ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ো, পশ্চিমাদের প্রতি ইরান

  • আপডেট সময়: ০১:১২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯
  • ১৪৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আটক করা তেলবাহী ট্যাঙ্কার ছেড়ে দিতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সাথে পশ্চিমা দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার হুমকি দিয়ে তেহরান বলছে, ‘এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যান, কারণ ইরান ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ নিজেরাই এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।

ব্রিটিশ রয়্যাল নৌবাহিনী গত সপ্তাহে ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটক করে। ট্যাঙ্কারটি ইরান থেকে সিরিয়া যাচ্ছিল। আটক করার কারণ হিসেবে ব্রিটিশ রয়্যাল নৌবাহিনী বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরিয়ায় তেল পাঠাচ্ছিল ইরান। কিন্তু ইরান বলছে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, তাই তাদের কাছে ওই নিষেধাজ্ঞার কোনো মূল্য নেই। গতকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেছেন, ‘এটা একটা ভয়ঙ্কর খেলা এবং পরিণাম আছে। ট্যাঙ্কার আটক করার পেছনে যে আইনি কথা বলা হচ্ছে তা বৈধ নয়। ট্যাঙ্কারটি ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সব দেশের আগ্রহ আছে।’ যদি ট্যাঙ্কারটি না ছাড়া হয় তাহলে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

পারস্য উপসাগরে বুধবার তিনটি ইরানি নৌকা একটি ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল। এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। হরমুজ প্রণালীর ওই ঘটনায় ইরানের কোনো হাত নেই বলে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তবে ব্রিটেন বলছে, নৌকা তিনটি ছিল ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড বাহিনীর। ব্রিটিশ জাহাজ দেশ দু’টির এমন দাবির মধ্যেই তেহরান ব্রিটিশ রয়্যাল বাহিনীর হাতে আটক তাদের ট্যাঙ্কার ছেড়ে দেয়ার এমন আহ্বান জানাল। আর তা না হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিলো। আর এর মাধ্যমে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুসাভি বলেছেন, ব্রিটেন ইরানের যে তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি আটক করেছে সেটা তারা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে। তার মতে, ‘এমন অবৈধ কাজের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরের উত্তেজনা বাড়বে।’

ইরানি নৌকাগুলোর কবলে পড়ার সময় ব্রিটিশ হেরিটেজ আবু মুসা দ্বীপের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। আবু মুসা বিরোধপূর্ণ নৌসীমায় হলেও এইচএমএস মনট্রোজ আন্তর্জাতিক নৌসীমাতেই ছিল। এর আগে নিজেদের একটি তেল ট্যাঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরান। তবে তারা জাহাজ দখলে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে জিব্রাল্টার উপকূলে ইরানি সুপার-ট্যাঙ্কার গ্রেস ১ ও এর সব কার্গো জব্দ করে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওই ট্যাঙ্কারটি ইরান থেকে সিরিয়ায় অশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে এটিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনার জন্য ব্রিটেনকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে বলে বুধবার সকালেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করে দেশটির ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ তৈরির চেষ্টায় তাদের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র রাষ্ট্রগুলোর উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। এসব নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালের চুক্তিতে বেঁধে দেয়া পারমাণবিক তৎপরতার সীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করে ইরান। সূত্র : গার্ডিয়ান

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ো, পশ্চিমাদের প্রতি ইরান

আপডেট সময়: ০১:১২:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আটক করা তেলবাহী ট্যাঙ্কার ছেড়ে দিতে যুক্তরাজ্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সাথে পশ্চিমা দেশগুলোকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার হুমকি দিয়ে তেহরান বলছে, ‘এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যান, কারণ ইরান ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ নিজেরাই এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।

ব্রিটিশ রয়্যাল নৌবাহিনী গত সপ্তাহে ইরানের একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটক করে। ট্যাঙ্কারটি ইরান থেকে সিরিয়া যাচ্ছিল। আটক করার কারণ হিসেবে ব্রিটিশ রয়্যাল নৌবাহিনী বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরিয়ায় তেল পাঠাচ্ছিল ইরান। কিন্তু ইরান বলছে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, তাই তাদের কাছে ওই নিষেধাজ্ঞার কোনো মূল্য নেই। গতকাল শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেছেন, ‘এটা একটা ভয়ঙ্কর খেলা এবং পরিণাম আছে। ট্যাঙ্কার আটক করার পেছনে যে আইনি কথা বলা হচ্ছে তা বৈধ নয়। ট্যাঙ্কারটি ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে সব দেশের আগ্রহ আছে।’ যদি ট্যাঙ্কারটি না ছাড়া হয় তাহলে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

পারস্য উপসাগরে বুধবার তিনটি ইরানি নৌকা একটি ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল। এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। হরমুজ প্রণালীর ওই ঘটনায় ইরানের কোনো হাত নেই বলে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তবে ব্রিটেন বলছে, নৌকা তিনটি ছিল ইরানের রেভ্যুলেশনারি গার্ড বাহিনীর। ব্রিটিশ জাহাজ দেশ দু’টির এমন দাবির মধ্যেই তেহরান ব্রিটিশ রয়্যাল বাহিনীর হাতে আটক তাদের ট্যাঙ্কার ছেড়ে দেয়ার এমন আহ্বান জানাল। আর তা না হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিলো। আর এর মাধ্যমে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুসাভি বলেছেন, ব্রিটেন ইরানের যে তেলবাহী ট্যাঙ্কারটি আটক করেছে সেটা তারা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে। তার মতে, ‘এমন অবৈধ কাজের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরের উত্তেজনা বাড়বে।’

ইরানি নৌকাগুলোর কবলে পড়ার সময় ব্রিটিশ হেরিটেজ আবু মুসা দ্বীপের কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। আবু মুসা বিরোধপূর্ণ নৌসীমায় হলেও এইচএমএস মনট্রোজ আন্তর্জাতিক নৌসীমাতেই ছিল। এর আগে নিজেদের একটি তেল ট্যাঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরান। তবে তারা জাহাজ দখলে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে জিব্রাল্টার উপকূলে ইরানি সুপার-ট্যাঙ্কার গ্রেস ১ ও এর সব কার্গো জব্দ করে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওই ট্যাঙ্কারটি ইরান থেকে সিরিয়ায় অশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে এটিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে তারা। এ ঘটনার জন্য ব্রিটেনকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে বলে বুধবার সকালেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করে দেশটির ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ তৈরির চেষ্টায় তাদের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র রাষ্ট্রগুলোর উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। এসব নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালের চুক্তিতে বেঁধে দেয়া পারমাণবিক তৎপরতার সীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করে ইরান। সূত্র : গার্ডিয়ান