ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি: রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড

  • আপডেট সময়: ০৬:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
  • ২৪০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকার (পশ্চিম) সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুজ্জামান মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার তেবাড়ীয়া গ্রামের মো. আব্দুস সামাদের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় মনিরুজ্জামান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামি মনিরুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদের ঠিকানা ব্যবহার করেন। প্রতারণামূলকভাবে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণে দেশের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার প্রদত্ত স্বীকৃতি, কোটা ও সুবিধা ভোগ করেছেন। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে অপব্যবহার তথা অপমান করেছেন। আসামির এহেন অপকর্মের কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়, স্বীকৃতি ও সুবিধাদি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ফলে আসামি কোনো অনুকল্প পেতে পারে না।

রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেন, দেশের অন্যদের জন্যও এই রায় বার্তা হিসেবে কাজ করবে। আসামি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান না হয়েও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র সৃষ্টি ও তা ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় চাকরি নিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর তফসিলভুক্ত অপরাধ পেনাল কোডের ৪২০/৪৬৮ ও ৪৭১ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামির অপরাধের প্রকৃত ও ফলাফল বিবেচনায় তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান যুক্তিযুক্ত মনে করি।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকার (পশ্চিম) সাবেক রজস্ব কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে পেনাল কোডের তিন ধারায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে তিন ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।

২০১৪ সালের ১১ মে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে চাকরি পান আসামি মনিরুজ্জামান। এ সংক্রান্ত অভিযোগ দুদকের কাছে এলে ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। দুদকের উপ-পরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০১৬ সালে মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল হয়। ওই বছরই আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি: রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড

আপডেট সময়: ০৬:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকার (পশ্চিম) সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আজ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুজ্জামান মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার তেবাড়ীয়া গ্রামের মো. আব্দুস সামাদের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় মনিরুজ্জামান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামি মনিরুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদের ঠিকানা ব্যবহার করেন। প্রতারণামূলকভাবে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণে দেশের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার প্রদত্ত স্বীকৃতি, কোটা ও সুবিধা ভোগ করেছেন। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে অপব্যবহার তথা অপমান করেছেন। আসামির এহেন অপকর্মের কারণে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়, স্বীকৃতি ও সুবিধাদি হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। ফলে আসামি কোনো অনুকল্প পেতে পারে না।

রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেন, দেশের অন্যদের জন্যও এই রায় বার্তা হিসেবে কাজ করবে। আসামি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান না হয়েও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র সৃষ্টি ও তা ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় চাকরি নিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর তফসিলভুক্ত অপরাধ পেনাল কোডের ৪২০/৪৬৮ ও ৪৭১ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামির অপরাধের প্রকৃত ও ফলাফল বিবেচনায় তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান যুক্তিযুক্ত মনে করি।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকার (পশ্চিম) সাবেক রজস্ব কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে পেনাল কোডের তিন ধারায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে তিন ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বিধায় তাকে সাত বছর কারাভোগ করতে হবে।

২০১৪ সালের ১১ মে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে চাকরি পান আসামি মনিরুজ্জামান। এ সংক্রান্ত অভিযোগ দুদকের কাছে এলে ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। দুদকের উপ-পরিচালক এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০১৬ সালে মামলাটিতে চার্জশিট দাখিল হয়। ওই বছরই আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত।