ঢাকা ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুমানোর সময়ের ৯টি সুন্নত কাজ

  • আপডেট সময়: ০৮:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৯৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বান্দার প্রতি আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ ঘুম। সারাদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর ঘুমের মাধ্যমে শারীরিক শক্তি ও মানসিক সক্ষমতা ফিরে আসে। মহান আল্লাহ রাত ও ঘুমকে ঠিক এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ফুরকানের ৪৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, ঘুমকে করেছেন ক্লান্তি দূরকারী আর দিনকে করেছেন পুনরুজ্জীবনের সময়।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্রাম বা ঘুম একটি ইবাদত। ইসলামে ঘুমের ৯টি আদব

১. দ্রুত ঘুমানো ও অহেতুক রাত না জাগা

ঘুমের বিষয়ে মহানবীর নির্দেশনার একটি হলো দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাত না জাগা। মহান আল্লাহ রাতকে প্রশান্তির সময় হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সূরা ইউনুসের ৬৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তিনিই তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত জাগা অপছন্দ করতেন। সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি এশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং এশার পর অহেতুক কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। পড়াশোনা, সামাজিক দায়িত্ব বা মেহমানের খেদমতের মতো বিশেষ কারণ ছাড়া অহেতুক রাত জাগলে ফজরের নামাজ কাজা হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং ভোরের বরকত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

২. দরজা বন্ধ করা ও পাত্র ঢেকে রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের বেলা সুরক্ষার জন্য বাস্তবমুখী কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিসমিল্লাহ বলে ঘরের দরজা বন্ধ করতে, পানির পাত্রের মুখ বাঁধতে এবং খাবারের পাত্র ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা বিসমিল্লাহ বলে দরজা বন্ধ করো, কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না।

৩. ঘুমানোর আগে বাতি নেভানো

ঘরের আগুন বা বাতি জ্বলন্ত অবস্থায় রেখে ঘুমাতে বারণ করেছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, এই আগুন তোমাদের শত্রু, তাই যখন তোমরা ঘুমাতে যাবে, তা নিভিয়ে দাও।

বর্তমান যুগে এই নির্দেশনাটি বিপদজনক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হিটার বা অন্যান্য যন্ত্র সাবধানে বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ক্ষতি না করার ইসলামী নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪. ঘুমানোর আগে অজু করা

পবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। হাদিসে এসেছে, যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন সালাতের অজুর মতো অজু করে নেবে।

অজু মানুষের আত্মাকে প্রশান্তি দেয়। রাতে ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়ার পর হাত ভালোভাবে ধৌত করার নির্দেশও দিয়েছেন মহানবী (সা.)।

৫. বিছানা ঝেড়ে নেওয়া

শুয়ে পড়ার আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি সুন্নত। হাদিসে এসেছে, তোমাদের কেউ যখন বিছানায় যাবে, সে যেন তার কাপড়ের ভেতর দিক দিয়ে বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। এরপর বলবে, হে আমার রব, আপনার নামে আমি শয়ন করলাম।

৬. ডান কাত হয়ে শোয়া

ঘুমানোর জন্য মহানবী (সা.) ডান কাত হয়ে শোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারপর তোমার ডান পাশের ওপর ভর দিয়ে শোও।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডান কাত হয়ে শোয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলা হলেও একজন মুসলিম মূলত মহানবীর আদর্শ অনুসরনের জন্যই এই ভঙ্গি গ্রহণ করে থাকেন।

৭. ঘুমানোর বিশেষ দোয়া

দিনের শেষে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.)একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আমার মুখমণ্ডল আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আমার সব কাজ আপনার ওপর ন্যস্ত করলাম এবং আমার পিঠ আপনার দিকে এলিয়ে দিলাম—আপনার প্রতি আশা ও ভয় নিয়ে। আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো রক্ষক নেই। হে আল্লাহ, আমি বিশ্বাস এনেছি আপনার নাজিল করা কিতাবের ওপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর ওপর।

৮. আয়াতুল কুরসি পাঠ

ঘুমানোর সময় আত্মিক সুরক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট কিছু সূরা ও আয়াত পড়ার নসিহত করেছেন:

আয়াতুল কুরসি: আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা রক্ষক হিসেবে থাকেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে পারে না।

শেষ তিন সূরা: রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই হাতের তালু একত্র করে তাতে ফু দিতেন এবং সূরা আল-ইখলাস, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস তেলাওয়াত করে তা তিনবার পুরো শরীরে বুলাতেন।

সূরা বাকারা-র শেষ দুই আয়াত: মহানবী (সা.) বলেছেন, রাতে এই দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে তা একজন মানুষের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট।

৯. অনিদ্রা বা ঘুম না আসলে করণীয়

ঘুম না আসা বা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ইসলামে দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাতে ঘুম ভেঙে গেলে আল্লাহর জিকির করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। এর মাধ্যমে রাতের বিছানায় শুয়ে থাকা সময়টুকুও সওয়াব অর্জনের বিশেষ সুযোগে পরিণত হয়।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

