ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলতলায় গলাকেটে নারী হত্যার দুই ঘাতক আটক

  • আপডেট সময়: ০৫:৫২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২
  • ১২৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:খুলনার ফুলতলায় মুসলিমা খাতুন(২০)নামে এক নারী শ্রমিককে গলা কেটে হত‍্যার পর দেহ এক জায়গাই এবং আর এক জায়গাই মাথা রাখা দুই ঘাতককে আটক করেছে র‍্যাব সদস্যরা।

মস্তকহীন বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পর ঘাতক কে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রিয়াজ ও সোহেল। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ফরিদপুর থেকে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয় অভয়নগরে এলাকা থেকে।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ এ তথ্য জানাযায়।

উল্লেখ্য গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে খুলনার ফুলতলার উত্তরডিহি গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে মুসলিমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি দামোদর গ্রামে। তিনি আইয়ান জুট মিল নামে একটি মিলে শ্রমিকের কাজ করতেন।

গ্রেপ্তার দুই জনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ জানান, হত্যার তিন দিন আগে মুসলিমার সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। এরপর বিয়ের কথা বলে ২৫ জানুয়ারি রাতে মোবাইল ফোনে মুসলিমাকে ফুলতলার উত্তরডিহি গ্রামে ডেকে আনে। এরপর যুগ্নিপাশার মুনসুরের একটি ঘরে নিয়ে এনে দুই জন মিলে ধর্ষণ করে।

গাড়িতে তোলার কথা বলে সেখান থেকে বিল এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়। রিয়াজের বাড়ি থেকে বটি নিয়ে এনে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। সেটা নির্মাণাধীন একটি ভবনের মেঝেতে পুঁতে রাখে। সেখানে মাথার সঙ্গে জামা কাপড় ও স্যান্ডেল রাখা হয়।

২৬ জানুয়ারি লাশ উদ্ধারের সময়ও রিয়াজ সেখানে উপস্থিত ছিল। পরে বিভিন্নভাবে তার নাম ওঠার পর পালিয়ে যায়। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবার রাতে ফরিদপুর থেকে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ফুলতলা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়।

মুসলিমার বোন আকলিমা খাতুন জানান, ২৫ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে কল পান মুসলিমা। এরপর কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে আর ফেরেননি। পরদিন সকালে উত্তরডিহির ধান ক্ষেতে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্বজনরা। এরপর মুসলিমাকে শনাক্ত করেন।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে যশোরের প্রেমবাগ এলাকায় সাগর নামে একজনের সঙ্গে মুসলিমার বিয়ে হয়। পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন থেকে আইয়ান জুট মিলে কাজ শুরু করেন মুসলিমা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

ফুলতলায় গলাকেটে নারী হত্যার দুই ঘাতক আটক

আপডেট সময়: ০৫:৫২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:খুলনার ফুলতলায় মুসলিমা খাতুন(২০)নামে এক নারী শ্রমিককে গলা কেটে হত‍্যার পর দেহ এক জায়গাই এবং আর এক জায়গাই মাথা রাখা দুই ঘাতককে আটক করেছে র‍্যাব সদস্যরা।

মস্তকহীন বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধারের তিন দিন পর ঘাতক কে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রিয়াজ ও সোহেল। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ফরিদপুর থেকে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয় অভয়নগরে এলাকা থেকে।

শনিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ এ তথ্য জানাযায়।

উল্লেখ্য গত বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে খুলনার ফুলতলার উত্তরডিহি গ্রামের ধান ক্ষেত থেকে মুসলিমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি দামোদর গ্রামে। তিনি আইয়ান জুট মিল নামে একটি মিলে শ্রমিকের কাজ করতেন।

গ্রেপ্তার দুই জনের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোস্তাক আহমেদ জানান, হত্যার তিন দিন আগে মুসলিমার সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। এরপর বিয়ের কথা বলে ২৫ জানুয়ারি রাতে মোবাইল ফোনে মুসলিমাকে ফুলতলার উত্তরডিহি গ্রামে ডেকে আনে। এরপর যুগ্নিপাশার মুনসুরের একটি ঘরে নিয়ে এনে দুই জন মিলে ধর্ষণ করে।

গাড়িতে তোলার কথা বলে সেখান থেকে বিল এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ধান ক্ষেতে ফেলে দেয়। রিয়াজের বাড়ি থেকে বটি নিয়ে এনে মাথা বিচ্ছিন্ন করে। সেটা নির্মাণাধীন একটি ভবনের মেঝেতে পুঁতে রাখে। সেখানে মাথার সঙ্গে জামা কাপড় ও স্যান্ডেল রাখা হয়।

২৬ জানুয়ারি লাশ উদ্ধারের সময়ও রিয়াজ সেখানে উপস্থিত ছিল। পরে বিভিন্নভাবে তার নাম ওঠার পর পালিয়ে যায়। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে শুক্রবার রাতে ফরিদপুর থেকে রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ফুলতলা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হয়।

মুসলিমার বোন আকলিমা খাতুন জানান, ২৫ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে মোবাইল ফোনে কল পান মুসলিমা। এরপর কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে আর ফেরেননি। পরদিন সকালে উত্তরডিহির ধান ক্ষেতে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্বজনরা। এরপর মুসলিমাকে শনাক্ত করেন।

তিনি বলেন, দুই বছর আগে যশোরের প্রেমবাগ এলাকায় সাগর নামে একজনের সঙ্গে মুসলিমার বিয়ে হয়। পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন থেকে আইয়ান জুট মিলে কাজ শুরু করেন মুসলিমা।