ঢাকা ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুটার ফয়সালকে পালাতে সাহায্য করা কে এই তাইজুল?

  • আপডেট সময়: ০৮:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৮৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারত পালাতে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী।

তদন্তে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভারতে অবস্থানরত তাইজুল ইসলাম চৌধুরী তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলামকে ফোন করে ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করানোর ব্যবস্থা নিতে বলেন। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের জন্য স্থানীয় দালালের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানোর নির্দেশনাও তিনি দেন।

ডিবি সূত্রের দাবি, ফয়সাল ও আলমগীরকে পালিয়ে যাওয়ার পুরো পরিকল্পনাটি আগে থেকেই করা ছিল এবং এর নেপথ্যে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কল রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানায়, পলাতক তাইজুল ইসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ও পলায়নে সহায়তাকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কে এই তাইজুল?
তাইজুল ইসলাম চৌধুরী মিরপুর-পল্লবী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং মিরপুর এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একসময় ‘ঝুট বাপ্পী’, পরে ‘পল্লবীর জমিদার’ নামে পরিচিতি পান।

পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি বাপ্পী। অভিযোগ রয়েছে, পরিবহন ও গার্মেন্টের ঝুট কাপড় ব্যবসা, ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ, ফুটপাত ও অস্থায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

জানা যায়, মিরপুর ও পল্লবীতে তার নামে একাধিক বাড়ি ও প্লট রয়েছে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর ‘মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড খান ব্রিকস’ নামে একটি অটো ব্রিকফিল্ডের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে।

তবে আয়কর নথিতে এসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

জার্সি বাহিনী
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বাপ্পীর নিয়ন্ত্রণে ‘জার্সি বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা বাজার, রিকশা গ্যারেজ ও ফুটপাতের দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। পাশাপাশি রূপনগরের ঝিলপাড় বস্তির নিয়ন্ত্রণও তার হাতে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাদি হত্যাকাণ্ড
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় শহীদ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

গত রোববার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শুটার ফয়সালকে পালাতে সাহায্য করা কে এই তাইজুল?

আপডেট সময়: ০৮:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারত পালাতে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী।

তদন্তে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ভারতে অবস্থানরত তাইজুল ইসলাম চৌধুরী তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলামকে ফোন করে ফয়সাল ও আলমগীরকে সীমান্ত পার করানোর ব্যবস্থা নিতে বলেন। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের জন্য স্থানীয় দালালের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠানোর নির্দেশনাও তিনি দেন।

ডিবি সূত্রের দাবি, ফয়সাল ও আলমগীরকে পালিয়ে যাওয়ার পুরো পরিকল্পনাটি আগে থেকেই করা ছিল এবং এর নেপথ্যে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কল রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা জানায়, পলাতক তাইজুল ইসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ড ও পলায়নে সহায়তাকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

কে এই তাইজুল?
তাইজুল ইসলাম চৌধুরী মিরপুর-পল্লবী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং মিরপুর এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একসময় ‘ঝুট বাপ্পী’, পরে ‘পল্লবীর জমিদার’ নামে পরিচিতি পান।

পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি বাপ্পী। অভিযোগ রয়েছে, পরিবহন ও গার্মেন্টের ঝুট কাপড় ব্যবসা, ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ, ফুটপাত ও অস্থায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে, যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

জানা যায়, মিরপুর ও পল্লবীতে তার নামে একাধিক বাড়ি ও প্লট রয়েছে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রায় ৫০ বিঘা জমির ওপর ‘মেসার্স চৌধুরী অ্যান্ড খান ব্রিকস’ নামে একটি অটো ব্রিকফিল্ডের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে।

তবে আয়কর নথিতে এসব সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

জার্সি বাহিনী
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বাপ্পীর নিয়ন্ত্রণে ‘জার্সি বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে, যারা বাজার, রিকশা গ্যারেজ ও ফুটপাতের দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। পাশাপাশি রূপনগরের ঝিলপাড় বস্তির নিয়ন্ত্রণও তার হাতে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাদি হত্যাকাণ্ড
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় শহীদ ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

গত রোববার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।