ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

  • আপডেট সময়: ০৯:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়েই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা এক গ্রাহকের। মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই বিল এসেছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। এই অস্বাভাবিক বিল পরে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুল ধরা পড়লে বিলটি সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই বিলই পরিশোধও করেছেন গ্রাহক।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে। ভুক্তভোগী মোছা. আলেয়া খাতুন ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। তার নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এই বিল ইস্যু করেছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস।

বিলের তথ্য মতে, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিলটিতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ওই বিলের পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ হওয়ার কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন জানান, এটা শুধু ভূতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতির কারণে আমাকে দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আড়পাড়া জোনাল অফিসে ডেকে নিয়ে ভুল সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকার নতুন বিল দেওয়া হয়। তিনি ওই বিল পরিশোধ করেছেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম জানান, কম্পিউটারে বিল তৈরির সময় কর্মীদের টাইপিং ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগী নারীকে ডেকে এনে বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সংশোধিত বিলের ১ হাজার ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করেছেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম জানান, টাইপিং ভুলের কারণে এমনটি হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

আপডেট সময়: ০৯:২৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়েই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা এক গ্রাহকের। মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেই বিল এসেছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। এই অস্বাভাবিক বিল পরে বিদ্যুৎ বিভাগের ভুল ধরা পড়লে বিলটি সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই বিলই পরিশোধও করেছেন গ্রাহক।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামে সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে। ভুক্তভোগী মোছা. আলেয়া খাতুন ওই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। তার নামে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এই বিল ইস্যু করেছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস।

বিলের তথ্য মতে, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিলটিতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করা হয়। সব মিলিয়ে বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ ওই বিলের পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ হওয়ার কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা বিলটির পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলটিতে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন জানান, এটা শুধু ভূতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের চরম গাফিলতির কারণে আমাকে দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আড়পাড়া জোনাল অফিসে ডেকে নিয়ে ভুল সংশোধন করে ১ হাজার ৯৬৩ টাকার নতুন বিল দেওয়া হয়। তিনি ওই বিল পরিশোধ করেছেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম জানান, কম্পিউটারে বিল তৈরির সময় কর্মীদের টাইপিং ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগী নারীকে ডেকে এনে বিলটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সংশোধিত বিলের ১ হাজার ৯৬৩ টাকা পরিশোধ করেছেন।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম জানান, টাইপিং ভুলের কারণে এমনটি হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।