লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের কোতোয়ালি থানায় দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের পর স্থানীয়ভাবে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও অভিযোগকারী তরুণী তার পাওনা অর্থ ও অন্যান্য বিষয়ে প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক ভূমিকা এবং পরবর্তীতে অভিযোগটির অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযোগকারী চৈতি রাণী দাস তার স্বামী ইমন কুমার দাস ও স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কোতোয়ালি থানায় লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগে বিয়ের সময় নগদ অর্থ ও বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতন ও অর্থসংক্রান্ত বিরোধের কথাও বলা হয়েছে।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগটি থানায় দেওয়ার পর তৎকালীন দেওড়া বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই শরীফুল বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব পান। তিনি অভিযোগকারী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে থানায়/নির্ধারিত স্থানে ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় উভয় পক্ষের লোকজন ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই সমঝোতার ভিত্তিতে ৭২ হাজার টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয় এবং চার মাসের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত চার মাসের সময় অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও ওই অর্থ পরিশোধ বা সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলে তিনি দাবি করছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে—পুলিশের উপস্থিতিতে বা পুলিশের তত্ত্বাবধানে কোনো সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকলে, সেটি বাস্তবায়িত না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী ছিল? অভিযোগটি কি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি দেখানো হয়েছে, নাকি এখনো পুলিশের নথিতে এটি অমীমাংসিত?
বাংলাদেশ পুলিশের নিজস্ব সেবা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু ও তদন্ত আইনানুযায়ী করার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সমাধান দিতে ব্যর্থ হলে অভিযোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বা GRS-এর মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। �
Bangladesh Police +1
পুলিশের তদন্ত নির্দেশিকাতেও অভিযোগকারী ও সাক্ষীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে। �
Bangladesh Police
ভুক্তভোগীর সামনে এখন কী পথ?
চৈতি রাণী দাসের অভিযোগ সত্য হলে, শুধু একটি স্থানীয় সমঝোতার উদ্যোগের ওপর বিষয়টি আটকে থাকার কথা নয়—সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, অভিযোগটি আইনগতভাবে কী অবস্থায় আছে এবং ভুক্তভোগী বর্তমানে কী ধরনের প্রতিকার চাইছেন, তা পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
এ কারণে অনুসন্ধানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে—
অভিযোগটি থানার কোন রেজিস্টারে/নথিতে রয়েছে?
এসআই শরীফুল কীভাবে অভিযোগটি নিষ্পত্তি করেছিলেন?
৭২ হাজার টাকার সমঝোতার কোনো লিখিত কাগজ আছে কি?
চার মাসের সময়সীমা কে নির্ধারণ করেছিলেন?
সময় শেষ হওয়ার পর অভিযোগকারী পুলিশের কাছে আবার যোগাযোগ করেছিলেন কি না?
করলে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
অভিযোগটি বর্তমানে থানার নথিতে নিষ্পত্তি, তদন্তাধীন নাকি অমীমাংসিত হিসেবে আছে?
বিবাদীপক্ষ নির্ধারিত অর্থ না দিলে অভিযোগকারীকে আইনগত প্রতিকারের বিষয়ে পুলিশ কী পরামর্শ দিয়েছে?
























