ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিক্ষোভের মুখে সংসদ ভবন ছাড়লেন মোদি

  • আপডেট সময়: ১১:২৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • ৬০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ভারতের রাজধানী দিল্লি বিক্ষোভে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা সংসদ অভিযান ঘিরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে সংসদ ভবন থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে সকাল থেকেই সংসদ চত্বরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। তবে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সেই নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সংসদের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।

এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে। কনট প্লেস, শাস্ত্রীয় ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে দেখা যায়। বিশেষ করে রেল ভবনের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলার পর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসদের দক্ষিণ দিকের প্রধান যানবাহন প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। পাশাপাশি জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবাতীর্থ—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়, ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদ চত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোর নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। তারা আরও জানায়, এই কর্মসূচির জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং এলাকায় ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, তারা আগে থেকেই কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন। প্রশাসন জোরপূর্বক কর্মসূচি দমনের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তাদের। পাশাপাশি বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

বিক্ষোভের মুখে সংসদ ভবন ছাড়লেন মোদি

আপডেট সময়: ১১:২৯:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ভারতের রাজধানী দিল্লি বিক্ষোভে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা সংসদ অভিযান ঘিরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উত্তেজনার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে কড়া নিরাপত্তা বলয়ে সংসদ ভবন থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালে সকাল থেকেই সংসদ চত্বরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। তবে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সেই নিরাপত্তা বলয় ভেঙে সংসদের মূল ফটকের সামনে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন।

এরপর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে। কনট প্লেস, শাস্ত্রীয় ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে দেখা যায়। বিশেষ করে রেল ভবনের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলার পর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসদের দক্ষিণ দিকের প্রধান যানবাহন প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। পাশাপাশি জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবাতীর্থ—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়, ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদ চত্বর ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলোর নিরাপত্তায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। তারা আরও জানায়, এই কর্মসূচির জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং এলাকায় ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, তারা আগে থেকেই কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন। প্রশাসন জোরপূর্বক কর্মসূচি দমনের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তাদের। পাশাপাশি বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে সিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দাবি করেছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।