লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোলে পণ্য পরিবহনের ট্রাকভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন রুটে ট্রাকভাড়া ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন আমদানি-রপ্তানিকারক ও পরিবহন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বন্দর এলাকায় ট্রাক সংকট তৈরি হওয়ায় পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেনাপোল স্থলবন্দরের বড় আঁচড়া এলাকায় দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলো অপেক্ষমাণ রয়েছে। ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ট্রাকের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল থেকে ঢাকায় আগে পণ্য পরিবহনে যে ভাড়া নেওয়া হতো, বর্তমানে তার চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও টঙ্গীসহ বিভিন্ন রুটেও ভাড়া বেড়েছে।
পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু জ্বালানির দাম নয়—টায়ার, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে আগের চুক্তিবদ্ধ ভাড়ায় পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে অনেক পরিবহন মালিককে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পর কয়েক দিনে আমদানি-রপ্তানির পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা কমেছে। ২১ সেপ্টেম্বর আমদানি করা ট্রাকের সংখ্যা ছিল ২৪৬টি এবং রপ্তানি ১১টি; ২২ সেপ্টেম্বর আমদানি ১১৫টি ও রপ্তানি ৮০টি ট্রাকের তথ্য পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পরিবহন ব্যয় বাড়তে থাকলে আমদানি করা পণ্যের বাজারমূল্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্পের কাঁচামাল ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের বিষয়টি দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যে আরও চাপ তৈরি হতে পারে।
























