লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুমনা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি হাসপাতালের কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী না হয়েও হাসপাতালের ১৩ নম্বর এলাকায় নিয়মিত অবস্থান করে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনদের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন।
হাসপাতালসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সাধারণ রোগীরা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে এলে তাদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে বেসরকারি ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগী বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগে থাকা সুমনা হাসপাতালের কোনো পার্মানেন্ট স্টাফ নন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাকে কোনো বেতন প্রদান করে না বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাহলে তিনি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করছেন এবং রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সুমনা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ওই এলাকায় অবস্থান করছেন এবং রোগীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এ নিয়ে একাধিক ব্যক্তি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে, লোকসমাচারের একজন প্রতিনিধি বিষয়টি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে মৌখিকভাবে অবহিত করেন এবং অভিযোগের বিষয়টি জানান। তখন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হলে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বলা হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হলেও এরপরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে অপসারণ করেনি—এমন দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে, একজন ব্যক্তি যদি হাসপাতালের স্থায়ী কর্মী না হন, হাসপাতাল থেকে বেতনও না পান, তাহলে তিনি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালের অভ্যন্তরে অবস্থান করে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন? অভিযোগ পাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন—এ প্রশ্নেরও জবাব চান রোগী ও তাদের স্বজনরা।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করলে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে—সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন কি না, করলে তিনি কীভাবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন এবং অভিযোগ পাওয়ার পরও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও রোগীদের স্বজনরা।
























