ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা সরে গেলে আ.লীগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে: গাফফার চৌধুরী

  • আপডেট সময়: ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
  • ৯৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা ও বিশিষ্ট কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানে না তাদের অস্তিত্ব একটা মানুষের ওপর নির্ভর করে। আর সেই মানুষটি হচ্ছেন শেখ হাসিনা। আল্লাহ না করুক, কোনক্রমে তাকে যদি সরিয়ে দেয়া যায় আওয়ামী লীগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে। এরপর একজন লোককেও আর বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে দেখা যাবে না। এখন অনেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের জন্য ব্যস্ত, কিন্তু তখন আর তাদের কাউকে ‍খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত “সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালির বিজয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি এবং সাপোর্ট করি বলেই বলছি— এই সরকার সম্পূর্ণভাবে গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। যার ফলে ক্যাপিটালিজমের যে ভালো দিক, এই গুণগুলো বাংলাদেশে আসেনি। এসেছে খারাপ দিকগুলো- যেমন চুরি, লুণ্ঠন, রেপ সব বেড়েছে।’

আব্দুল গফফার চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগে জামায়াতের অনেকেই অনুপ্রবেশ করেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের অনেকেই আছে যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় খুশি হয়েছিলেন। আমি শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করে বলতে চাই, রাজাকারদের তালিকা করার আগে তাদের (অনুপ্রবেশকারী) তালিকা তৈরি করুন।’

একাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসি দেয়া শেখ হাসিনা ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. কামাল হোসেন সব সময় পাসপোর্ট রেডি রাখেন- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এলিট ক্লাস আছে, কিন্তু জাতির কোনও ক্রাইসিসে তাদের পাওয়া যায় না। আমি ড. কামাল হোসেনকেও বলেছি- ‘আপনি তো পাসপোর্ট রেডি রাখেন। যখনই কোনও সংকট হয় তখনই দেশ ছেড়ে চলে যান। এখন আপনি গণতন্ত্র চান। এখন যে আপনি গণতন্ত্রের কথা বলছেন, ঢাকার বুকে বসে সেই অধিকার তো আপনি শেখ হাসিনার জন্য পেয়েছেন’।’

বঙ্গবন্ধু খুবই কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন মন্তব্য করে আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সাহস বঙ্গবন্ধু দেখাতেন না। বঙ্গবন্ধু তাদের ফাঁসি দিতে পারতেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। খুবই কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে যারা চক্রান্ত করেছে তাদের সকলকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব প্রমুখ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

শেখ হাসিনা সরে গেলে আ.লীগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে: গাফফার চৌধুরী

আপডেট সময়: ০৬:৩৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের রচয়িতা ও বিশিষ্ট কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানে না তাদের অস্তিত্ব একটা মানুষের ওপর নির্ভর করে। আর সেই মানুষটি হচ্ছেন শেখ হাসিনা। আল্লাহ না করুক, কোনক্রমে তাকে যদি সরিয়ে দেয়া যায় আওয়ামী লীগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে। এরপর একজন লোককেও আর বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে দেখা যাবে না। এখন অনেকেই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন পালনের জন্য ব্যস্ত, কিন্তু তখন আর তাদের কাউকে ‍খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত “সম্প্রীতি, বঙ্গবন্ধু ও বাঙালির বিজয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি এবং সাপোর্ট করি বলেই বলছি— এই সরকার সম্পূর্ণভাবে গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। যার ফলে ক্যাপিটালিজমের যে ভালো দিক, এই গুণগুলো বাংলাদেশে আসেনি। এসেছে খারাপ দিকগুলো- যেমন চুরি, লুণ্ঠন, রেপ সব বেড়েছে।’

আব্দুল গফফার চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগে জামায়াতের অনেকেই অনুপ্রবেশ করেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের অনেকেই আছে যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় খুশি হয়েছিলেন। আমি শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করে বলতে চাই, রাজাকারদের তালিকা করার আগে তাদের (অনুপ্রবেশকারী) তালিকা তৈরি করুন।’

একাত্তরের ঘাতকদের ফাঁসি দেয়া শেখ হাসিনা ছাড়া আর কারও পক্ষে সম্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. কামাল হোসেন সব সময় পাসপোর্ট রেডি রাখেন- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এলিট ক্লাস আছে, কিন্তু জাতির কোনও ক্রাইসিসে তাদের পাওয়া যায় না। আমি ড. কামাল হোসেনকেও বলেছি- ‘আপনি তো পাসপোর্ট রেডি রাখেন। যখনই কোনও সংকট হয় তখনই দেশ ছেড়ে চলে যান। এখন আপনি গণতন্ত্র চান। এখন যে আপনি গণতন্ত্রের কথা বলছেন, ঢাকার বুকে বসে সেই অধিকার তো আপনি শেখ হাসিনার জন্য পেয়েছেন’।’

বঙ্গবন্ধু খুবই কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন মন্তব্য করে আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সাহস বঙ্গবন্ধু দেখাতেন না। বঙ্গবন্ধু তাদের ফাঁসি দিতে পারতেন কিনা আমার সন্দেহ আছে। খুবই কোমল হৃদয়ের মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে যারা চক্রান্ত করেছে তাদের সকলকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব প্রমুখ।