ঢাকা ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুলকে ঘিরে ‘তথ্য সন্ত্রাস!বেনামি অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি,অনুসন্ধানে উঠে এলো প্রকৃত চিত্র.?

  • আপডেট সময়: ১২:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,অনুসন্ধানী প্রতিবেদক,ঢাকা অফিস:ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (চলতি দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ, বেতন গ্রেড ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পায়নি করপোরেশনের গঠিত তদন্ত কমিটি। নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৫ সালের ৮ জুলাই ও ১৬ সেপ্টেম্বরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর দৈনিক কালবেলায় ‘ভুয়া সনদে নগর পরিকল্পনাবিদ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল- স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছাড়াই চাকরি পাওয়া, ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেওয়া, উচ্চতর বেতন গ্রেড গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন।

অভিজ্ঞতার সনদ সঠিক বলে নিশ্চিতকরণ:

তদন্তের অংশ হিসেবে নজরুল ইসলামকে শুনানিতে ডেকে তাঁর মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত শুনানিতে তাঁকে অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত নথি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ, বেতন-ভাতা এবং অতিরিক্ত দায়িত্বসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়।

অভিজ্ঞতার সনদ যাচাই করতে তদন্ত কর্মকর্তা সাভার পৌরসভার প্রশাসক ও সাবেক মেয়র আলহাজ মো. রেফাত উল্লাহর বক্তব্য নেন। তিনি লিখিতভাবে জানান, নজরুল ইসলাম সাভার পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিক সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা তাঁর অভিজ্ঞতার সনদটি সঠিক।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তদন্তের পর্যবেক্ষণ:

নজরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাইয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে ২০০৩ সালের ২৭ অক্টোবরের বাংলাদেশ গেজেটের এসআরও- ৩০১ (আইন/২০০৩)-এর বিধি- ৫ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি আট সেমিস্টারের ব্যাচেলর অব আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (বিইউআরপি) ডিগ্রিকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সমমান হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। তদন্তে তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্রও পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিস্টেম অ্যানালিস্টের দায়িত্ব নিয়ে যা বলছে তদন্ত কমিটি:

অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নজরুল ইসলামকে ডিএসসিসির আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ওই পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেননি; কর্তৃপক্ষ তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছিল। পরে তাঁর নিজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে -২০১৫ সালের -২ সেপ্টেম্বর তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে নজরুলের বক্তব্য:

নিজের লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম জানান, ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল। ২০০৮ সালে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন এবং ২০১১ সালে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাক পান। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার দাবিও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ কমিটি ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর তাঁকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে এবং উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর ২০১২ সালের ৪ জুলাই তিনি নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে যোগ দেন।

নজরুলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকার পর ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর পদোন্নতির আবেদন করার পর তাঁকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মানহানিকর ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, পদোন্নতি বিবেচনার সুপারিশ:

ডিএসসিসির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তার দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন, নজরুল ইসলামের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ এবং ব্যক্তিগত নথি পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগকারীকে শনাক্ত করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ অভিযোগটি নাম-ঠিকানাবিহীন ছিল। এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলো সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।

প্রতিবেদকের মূল্যায়ন:

উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক তারা সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরবে এটাই স্বাভাবিক, আমি ব্যক্তিগত ভাবে সাংবাদিকদেরকে সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান করি, সম্প্রতি কিছু অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনে এসব বেনামী অভিযোগ থেকে আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, প্রকৃত সত্য না জেনে আমার বক্তব্য না নিয়ে কতিপয় সাংবাদিক একতরফাভাবে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে যা রীতিমতো তথ্য সন্ত্রাসের শামিল।
আমি এসব অপপ্রচার ও তথ্য সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুলকে ঘিরে ‘তথ্য সন্ত্রাস!বেনামি অভিযোগের সত্যতা পায়নি তদন্ত কমিটি,অনুসন্ধানে উঠে এলো প্রকৃত চিত্র.?

