ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ, মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা

  • আপডেট সময়: ১০:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:মার্কিন সেনার হাতে এক জাপানি নারী ছিনতাই ও হত্যার শিকার হওয়ার পর জাপানের সর্বদক্ষিণের প্রদেশ ওকিনাওয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। তাদের মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জাপানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৩ অক্টোবর শনিবার ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে আনা ইয়াগি নামে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা করেন এবং তার ওয়ালেট ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওকিনাওয়া মূলত তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। কৌশলগত কারণে ওকিনাওয়ার বিভিন্ন দ্বীপে গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা করা হয়েছে।

এবং এই মোতায়েন নিয়ে অনেক দিন ধরেই উদ্বেগে ভুগছে জাপান। সাম্প্রতিক এ ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছ্

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেছেন, “প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের প্রতিটি মিথস্ক্রিয়া এমন এক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে বা দুর্বল করে দেয়, যা আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। যখন সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন তা আমাদের জোটের শক্তি ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।”

বিবৃতিতে ওয়াটসন আরও জানান, সেনা সদস্যরা যখন আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হবে।

‘বর্বর, জঘন্য’

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত বর্বর ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ব্যালার্ড ওই নারীর ‘গলায় চাপ দিয়েছিলেন’ বলে অভিযোগ রয়েছে এবং এর ফলে শ্বাসরোধ হয়ে ইয়াগির মৃত্যু হয়।

শনিবার ভোরের দিকে হোটেলের কর্মীরা ওই নারীকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পান; নির্ধারিত সময়ে তিনি হোটেল থেকে চেক-আউট না করায় তারা সেখানে গিয়েছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগী নারীর সাথে ওই ব্যক্তিকে (ব্যালার্ড) হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল এবং তাকে খুঁজে বের করার অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছিলেন।

এই অপরাধের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা বুধবার তাকাইচির সাথে সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে এই ঘটনায় নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

ওকিনাওয়ার ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় বিদেশি ঘাঁটি। ডেস্ক: মার্কিন সেনার হাতে এক জাপানি নারী ছিনতাই ও হত্যার শিকার হওয়ার পর জাপানের সর্বদক্ষিণের প্রদেশ ওকিনাওয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। তাদের মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জাপানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৩ অক্টোবর শনিবার ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে আনা ইয়াগি নামে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা করেন এবং তার ওয়ালেট ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওকিনাওয়া মূলত তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। কৌশলগত কারণে ওকিনাওয়ার বিভিন্ন দ্বীপে গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা করা হয়েছে।

এবং এই মোতায়েন নিয়ে অনেক দিন ধরেই উদ্বেগে ভুগছে জাপান। সাম্প্রতিক এ ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছ্

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেছেন, “প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের প্রতিটি মিথস্ক্রিয়া এমন এক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে বা দুর্বল করে দেয়, যা আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। যখন সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন তা আমাদের জোটের শক্তি ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।”

বিবৃতিতে ওয়াটসন আরও জানান, সেনা সদস্যরা যখন আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হবে।

‘বর্বর, জঘন্য’

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত বর্বর ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ব্যালার্ড ওই নারীর ‘গলায় চাপ দিয়েছিলেন’ বলে অভিযোগ রয়েছে এবং এর ফলে শ্বাসরোধ হয়ে ইয়াগির মৃত্যু হয়।

শনিবার ভোরের দিকে হোটেলের কর্মীরা ওই নারীকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পান; নির্ধারিত সময়ে তিনি হোটেল থেকে চেক-আউট না করায় তারা সেখানে গিয়েছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগী নারীর সাথে ওই ব্যক্তিকে (ব্যালার্ড) হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল এবং তাকে খুঁজে বের করার অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছিলেন।

এই অপরাধের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা বুধবার তাকাইচির সাথে সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে এই ঘটনায় নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

ওকিনাওয়ার ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় বিদেশি ঘাঁটি। জাপানে অবস্থানরত ১৮,০০০ মেরিন সেনার অধিকাংশই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন রয়েছে; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সেখানে তাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বারবার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে—মূলত শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের আচরণের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

১৯৯৫ সালে ওকিনাওয়ার এক ১২ বছর বয়সী কিশোরী তিন মার্কিন সেনাসদস্যের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হলে ব্যাপক গণ-বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল।

সূত্র : রয়টার্স, জিও নিউজ অবস্থানরত ১৮,০০০ মেরিন সেনার অধিকাংশই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন রয়েছে; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সেখানে তাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বারবার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে—মূলত শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের আচরণের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

১৯৯৫ সালে ওকিনাওয়ার এক ১২ বছর বয়সী কিশোরী তিন মার্কিন সেনাসদস্যের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হলে ব্যাপক গণ-বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল।

সূত্র : রয়টার্স, জিও নিউজ

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

জাপানে মার্কিন সেনাদের ওপর কারফিউ, মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময়: ১০:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:মার্কিন সেনার হাতে এক জাপানি নারী ছিনতাই ও হত্যার শিকার হওয়ার পর জাপানের সর্বদক্ষিণের প্রদেশ ওকিনাওয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। তাদের মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জাপানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৩ অক্টোবর শনিবার ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে আনা ইয়াগি নামে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা করেন এবং তার ওয়ালেট ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওকিনাওয়া মূলত তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। কৌশলগত কারণে ওকিনাওয়ার বিভিন্ন দ্বীপে গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা করা হয়েছে।

