ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক আলিফের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ডেপুটি স্পিকার

  • আপডেট সময়: ০৩:২৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নিহত সাংবাদিকের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও পরিবারের সবার জন্য বস্ত্র তুলে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের আয়ের উৎস নিশ্চিত করতে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নিহত সাংবাদিকের পরিবারের কাছে এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা ও পরিবারের সদস্যদের আহাজারি থামছে না। তাদের প্রতিটি আর্তনাদ যেন এখন বিচারের অপেক্ষায়। পরিবারের একমাত্র দাবি, সাংবাদিক আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রুপসী বাংলা (আইপি) টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০)। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই শিশু সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মহব্বত আলী ফকির। তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি সাবেক সেনা সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন।

স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা বলেন, ‘আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই। যারা আমার দুই বাচ্চাকে এতিম করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করা হোক। যাতে আর কোনো সন্ত্রাসী কাউকে এভাবে হত্যা করতে না পারে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভুঁইয়া বলেন, নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেইসঙ্গে কোনো অবস্থাতেই যেন দোষীরা পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দলীয়ভাবে আমরা সবাই এই পরিবারের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার, বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী এম এ জিন্নাহ, অধ্যক্ষ শহীদ খান, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক মজিবুর মাস্টারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মৃত্যুতে দুর্গাপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ দাবিতে মানববন্ধন শুরু হয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সাংবাদিক আলিফের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ডেপুটি স্পিকার

আপডেট সময়: ০৩:২৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নিহত সাংবাদিকের পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও পরিবারের সবার জন্য বস্ত্র তুলে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের আয়ের উৎস নিশ্চিত করতে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকালে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নিহত সাংবাদিকের পরিবারের কাছে এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা ও পরিবারের সদস্যদের আহাজারি থামছে না। তাদের প্রতিটি আর্তনাদ যেন এখন বিচারের অপেক্ষায়। পরিবারের একমাত্র দাবি, সাংবাদিক আলিফ ফকিরের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন রুপসী বাংলা (আইপি) টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০)। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই শিশু সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মহব্বত আলী ফকির। তিনি দুর্গাপুর পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি সাবেক সেনা সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতেন।

স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা বলেন, ‘আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই। যারা আমার দুই বাচ্চাকে এতিম করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে ফাঁসি কার্যকর করা হোক। যাতে আর কোনো সন্ত্রাসী কাউকে এভাবে হত্যা করতে না পারে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভুঁইয়া বলেন, নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সেইসঙ্গে কোনো অবস্থাতেই যেন দোষীরা পার পেয়ে না যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দলীয়ভাবে আমরা সবাই এই পরিবারের পাশে থাকব ইনশাআল্লাহ।

এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার, বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী এম এ জিন্নাহ, অধ্যক্ষ শহীদ খান, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক মজিবুর মাস্টারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মৃত্যুতে দুর্গাপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ দাবিতে মানববন্ধন শুরু হয়েছে।