ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের যে গ্রামে নেই কোনো নারী!

  • আপডেট সময়: ০২:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
  • ১৫০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: বাংলাদেশে কোটি মানুষের বসবাস। নারী-পুরুষ উভয়েরই বসবাস রয়েছে এই দেশে। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে, এদেশে এমন এক গ্রাম আছে যেখানে নেই কোনো নারী!

সুন্দরবনের দুবলার চর। যেখানে ২০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু সেখানে নেই কোনো নারী সদস্য। চলুন জেনে নেয়া যাক এর রহস্য-

চর হিসেবে পরিচিত হলেও স্থানটি মূলত কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে অবস্থিত একটি দ্বীপ। দুবলার চর কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এই চরকে এক কথায় শুঁটকির রাজ্য বলা যেতে পারে। একজন ট্যুর গাইড শাকিল জানালেন, সুন্দরবনে ঘুরতে এলে এই স্থানটিতে না ঘুরে কেউ ফিরতে চান না।

এমন কি শুধু এই দুবলার চরের উদ্দেশেও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অনেক পর্যটক। সুন্দরবনের নিরাপত্তা কর্মী শাহ্জাহান জানালেন, দুবলার চরে মানুষের আনাগোনা থাকে বছরে মাত্র পাঁচ মাস। যার বেশির ভাগটাই শুঁটকিকে কেন্দ্র করে। সরকার কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রায় ২০ হাজার জেলে শুষ্ক মৌসুমে এখানে মাছ ধরার জন্য আসে এবং অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে মাছ ধরা, শুঁটকি করাসহ আনুসঙ্গিক কাজে নিয়োজিত থাকে।

এই সময়টাতে শুঁটকিকে উপলক্ষ করে প্রচুর পর্যটক এখানে ঘুরতে আসে, তাদের কাছে খুচরা শুঁটকি বিক্রির জন্য রয়েছে একটি বাজারও। এখানে আরো একটি কারণে লোকসমাগম হয়ে থাকে, তা হলো হিন্দুদের পুণ্যস্নান এবং রাসমেলা। প্রতিবছর নভেম্বর মাসে এই ধর্মীয় উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

দুবলার চরের শুটকি গ্রাম। যেখানে ছড়ানো ছিটানো রয়েছে ছোট ছোট অসংখ্য ছনের ঘর। যেগুলোর বড় আঙ্গিনায় শুকাতে দেয়া হয়েছে হরেক রকমের মাছ। আশে-পাশেই অনেক লোককে দেখা যায়। কেউ ঝুড়ি বোঝাই করে শুঁটকি মাথায় নিয়ে যাচ্ছে, কেউ কেউ শুঁটকি বাছাই করছে, কেউ কেউ বসে বসে মাছ ধরার জাল ঠিক করছে।

আরেকজন ট্যুর গাইড সুমন জানান, এ গ্রামে কোনো নারী নেই। কারণ হিসেবে সে জানায়, চরে কেউ নারী নিয়ে আসলেই ডাকাতরা ধরে নিয়ে যায়।

আসলেই তাই। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোনো নারী পাওয়া যাবে না সে গ্রামে। শুটকি কেনার জন্য বাড়ির ভেতরে গিয়েও দেখা মিলবে না কোনো নারীর। উল্টো রান্না-বান্নার কাজে ব্যস্ত দেখা যাবে পুরুষদেরকেই।

সেখানকার বসবাসরত পুরুষদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সবারই একই উত্তর থাকে ‘এখানে কোনো নারী নেই’। কেউ কেউ বললেন, অস্থায়ী আবাসের কারণেই তারা নারীদের সঙ্গে করে আনেন না।

তবে সেখানে কিছু নারীর দেখা মিলবে, যারা দুবলার চরে ঘুরতে আসেন। অনেক নারী নির্ভয়ে সন্ধ্যা রাতেও দুবলার চরে ঘুরে বেড়ান। তবে ডাকাতদল তাদের কোনো ক্ষতি করেন না বলেই জানান সেখানকার অনেক পুরুষ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

বাংলাদেশের যে গ্রামে নেই কোনো নারী!

