ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে বাকশাল নয়, গণতন্ত্র থাকবে: দুদু

  • আপডেট সময়: ০৪:৪২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
  • ১৬৪ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:এই দেশ স্বাধীন হয়েছে বাকশালের জন্য নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য। তাই এই দেশে বাকশাল নয়, গণতন্ত্র থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উ‌দ্দেশ্য করে বলেন, এই অবৈধ সরকার থেকে পদত্যাগ ক‌রে তত্তাবধায়ক সরকা‌র দেন তারপ‌রে আপনি বাকশাল নিয়ে আসেন, আমরা গণতন্ত্র নিয়ে আসি; দেখি কত ধানে কত চাল।

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন উদ্যোগে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকে বাকশালের গুণগান গাওয়া হচ্ছে। এই বাকশালের কারণেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সৃষ্টি হয়েছিল। এই কথা আপনারাও মাঝে মাঝে বলেন কিন্তু আপনি প্রধানমন্ত্রী এটা স্বীকার করেন না।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজ পহেলা সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের গণতন্ত্র , মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, এদেশের কৃষক-শ্রমিক-জনতার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৪১ বছর আগে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার এই কৃতিত্বের জন্য তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় কারাগা‌রে আটক করে রেখেছে। তাকে কারাগারে আটক করে রাখা মানে দেশের গণতন্ত্রকে বন্দি করে রাখা। কিন্তু এই দেশে যদি কোনো সফল ব্যক্তিকে সামনে আনা হয়, সেই ব্যক্তিটি হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার পরেই বেগম খালেদা জিয়া। অথচ অন্যায় ভা‌বে তা‌কে (খা‌লেদা জিয়া ) আটক ক‌রে‌ রে‌খে‌ছে এই অবৈধ সরকার।

শামসুজ্জামান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া‌ হলেন একজন আপোষহীন নেত্রী। তিনি এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আজ দেশে যাই হোক, যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক, তাকে আটকে রাখা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, যদি আপনাদের সুবুদ্ধি থাকে তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন। আর যদি তিনি এমনি বের হয়ে আসেন তারপরে যা কিছু হবে তা আমলে নেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, আপনি বলেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। তাহলে জাসদ যে দাবি করে ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত আপনার পিতার আমলে তাদের ৩০ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোন আমলে কে করেছে? এদেশের বিপ্লবী পার্টি সর্বহারা দলের সভাপতি সিরাজ সিকদারকে কে হত্যা করেছে? প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আমি বলব একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখেন কোন আমলে এদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, কোন আমলে মানুষ মরে রাস্তায় পড়ে থাকত? কোন আমলে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য রক্ষী বাহিনী নামে একটি বিশেষ বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল?

তিনি আরো বলেন, সিনিয়র আইনজীবীরা বলেছেন, আইনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। এদেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। আন্দোলন করে সরকারকে পতন করে দেশে সন্ত্রাস দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজায়গায় দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। তাহলে আমি বিশ্বাস করি বেগম খালেদা জিয়া‌ যে কোনো মুহুর্তে মুক্তি পাবে।

সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার -এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব এডভোকেট আবেদ রেজা, কৃষক দলের সদস্য লায়ন মিয়া, মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির প্রমুখ

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

দেশে বাকশাল নয়, গণতন্ত্র থাকবে: দুদু

আপডেট সময়: ০৪:৪২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:এই দেশ স্বাধীন হয়েছে বাকশালের জন্য নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য। তাই এই দেশে বাকশাল নয়, গণতন্ত্র থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উ‌দ্দেশ্য করে বলেন, এই অবৈধ সরকার থেকে পদত্যাগ ক‌রে তত্তাবধায়ক সরকা‌র দেন তারপ‌রে আপনি বাকশাল নিয়ে আসেন, আমরা গণতন্ত্র নিয়ে আসি; দেখি কত ধানে কত চাল।

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনজীবী আন্দোলন উদ্যোগে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজকে বাকশালের গুণগান গাওয়া হচ্ছে। এই বাকশালের কারণেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সৃষ্টি হয়েছিল। এই কথা আপনারাও মাঝে মাঝে বলেন কিন্তু আপনি প্রধানমন্ত্রী এটা স্বীকার করেন না।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজ পহেলা সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের গণতন্ত্র , মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, এদেশের কৃষক-শ্রমিক-জনতার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ৪১ বছর আগে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার এই কৃতিত্বের জন্য তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় কারাগা‌রে আটক করে রেখেছে। তাকে কারাগারে আটক করে রাখা মানে দেশের গণতন্ত্রকে বন্দি করে রাখা। কিন্তু এই দেশে যদি কোনো সফল ব্যক্তিকে সামনে আনা হয়, সেই ব্যক্তিটি হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার পরেই বেগম খালেদা জিয়া। অথচ অন্যায় ভা‌বে তা‌কে (খা‌লেদা জিয়া ) আটক ক‌রে‌ রে‌খে‌ছে এই অবৈধ সরকার।

শামসুজ্জামান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া‌ হলেন একজন আপোষহীন নেত্রী। তিনি এই দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য। আজ দেশে যাই হোক, যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক, তাকে আটকে রাখা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, যদি আপনাদের সুবুদ্ধি থাকে তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন। আর যদি তিনি এমনি বের হয়ে আসেন তারপরে যা কিছু হবে তা আমলে নেন।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, আপনি বলেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খুনের রাজনীতি শুরু করেছে। তাহলে জাসদ যে দাবি করে ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত আপনার পিতার আমলে তাদের ৩০ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোন আমলে কে করেছে? এদেশের বিপ্লবী পার্টি সর্বহারা দলের সভাপতি সিরাজ সিকদারকে কে হত্যা করেছে? প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আমি বলব একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখেন কোন আমলে এদেশে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, কোন আমলে মানুষ মরে রাস্তায় পড়ে থাকত? কোন আমলে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য রক্ষী বাহিনী নামে একটি বিশেষ বাহিনী তৈরি করা হয়েছিল?

তিনি আরো বলেন, সিনিয়র আইনজীবীরা বলেছেন, আইনের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না। এদেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নাই। আন্দোলন করে সরকারকে পতন করে দেশে সন্ত্রাস দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

এ সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজায়গায় দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। তাহলে আমি বিশ্বাস করি বেগম খালেদা জিয়া‌ যে কোনো মুহুর্তে মুক্তি পাবে।

সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার -এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব এডভোকেট আবেদ রেজা, কৃষক দলের সদস্য লায়ন মিয়া, মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির প্রমুখ