ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণানুষ্ঠান শুরু আজ

  • আপডেট সময়: ০৩:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’-মানবতাবাদী সাধক ফকির লালন শাহের এই চিরন্তন বাণীকে ধারণ করে শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। বাউলসম্রাটের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ আয়োজন করা হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে চলবে নানা অনুষ্ঠান।

২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বছর থেকেই জাতীয় পর্যায়ে লালন উৎসব উদযাপন শুরু হয়।

এদিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় মরমি সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

লালনের মানবতাবাদী দর্শন, জাত-ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা এবং বাংলার লোকসংস্কৃতিতে তার অবদান স্মরণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, বাউল-সাধক, ভক্ত, গবেষক ও দর্শনার্থীরা কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হবেন। নিজস্ব রীতি ও আচার অনুসরণ করে লালনভক্তরা সাধনা, গান ও স্মরণপর্বে অংশ নেবেন। পাশাপাশি থাকবে আনুষ্ঠানিক আয়োজন।

আজ সন্ধ্যায় ছেঁউড়িয়ার লালন একাডেমি চত্বরে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন এ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান।

১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লালন শাহ। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হন ভক্ত ও বাউল-সাধকরা। একতারা, দোতারা ও খমকের সুরে পরিবেশিত হয় তার গান। গানের আসর ঘিরে শিল্পী ও শ্রোতাদের মধ্যে গড়ে ওঠে ভাবের আদান-প্রদান। লোকসংগীত, আধ্যাত্মিক সাধনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই মিলনমেলা নতুন প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন পৌঁছে দেওয়ারও উপলক্ষ।

লালন শাহ বাংলার লোকদর্শন, মানবতাবাদ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক অনন্য নাম। তিনি শুধু বাউল গানের রচয়িতা নন; তার গানে উঠে এসেছে মানুষের পরিচয়, আত্মার স্বরূপ, দেহতত্ত্ব এবং জাত-ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে সত্য অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা। সমাজের প্রচলিত বিভেদ ও সংকীর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তার গান মানুষকে নিজের ভেতরেও অনুসন্ধান চালাতে উদ্বুদ্ধ করে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণানুষ্ঠান শুরু আজ

আপডেট সময়: ০৩:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’-মানবতাবাদী সাধক ফকির লালন শাহের এই চিরন্তন বাণীকে ধারণ করে শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। বাউলসম্রাটের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ আয়োজন করা হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে চলবে নানা অনুষ্ঠান।

২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই বছর থেকেই জাতীয় পর্যায়ে লালন উৎসব উদযাপন শুরু হয়।

এদিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় মরমি সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

লালনের মানবতাবাদী দর্শন, জাত-ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা এবং বাংলার লোকসংস্কৃতিতে তার অবদান স্মরণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, বাউল-সাধক, ভক্ত, গবেষক ও দর্শনার্থীরা কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হবেন। নিজস্ব রীতি ও আচার অনুসরণ করে লালনভক্তরা সাধনা, গান ও স্মরণপর্বে অংশ নেবেন। পাশাপাশি থাকবে আনুষ্ঠানিক আয়োজন।

আজ সন্ধ্যায় ছেঁউড়িয়ার লালন একাডেমি চত্বরে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন এ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান।

১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লালন শাহ। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হন ভক্ত ও বাউল-সাধকরা। একতারা, দোতারা ও খমকের সুরে পরিবেশিত হয় তার গান। গানের আসর ঘিরে শিল্পী ও শ্রোতাদের মধ্যে গড়ে ওঠে ভাবের আদান-প্রদান। লোকসংগীত, আধ্যাত্মিক সাধনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই মিলনমেলা নতুন প্রজন্মের কাছে লালনের জীবনদর্শন পৌঁছে দেওয়ারও উপলক্ষ।

লালন শাহ বাংলার লোকদর্শন, মানবতাবাদ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক অনন্য নাম। তিনি শুধু বাউল গানের রচয়িতা নন; তার গানে উঠে এসেছে মানুষের পরিচয়, আত্মার স্বরূপ, দেহতত্ত্ব এবং জাত-ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে সত্য অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা। সমাজের প্রচলিত বিভেদ ও সংকীর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তার গান মানুষকে নিজের ভেতরেও অনুসন্ধান চালাতে উদ্বুদ্ধ করে।