ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট

  • আপডেট সময়: ১১:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯
  • ২০৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে ঋণখেলাপিদের দুই শতাংশ সুদ জমা দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্নিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার সম্পূরক এ রুল জারি করেন। আগামী ৩১ জুলাই এ বিষয়ে ফের শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে। আদালতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী মুনিরুজ্জামান। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ ছাড়া ব্যাংক মালিকদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে পারে। আইন অনুযায়ী কোনো ব্যবসায়ীকে ঋণ দেবে, কোন শর্তে দেবে সবকিছুই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে থাকে। এ কারণে রিট আবেদনটি চলতে পারে না। তখন হাইকোর্ট বলেন, এগুলো রুলের শুনানিতে নিষ্পত্তি হবে। তা ছাড়া ব্যাংক যখন কলাপস (অকার্যকর) করে, তখন জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে জন্য ঋণখেলাপিদের বিষয়ে হাইকোর্টের করণীয় রয়েছে। আমরা সেটাই দেখছি। পরে হাইকোর্ট রুল জারি করে ৩১ জুলাই ফের শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ মে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ গত ২০ বছরে ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের তালিকা এবং ওই সময়ে ব্যাংকিং খাতে কী পরিমাণ অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে তা নির্ণয়ে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে ২৪ জুনের মধ্যে ঋণখেলাপিদের তালিকাও আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্টের ওই আদেশ বাস্তবায়নের আগেই ১৬ মে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। প্রথম এক বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। ওই সার্কুলারের কারণে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরাও এখন থেকে ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলাপিরা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করলে নিয়মিত গ্রাহকদের চেয়েও খেলাপি গ্রাহকদের কম সুদ দিতে হবে। চিহ্নিত এই ঋণখেলাপিদের গুনতে হবে ৯ শতাংশেরও কম সুদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মে হাইকোর্টে ওই সার্কুলারটি যুক্ত করে সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারী মনজিল মোরসেদ। পরে ওই আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সার্কুলারের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের তালিকাও দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যার ধারাবাহিকতায় পরে ঋণখেলাপিদের তালিকা হাইকোর্টে জমা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এরপর থেকে রিট আবেদনটি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয় আপিল বিভাগেও আবেদন করে। ওই আবেদনে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এ বেঞ্চকে রুল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট

আপডেট সময়: ১১:৫৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে ঋণখেলাপিদের দুই শতাংশ সুদ জমা দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপন কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্নিষ্ট বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার সম্পূরক এ রুল জারি করেন। আগামী ৩১ জুলাই এ বিষয়ে ফের শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসবে। আদালতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী মুনিরুজ্জামান। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। এ ছাড়া ব্যাংক মালিকদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে পারে। আইন অনুযায়ী কোনো ব্যবসায়ীকে ঋণ দেবে, কোন শর্তে দেবে সবকিছুই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে থাকে। এ কারণে রিট আবেদনটি চলতে পারে না। তখন হাইকোর্ট বলেন, এগুলো রুলের শুনানিতে নিষ্পত্তি হবে। তা ছাড়া ব্যাংক যখন কলাপস (অকার্যকর) করে, তখন জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে জন্য ঋণখেলাপিদের বিষয়ে হাইকোর্টের করণীয় রয়েছে। আমরা সেটাই দেখছি। পরে হাইকোর্ট রুল জারি করে ৩১ জুলাই ফের শুনানির দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ মে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ গত ২০ বছরে ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের তালিকা এবং ওই সময়ে ব্যাংকিং খাতে কী পরিমাণ অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে তা নির্ণয়ে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন। সেইসঙ্গে ২৪ জুনের মধ্যে ঋণখেলাপিদের তালিকাও আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্টের ওই আদেশ বাস্তবায়নের আগেই ১৬ মে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। প্রথম এক বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। ওই সার্কুলারের কারণে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরাও এখন থেকে ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলাপিরা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করলে নিয়মিত গ্রাহকদের চেয়েও খেলাপি গ্রাহকদের কম সুদ দিতে হবে। চিহ্নিত এই ঋণখেলাপিদের গুনতে হবে ৯ শতাংশেরও কম সুদ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ মে হাইকোর্টে ওই সার্কুলারটি যুক্ত করে সম্পূরক আবেদন করেন রিটকারী মনজিল মোরসেদ। পরে ওই আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সার্কুলারের ওপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঋণখেলাপিদের তালিকাও দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যার ধারাবাহিকতায় পরে ঋণখেলাপিদের তালিকা হাইকোর্টে জমা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

এরপর থেকে রিট আবেদনটি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয় আপিল বিভাগেও আবেদন করে। ওই আবেদনে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের এ বেঞ্চকে রুল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেন।