ঢাকা ১২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইল থানায় রুমিন ফারহানা ও ওসির বাগ্‌বিতণ্ডা, পুলিশের জিডি

  • আপডেট সময়: ০৯:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থানায় যাওয়া নেতা-কর্মী ও অন্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। থানার ওসির কক্ষে তাঁর সঙ্গে মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিভিন্ন বিষয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময়ের কথোপকথনের একাধিক ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতেই সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সেদিন থানায় যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকদের দাবি, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন একাধিকবার ফোন করেও ওসির সাড়া পাননি। এমনকি নিরাপত্তা চেয়েও সংসদ সদস্য প্রত্যাশিত সাড়া পাননি বলে দাবি করেন তাঁরা।

রুমিন ফারহানা জানান, ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন। অভিযোগগুলোর একটি তালিকাও তাঁর কাছে ছিল। তবে আলোচনার সময় ওসি এসব অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে একদিকে পুলিশের জিডি ও থানায় উপস্থিত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কার্যক্রম, অন্যদিকে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে সরাইলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ জানা গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সরাইল থানায় রুমিন ফারহানা ও ওসির বাগ্‌বিতণ্ডা, পুলিশের জিডি

আপডেট সময়: ০৯:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থানায় যাওয়া নেতা-কর্মী ও অন্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরাইল থানায় যান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। থানার ওসির কক্ষে তাঁর সঙ্গে মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিভিন্ন বিষয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময়ের কথোপকথনের একাধিক ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতেই সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সেদিন থানায় যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকদের দাবি, কয়েক দিন ধরে সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসির দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন একাধিকবার ফোন করেও ওসির সাড়া পাননি। এমনকি নিরাপত্তা চেয়েও সংসদ সদস্য প্রত্যাশিত সাড়া পাননি বলে দাবি করেন তাঁরা।

রুমিন ফারহানা জানান, ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন। অভিযোগগুলোর একটি তালিকাও তাঁর কাছে ছিল। তবে আলোচনার সময় ওসি এসব অভিযোগের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুমিন ফারহানার ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে একদিকে পুলিশের জিডি ও থানায় উপস্থিত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরির কার্যক্রম, অন্যদিকে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে সরাইলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রতিনিধির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ জানা গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।