ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলে ওসির কক্ষে রুমিন ফারহানার তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, ‘আ.লীগের চোর’ বলে ক্ষোভ

  • আপডেট সময়: ১০:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে আখ্যায়িত করেন রুমিন ফারহানা।

অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে থানায় গিয়ে হইচই ও ‘মব সৃষ্টি’র অভিযোগ তুলেছেন ওসি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

থানায় গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এমপির ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সরাইল থানায় যান। পরে ওসির কক্ষে প্রবেশ করে তিনি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ফোন না ধরার অভিযোগে ওসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে সম্বোধন করেন তিনি।এ সময় বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ঘটনার বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিয়েছে। কিন্তু সরাইল থানার ওসি তাঁর ফোন ধরেন না। বরং নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা মানুষই দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, এ কারণেই হাজার হাজার মানুষ তাঁকে নিরাপত্তা দিতে সঙ্গে এসেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়া, মাটি কাটা এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে ওসির সঙ্গে কথা বলতে তিনি থানায় গেছেন।থানায় এসে মব সৃষ্ট করেছেন’—ওসি অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে হইচই করে মব সৃষ্টি করেছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরে নানা অভিযোগ করা হলেও আগের তুলনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা অনেকটা কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি বলেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো মিথ্যা। সংসদ সদস্য তাঁদের এসব শিখিয়ে এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিরাপত্তা নিয়ে ওসির বক্তব্য সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার বিষয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, থানায় যে সংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছেন, তাঁদের দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সময় সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সংসদ সদস্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ওই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল।ওসি আরও বলেন, সংসদ সদস্য গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।এ ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উঠে এসেছে।

তবে ওসির বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এবং থানায় ‘মব সৃষ্টি’র অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া না গেলে কোনোটিকেই প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সরাইলে ওসির কক্ষে রুমিন ফারহানার তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, ‘আ.লীগের চোর’ বলে ক্ষোভ

আপডেট সময়: ১০:০৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে আখ্যায়িত করেন রুমিন ফারহানা।

অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে থানায় গিয়ে হইচই ও ‘মব সৃষ্টি’র অভিযোগ তুলেছেন ওসি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁদের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

থানায় গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এমপির ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সরাইল থানায় যান। পরে ওসির কক্ষে প্রবেশ করে তিনি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ফোন না ধরার অভিযোগে ওসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে সম্বোধন করেন তিনি।এ সময় বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ঘটনার বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিয়েছে। কিন্তু সরাইল থানার ওসি তাঁর ফোন ধরেন না। বরং নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা মানুষই দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, এ কারণেই হাজার হাজার মানুষ তাঁকে নিরাপত্তা দিতে সঙ্গে এসেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়া, মাটি কাটা এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে ওসির সঙ্গে কথা বলতে তিনি থানায় গেছেন।থানায় এসে মব সৃষ্ট করেছেন’—ওসি অন্যদিকে, সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে হইচই করে মব সৃষ্টি করেছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরে নানা অভিযোগ করা হলেও আগের তুলনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা অনেকটা কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওসি বলেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো মিথ্যা। সংসদ সদস্য তাঁদের এসব শিখিয়ে এনেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিরাপত্তা নিয়ে ওসির বক্তব্য সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার বিষয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, থানায় যে সংখ্যক পুলিশ সদস্য রয়েছেন, তাঁদের দিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সময় সার্বিক নিরাপত্তার পাশাপাশি সংসদ সদস্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ওই সময়ে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা কঠিন ছিল।ওসি আরও বলেন, সংসদ সদস্য গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।এ ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ উঠে এসেছে।

তবে ওসির বিরুদ্ধে আনা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এবং থানায় ‘মব সৃষ্টি’র অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া না গেলে কোনোটিকেই প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।