ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওষুধেই সংকুচিত হবে ছড়িয়ে পড়া টিউমার

  • আপডেট সময়: ১০:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৯
  • ১৪০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওষুধেই সংকুচিত হবে ছড়িয়ে পড়া টিউমার। পরীক্ষামূলকভাবে এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা বিজ্ঞানী জুডি কানন ও তার সহকর্মীরা। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মাল্টিন্যাশনাল বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যামজেনের অধীনে দীর্ঘ গবেষণা চালিয়ে তারা ওষুধটি আবিস্কার করেছেন। তারা বলছেন, ওই ওষুধ জি১২সি ক্যান্সার কোষকে বাধাগ্রস্ত এবং ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে। জি১২সি মিউটেশন ১৩ শতাংশ ফুসফুস ক্যান্সার, ৩ শতাংশ কলোরেক্টাল ক্যান্সার এবং ২ শতাংশ অন্যান্য টিউমার কোষে দেখা যায়।

গবেষকরা বলছেন, ওষুধটির নাম দেওয়া হয়েছে এএমজি ৫১০। তাদের আবিস্কৃত ওষুধটি সেইসব টিউমারকে সংকুচিত করবে, যে টিউমারগুলো জেনেটিক মিউটেশনের কারণে হয়ে থাকে এবং এগুলো বিভিন্ন রকম ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এ ওষুধ ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে আনবে।

জুডি কানন বলেন, মানবদেহে হওয়া প্রতি চার ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে একটিতে তাদের কেআরএএস জিনে মিউটেশন থাকে। এর জন্য দায়ী একটি প্রোটিন যা কোষের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে। মিউটেশন এ ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক কোষকে এমনভাবে বৃদ্ধি করে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।

কানন ও তার সহকর্মীরা একটি বিশাল অগ্রগতি ঘটান, যখন তারা জি১২সি মিউটেশন আক্রান্ত কেআরএএস প্রোটিনের গায়ে একটি পথ দেখতে পান। ইঁদুরের ক্ষেত্রে তারা এ নিয়ে একটি পরীক্ষা চালান। যখন তারা এএমজি ৫১০ নামে ওষুধটি তাতে প্রয়োগ করেন তখন দেখতে পান, ইঁদুরের ১০ ভাগের ৮ ভাগ ক্যান্সার তাতে দূর হয়েছে। এরপর চিকিৎসকরা চারজন মানুষের দেহে ওই ওষুধ প্রয়োগ করেন, যারা ফুসফুসের কারসিনোমা ক্যান্সারে আক্রান্ত। ছয় সপ্তাহের মাথায় দেখা যায়, ১৮০ মিলিগ্রাম ডোজের ওষুধে এক ব্যক্তির ফুসফুসের ক্যান্সার ৩৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যিনি ৩৬০ মিলিগ্রামের ডোজ নিয়েছেন, তার ক্যান্সার কোষ সংকুচিত হয়েছে ৬৭ শতাংশ। তবে ১৮০ মিলিগ্রাম ডোজ নেওয়া অন্য দু’জনের দেহের ক্যান্সারে কোনো হ্রাস কিংবা বৃদ্ধি কিছুই ঘটেনি।

জুডি কানন ও তার দল আরও দেখেন, এ ওষুধ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করেছে।

গবেষকদের মতে, এএমজি ৫১০ ওষুধ ও তার পরীক্ষামূলক ব্যবহার প্রমাণ করে, ক্যান্সার কোষের সংকোচন ও ছড়িয় পড়া রোধে এ ওষুধের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এটি থেরাপির সঙ্গে আরও বেশি কাজ করবে বলে তাদের আশা।

এ ওষুধের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিনডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষক সিমন কন বলেন, পরীক্ষামূলক এ ওষুধটির আবিস্কার ক্যান্সার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সূত্র :সায়েন্সটাইমস

