ঢাকা ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খোলা আকাশের নিচে বানভাসিদের রাত্রিযাপন

  • আপডেট সময়: ০৩:৫৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯
  • ১৭৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পাড়ের বানভাসি মানুষের রাত কাটে বাঁধের উপর খোলা আকাশের নীচে। গভীর রাতে স্বচক্ষে দেখলে মনে হবে এ যেন স্বপ্নপুরী। নিশ্চুপ চারপাশ, সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। পরিবারের কেউ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন মাল সামান, হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া বা গরু। কেউ হয়তো পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিন্তে ঘুমনোর আশ্বাস দিয়ে জেগে আছেন। একই অবস্থা সিরাজগঞ্জ জেলার সকল বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে।

সিরাজগঞ্জ সদরের ছোনগাছা ইউনিয়নের গোনরগাতি গ্রামের যমুনার বাঁধে গভীর রাতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘুমিয়ে পড়েছে বানভাসি মানুষ, নিস্তব্ধ হয়ে গেছে পৃথিবী, শুধু ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক আর পানির কুলকুল শব্দ। সাথে ক্ষুদ্র জোনাকীর আলো। বন্যার পানি রূপালী জোছনাকেও প্লাবিত করেছে রাতের নিস্তব্ধতাকে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান পেলেও বেশিরভাগ মানুষই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তার পাশে এবং বাঁধের উপর খোলা আঁকাশের নীচে বসবাস করছে। বাড়ির মালামাল, শিশু সন্তান আর গবাদি পশু নিয়ে তাদের রাত্রিযাপনের সঙ্গী কুকুর, বিড়াল।

নির্জনতার মাঝে বানভাসিরা ঘুমে বিভোর, কেউ কেউ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে পরিবারের ঘুমন্ত শিশু থেকে বয়স্কদের। কেউ আবার রাত্রিযাপনের জন্য বেছে নিয়েছে নৌকা।

করুণ অবস্থা গৃহপালিত গরু, ছাগল, ভেড়া আর মুরগিদের। যেখানে মানুষের খাবারের সঙ্কট সেখানে এই সব গৃহপালিত পশুদের খাদ্যের অভাব খুবই স্বাভাবিক। এদের জন্য না আসে ত্রাণ, না ব্যবস্থা হয় বাসস্থান।

রাতজাগা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের একসময় ছিলো জমিভরা ফসল, গোয়ালভরা ধান, গরু, এক টুকরো উঠান, সবজির বাগান। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ বন্যার পানিতে ডুবে সব শেষ হয়ে যায়। জীবন রক্ষার্থে পরিবারসহ বাঁধে কোনরকমে আশ্রয় নিয়েছেন। পানি কমতে শুরু করলেও শুকনো খাবার, পানি আর বাসস্থানের জন্য পলিথিনের অভাবে রয়েছে। এ পর্যন্ত কোন নেতা বা সরকারি লোক কেউ দেখতেও আসেনি, সহায্য সহযোগীতাও পান নি। মেম্বার সামান্য কয়েকটি স্লিপ এনেছিলেন কিন্তু মানুষের তুলনায় তা খুবই নগণ্য। কষ্টের কথা জানাচ্ছিলেন রুখছানা বেগম, মজিবুর রহমান, সরকার মিঞা ও রুস্তম।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

খোলা আকাশের নিচে বানভাসিদের রাত্রিযাপন

আপডেট সময়: ০৩:৫৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পাড়ের বানভাসি মানুষের রাত কাটে বাঁধের উপর খোলা আকাশের নীচে। গভীর রাতে স্বচক্ষে দেখলে মনে হবে এ যেন স্বপ্নপুরী। নিশ্চুপ চারপাশ, সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। পরিবারের কেউ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন মাল সামান, হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া বা গরু। কেউ হয়তো পরিবারের সদস্যদের নিশ্চিন্তে ঘুমনোর আশ্বাস দিয়ে জেগে আছেন। একই অবস্থা সিরাজগঞ্জ জেলার সকল বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে।

সিরাজগঞ্জ সদরের ছোনগাছা ইউনিয়নের গোনরগাতি গ্রামের যমুনার বাঁধে গভীর রাতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘুমিয়ে পড়েছে বানভাসি মানুষ, নিস্তব্ধ হয়ে গেছে পৃথিবী, শুধু ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক আর পানির কুলকুল শব্দ। সাথে ক্ষুদ্র জোনাকীর আলো। বন্যার পানি রূপালী জোছনাকেও প্লাবিত করেছে রাতের নিস্তব্ধতাকে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান পেলেও বেশিরভাগ মানুষই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাস্তার পাশে এবং বাঁধের উপর খোলা আঁকাশের নীচে বসবাস করছে। বাড়ির মালামাল, শিশু সন্তান আর গবাদি পশু নিয়ে তাদের রাত্রিযাপনের সঙ্গী কুকুর, বিড়াল।

নির্জনতার মাঝে বানভাসিরা ঘুমে বিভোর, কেউ কেউ রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে পরিবারের ঘুমন্ত শিশু থেকে বয়স্কদের। কেউ আবার রাত্রিযাপনের জন্য বেছে নিয়েছে নৌকা।

করুণ অবস্থা গৃহপালিত গরু, ছাগল, ভেড়া আর মুরগিদের। যেখানে মানুষের খাবারের সঙ্কট সেখানে এই সব গৃহপালিত পশুদের খাদ্যের অভাব খুবই স্বাভাবিক। এদের জন্য না আসে ত্রাণ, না ব্যবস্থা হয় বাসস্থান।

রাতজাগা কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের একসময় ছিলো জমিভরা ফসল, গোয়ালভরা ধান, গরু, এক টুকরো উঠান, সবজির বাগান। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ বন্যার পানিতে ডুবে সব শেষ হয়ে যায়। জীবন রক্ষার্থে পরিবারসহ বাঁধে কোনরকমে আশ্রয় নিয়েছেন। পানি কমতে শুরু করলেও শুকনো খাবার, পানি আর বাসস্থানের জন্য পলিথিনের অভাবে রয়েছে। এ পর্যন্ত কোন নেতা বা সরকারি লোক কেউ দেখতেও আসেনি, সহায্য সহযোগীতাও পান নি। মেম্বার সামান্য কয়েকটি স্লিপ এনেছিলেন কিন্তু মানুষের তুলনায় তা খুবই নগণ্য। কষ্টের কথা জানাচ্ছিলেন রুখছানা বেগম, মজিবুর রহমান, সরকার মিঞা ও রুস্তম।