ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে হোটেলে ছিলেন তাজমিন, ফেরার পথে ধর্ষণের পর হত্যা

  • আপডেট সময়: ০৬:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে রাজুর স্ত্রী পরিচয়ে এক রাত কাটিয়েছিলেন কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। হোটেলের নথিতে তার নাম লেখা হয়েছিল তানজু আক্তার এবং বয়স ১৮ বছর। কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে বাস থেকে নেমে সিএনজিতে ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়ার (৩৫) হাতে প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কক্সবাজারের কলাতলীতে একটি আবাসিক হোটেলের নথি ও নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন তাজমিন। সেখানে তাকে রাজুর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। হোটেলের খাতায় রাজুর ঠিকানা বান্দরবানের লামা উল্লেখ করা হয়েছিল। এক রাত থাকার পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছাড়েন।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান ও ছোট ভিডিও বিনিময়ের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, ১৭ দিন আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের। রাজু গত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন।

তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার পেছনে পারিবারিক মনোমালিন্যের তথ্যও উঠে এসেছে। গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর বাসা ছাড়েন তিনি। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারে যাওয়ার পর রাজু তাজমিনের জন্য ৯০০ টাকা দিয়ে বাসের টিকিট কাটেন। কক্সবাজারের একটি পরিবহন কাউন্টারের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর তাজমিন ও রাজু পরদিনের বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের একটি হোটেলের সামনে বাস থেকে নামেন তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সুমন মিয়ার অটোরিকশায় ওঠেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুমন তাকে গন্তব্যে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে একটি ধানখেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো জায়গা থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিলেন। মা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তিনি কোথায় আছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

তাজমিনের গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদ গণমাধ্যমকে জানান, মেয়েটি চঞ্চল স্বভাবের ছিল। রাগারাগি হলে প্রায়ই একা বাসা থেকে বেরিয়ে যেত। তবে মা অসুস্থ থাকলে যমজ দুই ছোট ভাইয়ের যত্ন নিত সে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

কক্সবাজারে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে হোটেলে ছিলেন তাজমিন, ফেরার পথে ধর্ষণের পর হত্যা

আপডেট সময়: ০৬:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে রাজুর স্ত্রী পরিচয়ে এক রাত কাটিয়েছিলেন কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)। হোটেলের নথিতে তার নাম লেখা হয়েছিল তানজু আক্তার এবং বয়স ১৮ বছর। কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ারবাজারে বাস থেকে নেমে সিএনজিতে ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়ার (৩৫) হাতে প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কক্সবাজারের কলাতলীতে একটি আবাসিক হোটেলের নথি ও নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন তাজমিন। সেখানে তাকে রাজুর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। হোটেলের খাতায় রাজুর ঠিকানা বান্দরবানের লামা উল্লেখ করা হয়েছিল। এক রাত থাকার পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছাড়েন।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান ও ছোট ভিডিও বিনিময়ের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, ১৭ দিন আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের। রাজু গত তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন।

তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার পেছনে পারিবারিক মনোমালিন্যের তথ্যও উঠে এসেছে। গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর বাসা ছাড়েন তিনি। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠান বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারে যাওয়ার পর রাজু তাজমিনের জন্য ৯০০ টাকা দিয়ে বাসের টিকিট কাটেন। কক্সবাজারের একটি পরিবহন কাউন্টারের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, ৬ অক্টোবর রাত ৮টার পর তাজমিন ও রাজু পরদিনের বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা ক্যামেরার দৃশ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের একটি হোটেলের সামনে বাস থেকে নামেন তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সুমন মিয়ার অটোরিকশায় ওঠেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুমন তাকে গন্তব্যে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় তাকে।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে একটি ধানখেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো জায়গা থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তাজমিনের মা কেয়া খাতুন গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিলেন। মা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তিনি কোথায় আছেন, তা স্পষ্ট করেননি।

তাজমিনের গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদ গণমাধ্যমকে জানান, মেয়েটি চঞ্চল স্বভাবের ছিল। রাগারাগি হলে প্রায়ই একা বাসা থেকে বেরিয়ে যেত। তবে মা অসুস্থ থাকলে যমজ দুই ছোট ভাইয়ের যত্ন নিত সে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।