ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেলে বেতন বাড়ছে জুলাইয়ে, টাকা মিলবে অক্টোবরে

  • আপডেট সময়: ০৯:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৯৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোর আওতায় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ অক্টোবর মাসে একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বা ইনসেনটিভ বাতিল করার সিদ্ধান্তও বিবেচনায় রয়েছে। ফলে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির তুলনায় প্রকৃত আয় বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বাজেটে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি, বিধি সংশোধন, হিসাব পুনর্নির্ধারণ এবং সফটওয়্যার সমন্বয়সহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারেন। গত কয়েক বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ওপর। এ কারণে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের তুলনায় তাদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজারই রয়েছেন ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে। ফলে এই বৃহৎ অংশের আয় বৃদ্ধি সরাসরি তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে সরকার একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর না করে তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা প্রথম বছর সম্ভাব্য মোট বৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রায় ৬০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী দুই বছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে।

এদিকে মূল বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে পেনশন, গ্র্যাচুইটি, অবসর সুবিধা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রেও চাকরিজীবীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

নোয়াখালীতে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ কারিগর গ্রেপ্তার

পে-স্কেলে বেতন বাড়ছে জুলাইয়ে, টাকা মিলবে অক্টোবরে

আপডেট সময়: ০৯:৫৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোর আওতায় মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ অক্টোবর মাসে একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ বা ইনসেনটিভ বাতিল করার সিদ্ধান্তও বিবেচনায় রয়েছে। ফলে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির তুলনায় প্রকৃত আয় বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বাজেটে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি, বিধি সংশোধন, হিসাব পুনর্নির্ধারণ এবং সফটওয়্যার সমন্বয়সহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারেন। গত কয়েক বছরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ওপর। এ কারণে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের তুলনায় তাদের বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজারই রয়েছেন ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে। ফলে এই বৃহৎ অংশের আয় বৃদ্ধি সরাসরি তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে সরকার একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর না করে তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে।

খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা প্রথম বছর সম্ভাব্য মোট বৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রায় ৬০ শতাংশ সুবিধা পেতে পারেন। পরবর্তী দুই বছরে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে।

এদিকে মূল বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে পেনশন, গ্র্যাচুইটি, অবসর সুবিধা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রেও চাকরিজীবীরা বাড়তি সুবিধা পাবেন।