এবং এই মোতায়েন নিয়ে অনেক দিন ধরেই উদ্বেগে ভুগছে জাপান। সাম্প্রতিক এ ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছ্

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেছেন, “প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের প্রতিটি মিথস্ক্রিয়া এমন এক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে বা দুর্বল করে দেয়, যা আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। যখন সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন তা আমাদের জোটের শক্তি ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।”

বিবৃতিতে ওয়াটসন আরও জানান, সেনা সদস্যরা যখন আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হবে।

‘বর্বর, জঘন্য’

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত বর্বর ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ব্যালার্ড ওই নারীর ‘গলায় চাপ দিয়েছিলেন’ বলে অভিযোগ রয়েছে এবং এর ফলে শ্বাসরোধ হয়ে ইয়াগির মৃত্যু হয়।

শনিবার ভোরের দিকে হোটেলের কর্মীরা ওই নারীকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পান; নির্ধারিত সময়ে তিনি হোটেল থেকে চেক-আউট না করায় তারা সেখানে গিয়েছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগী নারীর সাথে ওই ব্যক্তিকে (ব্যালার্ড) হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল এবং তাকে খুঁজে বের করার অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছিলেন।

এই অপরাধের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা বুধবার তাকাইচির সাথে সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে এই ঘটনায় নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

ওকিনাওয়ার ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় বিদেশি ঘাঁটি। ডেস্ক: মার্কিন সেনার হাতে এক জাপানি নারী ছিনতাই ও হত্যার শিকার হওয়ার পর জাপানের সর্বদক্ষিণের প্রদেশ ওকিনাওয়ায় মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। তাদের মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

জাপানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৩ অক্টোবর শনিবার ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ড ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহা শহরের একটি হোটেলে আনা ইয়াগি নামে ৩৯ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা করেন এবং তার ওয়ালেট ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যান। পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ওকিনাওয়া মূলত তাইওয়ান ও চীনের কাছাকাছি অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। কৌশলগত কারণে ওকিনাওয়ার বিভিন্ন দ্বীপে গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করা করা হয়েছে।

এবং এই মোতায়েন নিয়ে অনেক দিন ধরেই উদ্বেগে ভুগছে জাপান। সাম্প্রতিক এ ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছ্

মার্কিন কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেছেন, “প্রতিবেশীদের সাথে আমাদের প্রতিটি মিথস্ক্রিয়া এমন এক আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলে বা দুর্বল করে দেয়, যা আমাদের দলের জন্য অপরিহার্য। যখন সেই আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন তা আমাদের জোটের শক্তি ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে।”

বিবৃতিতে ওয়াটসন আরও জানান, সেনা সদস্যরা যখন আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হবে।

‘বর্বর, জঘন্য’

প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত বর্বর ও জঘন্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশের বরাতে জানা গেছে, ব্যালার্ড ওই নারীর ‘গলায় চাপ দিয়েছিলেন’ বলে অভিযোগ রয়েছে এবং এর ফলে শ্বাসরোধ হয়ে ইয়াগির মৃত্যু হয়।

শনিবার ভোরের দিকে হোটেলের কর্মীরা ওই নারীকে তার কক্ষে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পান; নির্ধারিত সময়ে তিনি হোটেল থেকে চেক-আউট না করায় তারা সেখানে গিয়েছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগী নারীর সাথে ওই ব্যক্তিকে (ব্যালার্ড) হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা গিয়েছিল এবং তাকে খুঁজে বের করার অভিযানে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছিলেন।

এই অপরাধের প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য ওকিনাওয়ার গভর্নর গেন্তা কোজা বুধবার তাকাইচির সাথে সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে এই ঘটনায় নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

ওকিনাওয়ার ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর সবচেয়ে বড় বিদেশি ঘাঁটি। জাপানে অবস্থানরত ১৮,০০০ মেরিন সেনার অধিকাংশই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন রয়েছে; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সেখানে তাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বারবার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে—মূলত শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের আচরণের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

১৯৯৫ সালে ওকিনাওয়ার এক ১২ বছর বয়সী কিশোরী তিন মার্কিন সেনাসদস্যের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হলে ব্যাপক গণ-বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল।

সূত্র : রয়টার্স, জিও নিউজ অবস্থানরত ১৮,০০০ মেরিন সেনার অধিকাংশই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন রয়েছে; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এলাকাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সেখানে তাদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বারবার ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে—মূলত শব্দদূষণ, বিমান দুর্ঘটনা এবং সেনাসদস্যদের আচরণের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

১৯৯৫ সালে ওকিনাওয়ার এক ১২ বছর বয়সী কিশোরী তিন মার্কিন সেনাসদস্যের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হলে ব্যাপক গণ-বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল।

সূত্র : রয়টার্স, জিও নিউজ