিংহঝুলি এম এল এস এস বিদ্যালয়ে আঃ মান্নান নামে কোন ব্যাক্তি ৮ ম শ্রেনী কিংবা কোন ক্লাসে এই নামীয় ব্যাকৃতি পড়ালেখা করে নাই। এ ব্যাপারে তথ্য অধিকার ফরমে সিংহঝুলি স্কুলে আবেদন করলে স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে আঃ মান্নান ১৯৮০ সালে অত্রস্কুল থেকে ৮ ম শ্রেনীর প্রত্যায়ন গ্রহন করেন যাহা তৎকালীন প্রধানশিক্ষক সুধীর বাবু প্রদান করেন।কিন্তু প্রধান শিক্ষক গৌর গোবিন্দ বলেন নতুন ভবনের কারনে আমার কাছে তার কোন ডকুমেন্ট সংরক্ষিত নাই।স্কুলের ১৯৭৬ থেকে ১৯৮০সালের হাজিরা খাতা,রেজিস্ট্রেশন বই বা কোন কাগজে কলমে অনুসন্ধান চালিয়ে আঃ মান্নান নামে কোন ব্যাক্তিকে পাওয়া যায় নাই। খোজ নিয়ে জানা যায় ১৯৮০ সালে আঃ মান্নানের মেয়ে শামসুন্নাহার জন্মগ্রহন করেন। সে হিসাবে দেখা যায় আঃ মান্নানের বয়স থেকে তার মেয়ের বয়স ১৩ বছর এবং আঃ মান্নান ক্ষমতার জোরে যশোর শিক্ষাবোর্ড স্কুলে চাকুরীর ব্যবস্হা করেন।এ ব্যাপারে আঃ মান্নানের সহিত যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার জন্ম সাল ১/৭/১৯৬৭ আমার জন্মের মাসের সমস্যা ছিলো আমি সেটা ঠিক করে নিয়েছি।
তার কাছে বোডে যোগ দানের সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন ১৯৭৬ সালে তিনি বোডে যোগদান করেছেন এবং ঐ বছরেই তিনি বিবাহ করেছেন। কত সালে ৮ ম শ্রেনী পাশ জানতে চাইলে তিনি বলেন ১৯৮০ সালে তিনি সিংহঝুলি স্কুল থেকে পাশ করেছেন।কিন্তু স্কুলের হাজিরা খাতা বা অন্য কোন কাগজে কলমে তার নাম পাওয়া যায়নি। ১৯৬৭ সালে জন্ম ১৯৭৬ সালে (মাত্র ৯ বছর বয়সে)বোডে যোগদান ১৯৮০ সালে ভূয়া ৮ ম শ্রেনী পাশ এটা কিভাবে সম্ভব।জানতে চাইলে আঃ মান্নান বলেন আমি বোর্ডে চাকুরী করি কোনটা কেমন করে সম্ভব করতে হয় সেটা আমি ভালো করেই জানি।
আঃ মান্নান সাংবাদিকদের কথা উল্লেখ করে বলেন এ যাবৎ অনেক সাংবাদিকদের আমি টাকা দিয়েছি আমার বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখতে সাহস পায়না। খোজ নিয়ে জানাজায় আঃ মান্নান যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পদ নিয়ে বসে আছে একারনে তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে সাহস পাই না।
এ ব্যাপারে মুখ খুলতে না পারা বোর্ডের অনেক শিক্ষিত কর্মকর্তা কর্মচারী বলেন অনেক বিসিএস ক্যাডার, প্রধান শিক্ষকগনকে এমন অশিক্ষিত লোককে সালাম দিয়ে চলতে হয়। এমন অশিক্ষিত লোকদের যদি তোষামোদ করতে হয় তাহলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্হার কি হাল হবে।





