ঘুমানোর সময়ের ৯টি সুন্নত কাজ

আপডেট সময়: ০৮:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বান্দার প্রতি আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ ঘুম। সারাদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর ঘুমের মাধ্যমে শারীরিক শক্তি ও মানসিক সক্ষমতা ফিরে আসে। মহান আল্লাহ রাত ও ঘুমকে ঠিক এই উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ফুরকানের ৪৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে করেছেন আবরণ, ঘুমকে করেছেন ক্লান্তি দূরকারী আর দিনকে করেছেন পুনরুজ্জীবনের সময়।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্রাম বা ঘুম একটি ইবাদত। ইসলামে ঘুমের ৯টি আদব

১. দ্রুত ঘুমানো ও অহেতুক রাত না জাগা

ঘুমের বিষয়ে মহানবীর নির্দেশনার একটি হলো দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাত না জাগা। মহান আল্লাহ রাতকে প্রশান্তির সময় হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সূরা ইউনুসের ৬৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তিনিই তোমাদের জন্য রাত বানিয়েছেন যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পারো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত জাগা অপছন্দ করতেন। সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি এশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং এশার পর অহেতুক কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। পড়াশোনা, সামাজিক দায়িত্ব বা মেহমানের খেদমতের মতো বিশেষ কারণ ছাড়া অহেতুক রাত জাগলে ফজরের নামাজ কাজা হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং ভোরের বরকত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

২. দরজা বন্ধ করা ও পাত্র ঢেকে রাখা

রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতের বেলা সুরক্ষার জন্য বাস্তবমুখী কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বিসমিল্লাহ বলে ঘরের দরজা বন্ধ করতে, পানির পাত্রের মুখ বাঁধতে এবং খাবারের পাত্র ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা বিসমিল্লাহ বলে দরজা বন্ধ করো, কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না।

৩. ঘুমানোর আগে বাতি নেভানো

ঘরের আগুন বা বাতি জ্বলন্ত অবস্থায় রেখে ঘুমাতে বারণ করেছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, এই আগুন তোমাদের শত্রু, তাই যখন তোমরা ঘুমাতে যাবে, তা নিভিয়ে দাও।

বর্তমান যুগে এই নির্দেশনাটি বিপদজনক বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হিটার বা অন্যান্য যন্ত্র সাবধানে বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ক্ষতি না করার ইসলামী নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪. ঘুমানোর আগে অজু করা

পবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। হাদিসে এসেছে, যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন সালাতের অজুর মতো অজু করে নেবে।

অজু মানুষের আত্মাকে প্রশান্তি দেয়। রাতে ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়ার পর হাত ভালোভাবে ধৌত করার নির্দেশও দিয়েছেন মহানবী (সা.)।

৫. বিছানা ঝেড়ে নেওয়া

শুয়ে পড়ার আগে বিছানা ঝেড়ে নেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি সুন্নত। হাদিসে এসেছে, তোমাদের কেউ যখন বিছানায় যাবে, সে যেন তার কাপড়ের ভেতর দিক দিয়ে বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। এরপর বলবে, হে আমার রব, আপনার নামে আমি শয়ন করলাম।

৬. ডান কাত হয়ে শোয়া

ঘুমানোর জন্য মহানবী (সা.) ডান কাত হয়ে শোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারপর তোমার ডান পাশের ওপর ভর দিয়ে শোও।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডান কাত হয়ে শোয়ার বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলা হলেও একজন মুসলিম মূলত মহানবীর আদর্শ অনুসরনের জন্যই এই ভঙ্গি গ্রহণ করে থাকেন।

৭. ঘুমানোর বিশেষ দোয়া

দিনের শেষে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও আত্মসমর্পণের প্রতীক হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা.)একটি বিশেষ দোয়া শিখিয়েছেন।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আমার মুখমণ্ডল আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আমার সব কাজ আপনার ওপর ন্যস্ত করলাম এবং আমার পিঠ আপনার দিকে এলিয়ে দিলাম—আপনার প্রতি আশা ও ভয় নিয়ে। আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো রক্ষক নেই। হে আল্লাহ, আমি বিশ্বাস এনেছি আপনার নাজিল করা কিতাবের ওপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর ওপর।

৮. আয়াতুল কুরসি পাঠ

ঘুমানোর সময় আত্মিক সুরক্ষার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দিষ্ট কিছু সূরা ও আয়াত পড়ার নসিহত করেছেন:

আয়াতুল কুরসি: আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা রক্ষক হিসেবে থাকেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে পারে না।

শেষ তিন সূরা: রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই হাতের তালু একত্র করে তাতে ফু দিতেন এবং সূরা আল-ইখলাস, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস তেলাওয়াত করে তা তিনবার পুরো শরীরে বুলাতেন।

সূরা বাকারা-র শেষ দুই আয়াত: মহানবী (সা.) বলেছেন, রাতে এই দুই আয়াত তেলাওয়াত করলে তা একজন মানুষের সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট।

৯. অনিদ্রা বা ঘুম না আসলে করণীয়

ঘুম না আসা বা মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ইসলামে দিকনির্দেশনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রাতে ঘুম ভেঙে গেলে আল্লাহর জিকির করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। এর মাধ্যমে রাতের বিছানায় শুয়ে থাকা সময়টুকুও সওয়াব অর্জনের বিশেষ সুযোগে পরিণত হয়।