আপডেট সময়: ১২:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,অনুসন্ধানী প্রতিবেদক,ঢাকা অফিস:ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ (চলতি দায়িত্ব) মো. নজরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ, বেতন গ্রেড ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পায়নি করপোরেশনের গঠিত তদন্ত কমিটি। নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৫ সালের ৮ জুলাই ও ১৬ সেপ্টেম্বরের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর দৈনিক কালবেলায় ‘ভুয়া সনদে নগর পরিকল্পনাবিদ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল- স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছাড়াই চাকরি পাওয়া, ভুয়া অভিজ্ঞতার সনদ জমা দেওয়া, উচ্চতর বেতন গ্রেড গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছাড়াই আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন।

অভিজ্ঞতার সনদ সঠিক বলে নিশ্চিতকরণ:

তদন্তের অংশ হিসেবে নজরুল ইসলামকে শুনানিতে ডেকে তাঁর মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত শুনানিতে তাঁকে অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত নথি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ, বেতন-ভাতা এবং অতিরিক্ত দায়িত্বসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করা হয়।

অভিজ্ঞতার সনদ যাচাই করতে তদন্ত কর্মকর্তা সাভার পৌরসভার প্রশাসক ও সাবেক মেয়র আলহাজ মো. রেফাত উল্লাহর বক্তব্য নেন। তিনি লিখিতভাবে জানান, নজরুল ইসলাম সাভার পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিক সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা তাঁর অভিজ্ঞতার সনদটি সঠিক।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে তদন্তের পর্যবেক্ষণ:

নজরুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাইয়ে তদন্ত প্রতিবেদনে ২০০৩ সালের ২৭ অক্টোবরের বাংলাদেশ গেজেটের এসআরও- ৩০১ (আইন/২০০৩)-এর বিধি- ৫ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি আট সেমিস্টারের ব্যাচেলর অব আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (বিইউআরপি) ডিগ্রিকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সমমান হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। তদন্তে তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্রও পরীক্ষা করা হয়। প্রতিবেদনে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিস্টেম অ্যানালিস্টের দায়িত্ব নিয়ে যা বলছে তদন্ত কমিটি:

অভিযোগে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নজরুল ইসলামকে ডিএসসিসির আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্টের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ওই পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেননি; কর্তৃপক্ষ তাঁকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছিল। পরে তাঁর নিজের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে -২০১৫ সালের -২ সেপ্টেম্বর তাঁকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে নজরুলের বক্তব্য:

নিজের লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম জানান, ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল। ২০০৮ সালে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন এবং ২০১১ সালে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাক পান। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার দাবিও করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ কমিটি ২০১১ সালের ২০ নভেম্বর তাঁকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে এবং উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর ২০১২ সালের ৪ জুলাই তিনি নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে যোগ দেন।

নজরুলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকার পর ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর পদোন্নতির আবেদন করার পর তাঁকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মানহানিকর ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলেনি, পদোন্নতি বিবেচনার সুপারিশ:

ডিএসসিসির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তার দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন, নজরুল ইসলামের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতার সনদ এবং ব্যক্তিগত নথি পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগকারীকে শনাক্ত করে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ অভিযোগটি নাম-ঠিকানাবিহীন ছিল। এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলো সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।

প্রতিবেদকের মূল্যায়ন:

উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও ডিএসসিসির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলামের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক তারা সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরবে এটাই স্বাভাবিক, আমি ব্যক্তিগত ভাবে সাংবাদিকদেরকে সবসময় শ্রদ্ধা ও সম্মান করি, সম্প্রতি কিছু অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রতিবেদনে এসব বেনামী অভিযোগ থেকে আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, প্রকৃত সত্য না জেনে আমার বক্তব্য না নিয়ে কতিপয় সাংবাদিক একতরফাভাবে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে যা রীতিমতো তথ্য সন্ত্রাসের শামিল।
আমি এসব অপপ্রচার ও তথ্য সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি।