ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লুত নবির জাতি ধ্বংস হয়েছিল যে কারণে

  • আপডেট সময়: ০৯:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪
  • ১৫২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:অত্যাচার, অনাচার আর পাপাচারের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় যেসব জাতিকে খোদায়ি শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের মধ্যে আল্লাহর নবি হজরত লুত (আ.)-এর জাতি অন্যতম।

মিথ্যা, ধোঁকা, প্রতারণা ও ব্যভিচারসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করেনি। সবশেষ নতুন যে পাপটি তারা আবিষ্কার করে সেটি হলো সমকামিতা। এটি করে প্রকাশ্যে আনন্দ-উল্লাস করত তারা।

আল্লাহ বলেন, ‘আর লুতকে আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। আমি তাকে এমন এক জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যার অধিবাসীরা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল। তারা ছিল এক মন্দ ও পাপাচারী কওম। আর আমি তাকে আমার রহমতের মধ্যে শামিল করে নিয়েছিলাম। সে ছিল সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা আম্বিয়া: আয়াত ৭৪-৭৫)।

সূরা আন নামলে লুত নবির জাতির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে এভাবে- ‘স্মরণ করো লুতের কথা, তিনি তার জাতিকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ-এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়। উত্তরে তার কওম শুধু এ কথাটিই বলল, লুত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়। অতঃপর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তার স্ত্রী ছাড়া। কেননা তার জন্য ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম। আর তাদের ওপর বর্ষণ করেছিলাম মুষলধারে বৃষ্টি। সেই সতর্ককৃতদের ওপর কতই না মারাত্মক ছিল সে বৃষ্টি।’ (সূরা আন নামল: আয়াত ৫৪-৫৮)।

তাফসিরকারকরা বলেন, সমকামিতার মহাঅপরাধে লুত (আ.)-এর জাতির ওপর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাপ্রলয় নেমে আসে। এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো নগরটি সম্পূর্ণ উল্টে দেয়। ঘুমন্ত মানুষের ওপর তাদের ঘরবাড়ি আছড়ে পড়ে। পাশাপাশি আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো কঙ্কর নিক্ষিপ্ত হতে থাকে। ওই মহাপ্রলয়ের হাত থেকে কেউ রেহাই পায়নি।

লুত (আ.)-এর জাতির ধ্বংসস্থলটি বর্তমানে ডেড সি বা মৃত সাগর নামে পরিচিত। ফিলিস্তিন ও জর্দান নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল অঞ্চলজুড়ে নদীর রূপ ধারণ করে আছে এটি। এতে কোনো ধরনের জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না।

ট্যাগ
জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

লুত নবির জাতি ধ্বংস হয়েছিল যে কারণে

আপডেট সময়: ০৯:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৪
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:অত্যাচার, অনাচার আর পাপাচারের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় যেসব জাতিকে খোদায়ি শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের মধ্যে আল্লাহর নবি হজরত লুত (আ.)-এর জাতি অন্যতম।

মিথ্যা, ধোঁকা, প্রতারণা ও ব্যভিচারসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করেনি। সবশেষ নতুন যে পাপটি তারা আবিষ্কার করে সেটি হলো সমকামিতা। এটি করে প্রকাশ্যে আনন্দ-উল্লাস করত তারা।

আল্লাহ বলেন, ‘আর লুতকে আমি প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম। আমি তাকে এমন এক জনপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম, যার অধিবাসীরা অশ্লীল কাজে লিপ্ত ছিল। তারা ছিল এক মন্দ ও পাপাচারী কওম। আর আমি তাকে আমার রহমতের মধ্যে শামিল করে নিয়েছিলাম। সে ছিল সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সূরা আম্বিয়া: আয়াত ৭৪-৭৫)।

সূরা আন নামলে লুত নবির জাতির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে এভাবে- ‘স্মরণ করো লুতের কথা, তিনি তার জাতিকে বলেছিলেন, তোমরা কেন অশ্লীল কাজ করছ? অথচ-এর পরিণতির কথা তোমরা অবগত আছ! তোমরা কি কামতৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষে উপগত হবে? তোমরা তো এক বর্বর সম্প্রদায়। উত্তরে তার কওম শুধু এ কথাটিই বলল, লুত পরিবারকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা শুধু পাকপবিত্র সাজতে চায়। অতঃপর তাকে ও তার পরিবারবর্গকে উদ্ধার করলাম তার স্ত্রী ছাড়া। কেননা তার জন্য ধ্বংসপ্রাপ্তদের ভাগ্যই নির্ধারিত করেছিলাম। আর তাদের ওপর বর্ষণ করেছিলাম মুষলধারে বৃষ্টি। সেই সতর্ককৃতদের ওপর কতই না মারাত্মক ছিল সে বৃষ্টি।’ (সূরা আন নামল: আয়াত ৫৪-৫৮)।

তাফসিরকারকরা বলেন, সমকামিতার মহাঅপরাধে লুত (আ.)-এর জাতির ওপর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহাপ্রলয় নেমে আসে। এক শক্তিশালী ভূমিকম্প পুরো নগরটি সম্পূর্ণ উল্টে দেয়। ঘুমন্ত মানুষের ওপর তাদের ঘরবাড়ি আছড়ে পড়ে। পাশাপাশি আকাশ থেকে বৃষ্টির মতো কঙ্কর নিক্ষিপ্ত হতে থাকে। ওই মহাপ্রলয়ের হাত থেকে কেউ রেহাই পায়নি।

লুত (আ.)-এর জাতির ধ্বংসস্থলটি বর্তমানে ডেড সি বা মৃত সাগর নামে পরিচিত। ফিলিস্তিন ও জর্দান নদীর মধ্যবর্তী স্থানে বিশাল অঞ্চলজুড়ে নদীর রূপ ধারণ করে আছে এটি। এতে কোনো ধরনের জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না।