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

ওষুধেই সংকুচিত হবে ছড়িয়ে পড়া টিউমার

আপডেট সময়: ১০:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওষুধেই সংকুচিত হবে ছড়িয়ে পড়া টিউমার। পরীক্ষামূলকভাবে এমন ওষুধ তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা বিজ্ঞানী জুডি কানন ও তার সহকর্মীরা। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক মাল্টিন্যাশনাল বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যামজেনের অধীনে দীর্ঘ গবেষণা চালিয়ে তারা ওষুধটি আবিস্কার করেছেন। তারা বলছেন, ওই ওষুধ জি১২সি ক্যান্সার কোষকে বাধাগ্রস্ত এবং ছড়িয়ে পড়া রোধ করবে। জি১২সি মিউটেশন ১৩ শতাংশ ফুসফুস ক্যান্সার, ৩ শতাংশ কলোরেক্টাল ক্যান্সার এবং ২ শতাংশ অন্যান্য টিউমার কোষে দেখা যায়।

গবেষকরা বলছেন, ওষুধটির নাম দেওয়া হয়েছে এএমজি ৫১০। তাদের আবিস্কৃত ওষুধটি সেইসব টিউমারকে সংকুচিত করবে, যে টিউমারগুলো জেনেটিক মিউটেশনের কারণে হয়ে থাকে এবং এগুলো বিভিন্ন রকম ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এ ওষুধ ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে আনবে।

জুডি কানন বলেন, মানবদেহে হওয়া প্রতি চার ধরনের ক্যান্সারের মধ্যে একটিতে তাদের কেআরএএস জিনে মিউটেশন থাকে। এর জন্য দায়ী একটি প্রোটিন যা কোষের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণ করে। মিউটেশন এ ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক কোষকে এমনভাবে বৃদ্ধি করে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ক্যান্সার সৃষ্টি হয়।

কানন ও তার সহকর্মীরা একটি বিশাল অগ্রগতি ঘটান, যখন তারা জি১২সি মিউটেশন আক্রান্ত কেআরএএস প্রোটিনের গায়ে একটি পথ দেখতে পান। ইঁদুরের ক্ষেত্রে তারা এ নিয়ে একটি পরীক্ষা চালান। যখন তারা এএমজি ৫১০ নামে ওষুধটি তাতে প্রয়োগ করেন তখন দেখতে পান, ইঁদুরের ১০ ভাগের ৮ ভাগ ক্যান্সার তাতে দূর হয়েছে। এরপর চিকিৎসকরা চারজন মানুষের দেহে ওই ওষুধ প্রয়োগ করেন, যারা ফুসফুসের কারসিনোমা ক্যান্সারে আক্রান্ত। ছয় সপ্তাহের মাথায় দেখা যায়, ১৮০ মিলিগ্রাম ডোজের ওষুধে এক ব্যক্তির ফুসফুসের ক্যান্সার ৩৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যিনি ৩৬০ মিলিগ্রামের ডোজ নিয়েছেন, তার ক্যান্সার কোষ সংকুচিত হয়েছে ৬৭ শতাংশ। তবে ১৮০ মিলিগ্রাম ডোজ নেওয়া অন্য দু’জনের দেহের ক্যান্সারে কোনো হ্রাস কিংবা বৃদ্ধি কিছুই ঘটেনি।

জুডি কানন ও তার দল আরও দেখেন, এ ওষুধ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করেছে।

গবেষকদের মতে, এএমজি ৫১০ ওষুধ ও তার পরীক্ষামূলক ব্যবহার প্রমাণ করে, ক্যান্সার কোষের সংকোচন ও ছড়িয় পড়া রোধে এ ওষুধের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এটি থেরাপির সঙ্গে আরও বেশি কাজ করবে বলে তাদের আশা।

এ ওষুধের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিনডার্স ইউনিভার্সিটির গবেষক সিমন কন বলেন, পরীক্ষামূলক এ ওষুধটির আবিস্কার ক্যান্সার চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। সূত্র :সায়েন্সটাইমস