ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতন বাড়ছে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের

  • আপডেট সময়: ০৩:৩৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • ১৩৪ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পর এবার প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়ছে। প্রধান শিক্ষকদের ১২ থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা হবে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে মামলা জটিলতা থাকায় এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সম্মতি দেয়া হয়েছে। মামলা জটিলতা কেটে গেলে প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড উন্নতি করা হবে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১২তম গ্রেডে বেতন-ভাতা সুবিধা পাচ্ছেন।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তনের পর এবার প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীত করা হবে। সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও মামলাজনিত কারণে প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা জারি করা সম্ভব হচ্ছে না।

সচিব বলেন, প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হলে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে। প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও স্নাতক বা সমমান ডিগ্রিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাস হতে হবে। নতুবা তারা এ সুবিধা পাবেন না।

জানা যায়, আগে সহকারী শিক্ষকরা যোগদানের পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাড়া ১৫তম গ্রেড ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলে ১৪তম গ্রেডে বেতন-ভাতা সুবিধা পেত। বর্তমানে গ্রেড পরিবর্তন হলেও প্রাথমিক স্তরে মোট শিক্ষকের ৬০ শতাংশই নারী। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে নারীদের এসএসসি-সমমান পাস ছিল। তাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হবেন তারা।

এছাড়া এতদিন ১৪তম গ্রেডে চাকরি করলেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের বেতন ১৩ পার হয়ে ১২তম গ্রেডে চলে গেছে। এখন ১৩তম গ্রেডে নতুন করে বেতন নির্ধারণ করতে গেলে এই শিক্ষকদের বেতন উল্টো কমে যাবে। এসব নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা অসন্তুষ্ট। তারা পৃথক পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন শিগগিরই।

শিক্ষকরা বলছেন, নতুন গ্রেডে বেতন নির্ধারণ উচ্চ ধাপে না নিম্ন ধাপে হবে তার কোনো সুষ্পট উল্লেখ নেই। ফলে উন্নীত স্কেলের (বিএসআর-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী) নিম্ন ধাপে বেতন নির্ধারণ করলে গ্রেড বাড়লেও বাস্তবে সব শিক্ষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষে সহকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১০০০- ২৬৬৯০ (গ্রেড-১৩)নির্ধারণ করা হলো। যা বিদ্যমান বেতনস্কেল ১০২০০-২৪৬৮০ (গ্রেড-১৪ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত)এবং ৯৭০০-২৩৪৯০(গ্রেড-১৩ প্রশিক্ষণবিহীন)। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ এর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পূরণযোগ্য পদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এ আদেশ কার্যকর হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

বেতন বাড়ছে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের

আপডেট সময়: ০৩:৩৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের পর এবার প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের বেতন বাড়ছে। প্রধান শিক্ষকদের ১২ থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করা হবে। শিগগিরই এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে মামলা জটিলতা থাকায় এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সম্মতি দেয়া হয়েছে। মামলা জটিলতা কেটে গেলে প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড উন্নতি করা হবে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা ১২তম গ্রেডে বেতন-ভাতা সুবিধা পাচ্ছেন।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তনের পর এবার প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীত করা হবে। সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও মামলাজনিত কারণে প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা জারি করা সম্ভব হচ্ছে না।

সচিব বলেন, প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি হলে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হবে। প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও স্নাতক বা সমমান ডিগ্রিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাস হতে হবে। নতুবা তারা এ সুবিধা পাবেন না।

জানা যায়, আগে সহকারী শিক্ষকরা যোগদানের পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছাড়া ১৫তম গ্রেড ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হলে ১৪তম গ্রেডে বেতন-ভাতা সুবিধা পেত। বর্তমানে গ্রেড পরিবর্তন হলেও প্রাথমিক স্তরে মোট শিক্ষকের ৬০ শতাংশই নারী। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে নারীদের এসএসসি-সমমান পাস ছিল। তাই সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হবেন তারা।

এছাড়া এতদিন ১৪তম গ্রেডে চাকরি করলেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের বেতন ১৩ পার হয়ে ১২তম গ্রেডে চলে গেছে। এখন ১৩তম গ্রেডে নতুন করে বেতন নির্ধারণ করতে গেলে এই শিক্ষকদের বেতন উল্টো কমে যাবে। এসব নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা অসন্তুষ্ট। তারা পৃথক পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন শিগগিরই।

শিক্ষকরা বলছেন, নতুন গ্রেডে বেতন নির্ধারণ উচ্চ ধাপে না নিম্ন ধাপে হবে তার কোনো সুষ্পট উল্লেখ নেই। ফলে উন্নীত স্কেলের (বিএসআর-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী) নিম্ন ধাপে বেতন নির্ধারণ করলে গ্রেড বাড়লেও বাস্তবে সব শিক্ষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষে সহকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১০০০- ২৬৬৯০ (গ্রেড-১৩)নির্ধারণ করা হলো। যা বিদ্যমান বেতনস্কেল ১০২০০-২৪৬৮০ (গ্রেড-১৪ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত)এবং ৯৭০০-২৩৪৯০(গ্রেড-১৩ প্রশিক্ষণবিহীন)। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ এর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পূরণযোগ্য পদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এ আদেশ কার্যকর হবে।