আপডেট সময়: ০২:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: বাংলাদেশে কোটি মানুষের বসবাস। নারী-পুরুষ উভয়েরই বসবাস রয়েছে এই দেশে। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে, এদেশে এমন এক গ্রাম আছে যেখানে নেই কোনো নারী!

সুন্দরবনের দুবলার চর। যেখানে ২০ হাজার মানুষের বসবাস। কিন্তু সেখানে নেই কোনো নারী সদস্য। চলুন জেনে নেয়া যাক এর রহস্য-

চর হিসেবে পরিচিত হলেও স্থানটি মূলত কুঙ্গা ও মরা পশুর নদের মাঝে অবস্থিত একটি দ্বীপ। দুবলার চর কটকার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং হিরণ পয়েন্টের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এই চরকে এক কথায় শুঁটকির রাজ্য বলা যেতে পারে। একজন ট্যুর গাইড শাকিল জানালেন, সুন্দরবনে ঘুরতে এলে এই স্থানটিতে না ঘুরে কেউ ফিরতে চান না।

এমন কি শুধু এই দুবলার চরের উদ্দেশেও দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে অনেক পর্যটক। সুন্দরবনের নিরাপত্তা কর্মী শাহ্জাহান জানালেন, দুবলার চরে মানুষের আনাগোনা থাকে বছরে মাত্র পাঁচ মাস। যার বেশির ভাগটাই শুঁটকিকে কেন্দ্র করে। সরকার কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রায় ২০ হাজার জেলে শুষ্ক মৌসুমে এখানে মাছ ধরার জন্য আসে এবং অস্থায়ী বাসস্থান তৈরি করে মাছ ধরা, শুঁটকি করাসহ আনুসঙ্গিক কাজে নিয়োজিত থাকে।

এই সময়টাতে শুঁটকিকে উপলক্ষ করে প্রচুর পর্যটক এখানে ঘুরতে আসে, তাদের কাছে খুচরা শুঁটকি বিক্রির জন্য রয়েছে একটি বাজারও। এখানে আরো একটি কারণে লোকসমাগম হয়ে থাকে, তা হলো হিন্দুদের পুণ্যস্নান এবং রাসমেলা। প্রতিবছর নভেম্বর মাসে এই ধর্মীয় উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

দুবলার চরের শুটকি গ্রাম। যেখানে ছড়ানো ছিটানো রয়েছে ছোট ছোট অসংখ্য ছনের ঘর। যেগুলোর বড় আঙ্গিনায় শুকাতে দেয়া হয়েছে হরেক রকমের মাছ। আশে-পাশেই অনেক লোককে দেখা যায়। কেউ ঝুড়ি বোঝাই করে শুঁটকি মাথায় নিয়ে যাচ্ছে, কেউ কেউ শুঁটকি বাছাই করছে, কেউ কেউ বসে বসে মাছ ধরার জাল ঠিক করছে।

আরেকজন ট্যুর গাইড সুমন জানান, এ গ্রামে কোনো নারী নেই। কারণ হিসেবে সে জানায়, চরে কেউ নারী নিয়ে আসলেই ডাকাতরা ধরে নিয়ে যায়।

আসলেই তাই। তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কোনো নারী পাওয়া যাবে না সে গ্রামে। শুটকি কেনার জন্য বাড়ির ভেতরে গিয়েও দেখা মিলবে না কোনো নারীর। উল্টো রান্না-বান্নার কাজে ব্যস্ত দেখা যাবে পুরুষদেরকেই।

সেখানকার বসবাসরত পুরুষদের এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সবারই একই উত্তর থাকে ‘এখানে কোনো নারী নেই’। কেউ কেউ বললেন, অস্থায়ী আবাসের কারণেই তারা নারীদের সঙ্গে করে আনেন না।

তবে সেখানে কিছু নারীর দেখা মিলবে, যারা দুবলার চরে ঘুরতে আসেন। অনেক নারী নির্ভয়ে সন্ধ্যা রাতেও দুবলার চরে ঘুরে বেড়ান। তবে ডাকাতদল তাদের কোনো ক্ষতি করেন না বলেই জানান সেখানকার অনেক পুরুষ।