ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করা মুক্তিযোদ্ধার দাফন গভীর রাতে, কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন

  • আপডেট সময়: ০৭:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:পিরোজপুরে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করা মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করতে গিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের তীব্র বাঁধার মুখে পড়েছিল তার পরিবার। পরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গভীর রাতে দাফন করা হয় এই মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ। কিন্তু, তার দাফনকার্যে হাত দিতে এগিয়ে যাননি এলাকার কোনও পুরুষ; কবর খুঁড়েছেন তার মেয়ে ও বোন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে এভাবেই নিজ বাড়িতে নিভৃতে চিরশায়িত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী।

জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের মরদেহ নিয়ে গেলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে তার স্বজনেরা। এ অবস্থায় পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিরাপত্তা দিয়ে মরদেহটি ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার মরদেহটি নিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে। রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ। মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে তাকে দাফন করেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।’

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত ২ মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিক মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা করা মুক্তিযোদ্ধার দাফন গভীর রাতে, কবর খুঁড়লেন মেয়ে-বোন

আপডেট সময়: ০৭:১২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:পিরোজপুরে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করা মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফন করতে গিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের তীব্র বাঁধার মুখে পড়েছিল তার পরিবার। পরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে গভীর রাতে দাফন করা হয় এই মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ। কিন্তু, তার দাফনকার্যে হাত দিতে এগিয়ে যাননি এলাকার কোনও পুরুষ; কবর খুঁড়েছেন তার মেয়ে ও বোন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে এভাবেই নিজ বাড়িতে নিভৃতে চিরশায়িত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী।

জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের মরদেহ নিয়ে গেলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে তার স্বজনেরা। এ অবস্থায় পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিরাপত্তা দিয়ে মরদেহটি ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।

পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার মরদেহটি নিয়ে তার বাড়িতে পৌঁছে। রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ। মানিক পশারীর স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মিলে কবর খুঁড়ে রাত ২টার দিকে তাকে দাফন করেন।

মানিক পশারীর বোন বলেন, ‘আমার ভাইরে টুঙ্গিপাড়া দিয়া পিরোজপুর আনার পর ওখানে ঝামেলা হইছে। একবার মোরা কবর খুঁড়ছি, সেই কবর লোকজনে আবার ভরাট করে ফেলছে। আবার মোরা কবর খুঁড়ছি এবং পুলিশ লাশ আনার পরে মোরাই মাডি দিছি। কোনো পুরুষ মানুষ আয় নাই।’

পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জায়ামাতের নেতা এবং অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতা বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় তার মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত ২ মাস ধরে অসুস্থ থাকার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিক মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন এই মুক্তিযোদ্ধা।