ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারা ডিআইজিকে গোপনে জামিন, বিচারকের কর্মকাণ্ড লজ্জাজনক: হাইকোর্ট

  • আপডেট সময়: ০৭:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ১৫০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়া বিচারকের প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছেন, জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারকের এ ধরনের আচরণ ও কাজ অপ্রত্যাশিত-লজ্জাজনক। তাকে জামিন দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।

পার্থ গোপাল বণিকের জামিন বাতিলের রায়ে হাইকোর্ট এমন পর্যবেক্ষণ দেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেন।

৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতারের পর বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন গত ২ সেপ্টেম্বর বাতিল করেন হাইকোর্ট।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। একইসঙ্গে তার মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন আদালত। সেইসঙ্গে ​পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টের জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
​
গত ১৯ আগস্ট পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন। হাইকোর্টে দাখিল করা ব্যাখ্যায় তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না করে বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে জামিন দেওয়ায় ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সেইসঙ্গে অব্যাহতি দিতেও আবেদন করেছেন ওই বিচারক। হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে লিখিত ব্যাখ্যা দেন বিচারক ইকবাল হোসেন।

ব্যাখ্যায় বিচারক বলেন, ফৌজদারি আপিল নং (১০৫৩৪/১৯) মামলায় গত বছরের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে পার্থ গোপাল বণিকের মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্নের জন্য জজ ইকবাল হোসেনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ আদেশ যথাসময়ে না পৌঁছায় ছয় মাসের সময়সীমা অতিক্রম হয়েছে বলে আসামির আইনজীবী বিশেষ আদালতকে জানান। এ ছাড়া ফৌজদারি রিভিশন মামলা নং (১৪৫/২১) মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট অপর এক আদেশে মামলাটির বিচার এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়। গত ১০ মার্চ এ আদেশের অনুলিপি পান। এ আদেশে উল্লি­খিত সময়সীমার মেয়াদ এখনো রয়েছে। বিশেষ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন ব্যাখ্যায় বলেন, তিনি হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনে সদা সচেষ্ট রয়েছেন।

এর আগে গত ২৮ জুন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না করে পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার ঘটনায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার বিষয়ে চ্যানেল ২৪ এ প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও ক্লিপ আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এ ছাড়া পার্থ গোপাল বণিকের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আদালত। পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন। এছাড়া তার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুদক।

গত ১৯ জুন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পার্থ গোপাল বণিক জামিন পান। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে জামিন দেন। পরদিনই তিনি জেল থেকে বের হন। অনেকটা গোপনে ও তড়িঘড়ি করে এ জামিন দেওয়া হয় ও তিনি কারামুক্ত হন। এ মামলায় হাইকোর্টে একাধিকবার জামিন আবেদন করেও তিনি জামিন পাননি

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

কারা ডিআইজিকে গোপনে জামিন, বিচারকের কর্মকাণ্ড লজ্জাজনক: হাইকোর্ট

আপডেট সময়: ০৭:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বরখাস্ত ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়া বিচারকের প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বলেছেন, জেলা জজ পর্যায়ের একজন বিচারকের এ ধরনের আচরণ ও কাজ অপ্রত্যাশিত-লজ্জাজনক। তাকে জামিন দেওয়া আদালত অবমাননার শামিল।

পার্থ গোপাল বণিকের জামিন বাতিলের রায়ে হাইকোর্ট এমন পর্যবেক্ষণ দেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১২ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেন।

৮০ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতারের পর বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিন গত ২ সেপ্টেম্বর বাতিল করেন হাইকোর্ট।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। একইসঙ্গে তার মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন আদালত। সেইসঙ্গে ​পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টের জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
​
গত ১৯ আগস্ট পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্টে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন। হাইকোর্টে দাখিল করা ব্যাখ্যায় তিনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না করে বরখাস্ত হওয়া ডিআইজি প্রিজন্স পার্থ গোপাল বণিককে জামিন দেওয়ায় ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সেইসঙ্গে অব্যাহতি দিতেও আবেদন করেছেন ওই বিচারক। হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে লিখিত ব্যাখ্যা দেন বিচারক ইকবাল হোসেন।

ব্যাখ্যায় বিচারক বলেন, ফৌজদারি আপিল নং (১০৫৩৪/১৯) মামলায় গত বছরের ২ নভেম্বর হাইকোর্ট এক আদেশে পার্থ গোপাল বণিকের মামলার বিচার ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্নের জন্য জজ ইকবাল হোসেনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ আদেশ যথাসময়ে না পৌঁছায় ছয় মাসের সময়সীমা অতিক্রম হয়েছে বলে আসামির আইনজীবী বিশেষ আদালতকে জানান। এ ছাড়া ফৌজদারি রিভিশন মামলা নং (১৪৫/২১) মামলায় গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট অপর এক আদেশে মামলাটির বিচার এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়। গত ১০ মার্চ এ আদেশের অনুলিপি পান। এ আদেশে উল্লি­খিত সময়সীমার মেয়াদ এখনো রয়েছে। বিশেষ আদালতের বিচারক ইকবাল হোসেন ব্যাখ্যায় বলেন, তিনি হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালনে সদা সচেষ্ট রয়েছেন।

এর আগে গত ২৮ জুন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না করে পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার ঘটনায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেনের কাছে ব্যাখ্যা চান হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার বিষয়ে চ্যানেল ২৪ এ প্রচারিত প্রতিবেদনের ভিডিও ক্লিপ আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এ ছাড়া পার্থ গোপাল বণিকের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আদালত। পার্থ গোপাল বণিককে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মনিরুজ্জামান লিংকন। এছাড়া তার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুদক।

গত ১৯ জুন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় পার্থ গোপাল বণিক জামিন পান। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তাকে জামিন দেন। পরদিনই তিনি জেল থেকে বের হন। অনেকটা গোপনে ও তড়িঘড়ি করে এ জামিন দেওয়া হয় ও তিনি কারামুক্ত হন। এ মামলায় হাইকোর্টে একাধিকবার জামিন আবেদন করেও তিনি জামিন পাননি