ঢাকা ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদল কর্তৃক মানবাধিকারকর্মীর পরিবারকে হুমকি ও হামলা, রিকশাচালক লাল মিয়া (২৪) গুরুতর আহত

  • আপডেট সময়: ১২:০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:গতকাল বুধবার বেলা আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের সময় মানিকগঞ্জ জেলা শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়াজানী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মানবাধিকারকর্মী (যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা) মোঃ হাসনাত আল হাবিবের (৩৩) পারিবারিক বাড়িতে হামলা, পরিবারের সদস্যদের হুমকি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী রিকশাচালক লাল মিয়া (২৪) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত হামলায় মোঃ হাসনাত আল হাবিবের পিতা মোঃ আব্দুল মালেক (৬৯) সহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকার সময় মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব জনি (২৭) ও পৌর যুবদলের সহসভাপতি লাল্টু মিয়ার (৩৮) নেতৃত্বে ২০/২২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মোঃ হাসনাত আল হাবিবের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় হামলাকারীদের উচ্চস্বরে গালাগাল, হুমকি-ধমকি ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের শব্দ শুনে প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাগ্‌বিতণ্ডা, হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ সময় প্রতিবেশী লাল মিয়া (২৪) হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অতঃপর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ছাড়া হামলাকারীদের আক্রমণে ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেক (৬৯) সহ আরও অনেকে আহত হন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাল মিয়া (২৪) মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মোঃ হাসনাত আল হাবিবের পিতা ও ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেক (৬৯) আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, তাঁর ছোট ছেলে মোঃ হাসনাত আল হাবিব ই.আর.আই নামক একটি মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁকে এ বছর সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।

তিনি আরো জানান যে, গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০২৬ ইং, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের সম্মানে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর ছোট ছেলে মোঃ হাসনাত আল হাবিব অংশ নেন। অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাঁর ছেলের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁরা বিষয়টিকে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য করেন।

এরই প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের সময় মাহবুব জনি (২৭) ও লাল্টু মিয়ার (৩৮) নেতৃত্বে ২০/২২ জন সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেকের (৬৯) বাড়িতে এসে গালাগাল, হুমকি-ধমকি, ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এই সন্ত্রাসীদের রুখতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি একপর্যায়ে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।

আমাদের প্রতিনিধি ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেকের (৬৯) প্রতিবেশী অলক কাপালী (৩৭), রায়হান আহমদ (৩১) এবং বকুল মিয়ার (৪১) কাছে জানতে চাইলে, তাঁরা সকলেই ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেকের দেওয়া বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।

প্রতিবেশীরা আরও জানান, বিগত ৫/৬ মাস আগে মাহবুব জনির (২৭) নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেকের (৬৯) বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তবে গতকালের ঘটনায় স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসায় ভাঙচুর বা লুটপাটের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং পূর্বের মতো অগ্নিসংযোগ বা বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা বকুল মিয়া (৪১) বলেন, তিনি ও ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেক (৬৯) থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি।

প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী, এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিউটি অফিসার বলেন, “ভাই, বুঝেনই তো, সরকারি দল বিএনপির লোকজন হামলা করছে, মামলা নিলে তো আমাদের চাকরি থাকবে না। এছাড়াও উনার ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।”

হামলার বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব জনি (২৭) এবং মানিকগঞ্জ পৌর যুবদলের সহসভাপতি লাল্টু মিয়ার (৩৮) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, উভয়ের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

মানিকগঞ্জে ছাত্রদল-যুবদল কর্তৃক মানবাধিকারকর্মীর পরিবারকে হুমকি ও হামলা, রিকশাচালক লাল মিয়া (২৪) গুরুতর আহত

আপডেট সময়: ১২:০৪:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:গতকাল বুধবার বেলা আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের সময় মানিকগঞ্জ জেলা শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়াজানী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত মানবাধিকারকর্মী (যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা) মোঃ হাসনাত আল হাবিবের (৩৩) পারিবারিক বাড়িতে হামলা, পরিবারের সদস্যদের হুমকি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী রিকশাচালক লাল মিয়া (২৪) মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত হামলায় মোঃ হাসনাত আল হাবিবের পিতা মোঃ আব্দুল মালেক (৬৯) সহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

গতকাল বুধবার আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকার সময় মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব জনি (২৭) ও পৌর যুবদলের সহসভাপতি লাল্টু মিয়ার (৩৮) নেতৃত্বে ২০/২২ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মোঃ হাসনাত আল হাবিবের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় হামলাকারীদের উচ্চস্বরে গালাগাল, হুমকি-ধমকি ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের শব্দ শুনে প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাগ্‌বিতণ্ডা, হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ সময় প্রতিবেশী লাল মিয়া (২৪) হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অতঃপর স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ছাড়া হামলাকারীদের আক্রমণে ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেক (৬৯) সহ আরও অনেকে আহত হন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, লাল মিয়া (২৪) মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মোঃ হাসনাত আল হাবিবের পিতা ও ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেক (৬৯) আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, তাঁর ছোট ছেলে মোঃ হাসনাত আল হাবিব ই.আর.আই নামক একটি মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁকে এ বছর সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন।

তিনি আরো জানান যে, গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার ২০২৬ ইং, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের সম্মানে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁর ছোট ছেলে মোঃ হাসনাত আল হাবিব অংশ নেন। অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাঁর ছেলের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁরা বিষয়টিকে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে গণ্য করেন।

এরই প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বুধবার দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটের সময় মাহবুব জনি (২৭) ও লাল্টু মিয়ার (৩৮) নেতৃত্বে ২০/২২ জন সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেকের (৬৯) বাড়িতে এসে গালাগাল, হুমকি-ধমকি, ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এই সন্ত্রাসীদের রুখতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি একপর্যায়ে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।

আমাদের প্রতিনিধি ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেকের (৬৯) প্রতিবেশী অলক কাপালী (৩৭), রায়হান আহমদ (৩১) এবং বকুল মিয়ার (৪১) কাছে জানতে চাইলে, তাঁরা সকলেই ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেকের দেওয়া বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।

প্রতিবেশীরা আরও জানান, বিগত ৫/৬ মাস আগে মাহবুব জনির (২৭) নেতৃত্বে ১৫/১৬ জন সন্ত্রাসী ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেকের (৬৯) বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তবে গতকালের ঘটনায় স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসায় ভাঙচুর বা লুটপাটের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং পূর্বের মতো অগ্নিসংযোগ বা বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা বকুল মিয়া (৪১) বলেন, তিনি ও ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মালেক (৬৯) থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করেনি।

প্রদত্ত বিবরণ অনুযায়ী, এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিউটি অফিসার বলেন, “ভাই, বুঝেনই তো, সরকারি দল বিএনপির লোকজন হামলা করছে, মামলা নিলে তো আমাদের চাকরি থাকবে না। এছাড়াও উনার ছেলের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।”

হামলার বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব জনি (২৭) এবং মানিকগঞ্জ পৌর যুবদলের সহসভাপতি লাল্টু মিয়ার (৩৮) সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, উভয়ের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।