ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শবে বরাতে হালুয়া-রুটির প্রচলন যেভাবে এলো

  • আপডেট সময়: ০৬:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতই মুসলমানদের কাছে পরিচিত শবে বরাত হিসেবে। এ রাতকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নফল ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় ইবাদত, যা ভোরে ফজর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শেষ হয়।

শবে বরাত উপলক্ষে মুসলিম পরিবারগুলোতে দেখা যায় বিশেষ আয়োজন। ইবাদতের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রেও থাকে নানা প্রস্তুতি। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় আয়োজন হলো হরেক রকমের হালুয়া ও রুটি। শুধু নিজেদের পরিবারের মধ্যেই নয়, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝেও হালুয়া-রুটি বিতরণ করার একটি সামাজিক রীতি গড়ে উঠেছে।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, শবে বরাতে হালুয়া-রুটির প্রচলন কোনো ধর্মীয় বিধান বা ফরজ আমলের অংশ নয়। বরং এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই পবিত্র রাতের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া।

ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, হালুয়া মূলত মিষ্টি খাবারের প্রতীক হিসেবেই প্রচলিত। বাংলাদেশ ভূখণ্ডে শবে বরাত পালনের সূচনা হয় উনিশ শতকের শেষভাগে। সে সময় ঢাকার নবাবরা শবে বরাতকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করতেন। আলোকসজ্জা, দান-খয়রাত ও মিষ্টি বিতরণ ছিল সেই আয়োজনের অংশ। তখনকার দিনে মিষ্টি মূলত ঘরেই তৈরি করা হতো। ফলে সহজলভ্য মিষ্টি হিসেবে হালুয়া প্রস্তুত ও বিতরণের রীতি গড়ে ওঠে।

ইতিহাসবিদরা আরও জানান, নবাবদের শাসনব্যবস্থা, মুসলমানদের সামাজিক আধিপত্য এবং ধর্মীয় অনুশাসন এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে প্রকাশ করতেই শবে বরাতে বড় ধরনের উৎসবের আয়োজন হতো। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে শবে বরাতের দিন সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে এর আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়। এর ধারাবাহিকতায় খাবারের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নেয় হালুয়া।

এ ছাড়া হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি খাবার পছন্দ করতেন। তাঁর উম্মতের মধ্যেও মিষ্টি খাবারের প্রতি একটি স্বাভাবিক আগ্রহ রয়েছে। ইতিহাসবিদদের ধারণা, এই প্রেক্ষাপটেও শবে বরাতের ইবাদতের সঙ্গে মিষ্টি খাবার, বিশেষ করে হালুয়া খাওয়ার রীতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

শবে বরাতে হালুয়া-রুটির প্রচলন যেভাবে এলো

আপডেট সময়: ০৬:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতই মুসলমানদের কাছে পরিচিত শবে বরাত হিসেবে। এ রাতকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নফল ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় ইবাদত, যা ভোরে ফজর নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শেষ হয়।

শবে বরাত উপলক্ষে মুসলিম পরিবারগুলোতে দেখা যায় বিশেষ আয়োজন। ইবাদতের পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রেও থাকে নানা প্রস্তুতি। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় আয়োজন হলো হরেক রকমের হালুয়া ও রুটি। শুধু নিজেদের পরিবারের মধ্যেই নয়, প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝেও হালুয়া-রুটি বিতরণ করার একটি সামাজিক রীতি গড়ে উঠেছে।

তবে ইতিহাসবিদদের মতে, শবে বরাতে হালুয়া-রুটির প্রচলন কোনো ধর্মীয় বিধান বা ফরজ আমলের অংশ নয়। বরং এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই পবিত্র রাতের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া।

ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, হালুয়া মূলত মিষ্টি খাবারের প্রতীক হিসেবেই প্রচলিত। বাংলাদেশ ভূখণ্ডে শবে বরাত পালনের সূচনা হয় উনিশ শতকের শেষভাগে। সে সময় ঢাকার নবাবরা শবে বরাতকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন করতেন। আলোকসজ্জা, দান-খয়রাত ও মিষ্টি বিতরণ ছিল সেই আয়োজনের অংশ। তখনকার দিনে মিষ্টি মূলত ঘরেই তৈরি করা হতো। ফলে সহজলভ্য মিষ্টি হিসেবে হালুয়া প্রস্তুত ও বিতরণের রীতি গড়ে ওঠে।

ইতিহাসবিদরা আরও জানান, নবাবদের শাসনব্যবস্থা, মুসলমানদের সামাজিক আধিপত্য এবং ধর্মীয় অনুশাসন এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে প্রকাশ করতেই শবে বরাতে বড় ধরনের উৎসবের আয়োজন হতো। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে শবে বরাতের দিন সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে এর আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়। এর ধারাবাহিকতায় খাবারের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নেয় হালুয়া।

এ ছাড়া হাদিস থেকে জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) মিষ্টি খাবার পছন্দ করতেন। তাঁর উম্মতের মধ্যেও মিষ্টি খাবারের প্রতি একটি স্বাভাবিক আগ্রহ রয়েছে। ইতিহাসবিদদের ধারণা, এই প্রেক্ষাপটেও শবে বরাতের ইবাদতের সঙ্গে মিষ্টি খাবার, বিশেষ করে হালুয়া খাওয়ার রীতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।