ঢাকা ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নড়াইলে মানবপাচারকারী মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে, প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা!

  • আপডেট সময়: ০৬:২৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৪ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,নড়াইল অফিস:সম্প্রতি সাংবাদিকদের অক্লান্ত অনুসন্ধানে মাদারীপুরের ১৪ বছরের ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে নড়াইলে এনে বিভিন্ন নথিপত্র জাল করে পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে পাচারের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এঘটনায় কন্যা হারা পিতা পাচারকারী ভারতীয় নাগরিক আবির সহ নড়াইলের ৭জনের নামে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইবুনাল নড়াইল আদালতে মামলা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটির তদন্তের জন্য নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রাসেল সরোয়ারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্ত গত ১৬ সেপ্টেম্বর হতে এই সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত একজনও আসামি আটক হয়নি। অথচ আসামি ৮ জনের মধ্যে ৭জন নড়াইলের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ৭জনের মধ্যে ৩জন রাষ্ট্র নিযুক্ত কর্মচারী। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীরা কিছুদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে বা অন্তরালে থাকলেও বর্তমানে তাদের নিজ এলাকায় এবং কর্মরত প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের প্রকাশ্যে চলাফেরায় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এখনও নিখোঁজ সমাপ্তী বাড়ৈ ও ১নং আসামি ভারতীয় নাগরিক আবিরকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দাতা নড়াইলের দেবভোগ গ্রামের সুব্রত রায় ও স্কুল সনদ জালকারী শিক্ষিকা মিঠু রাণী ভদ্রকে এলাকায় এতবড় অপরাধ করেও প্রকাশ্যে থাকাকে মেনে নিতে পারছেনা সচেতন মহল ও মানব পাচারকারী চক্রের রহস্য উন্মোচনকারী সাংবাদিকেরা।

মামলার বাদী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার চৌরাশী গ্রামের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সমাপ্তী বাড়ৈ(১৪) এর পিতা কালু বাড়ৈ এখনও পর্যন্ত মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে অসহায় পিতাকে সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগিতাকারী ৪ সাংবাদিক সাজ্জাদ আলম খান সজল, সুমন চক্রবর্তী, স্বপন কুমার দাস ও রিপন বিশ্বাস মন্তব্য করেছেন- ওয়ারেন্টভুক্ত মানব পাচারকারীরা কিছু দিন লুকিয়ে থেকে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে এবং আটক হচ্ছে না। বর্তমান সমাজে নড়াইল সদর থানা পুলিশের এহেন কার্যক্রম সত্যি দুঃখজনক ও সন্দেহজনক।

আমরা সার্বক্ষণিক ভাবে নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পেতে অসহায় পিতা কালু বাড়ৈকে সহযোগিতা করেছি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছি। কিন্তু নড়াইল সদর থানা পুলিশের বর্থ্যতার স্পষ্ট ছাপ ফুটে উঠেছে। বিজ্ঞ আদালতের কাছে অতিদ্রুত আসামি আটকের জন্য প্রশাসনের সেক্টর পরিবর্তনের আবেদন করব।
আসামি আটকের জন্য আদালত হতে নির্দেশিত নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রাসেল সরোয়ার সংবাদকর্মীকে বলেন, রাজৈর থানার মামলা আপনারা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। তদন্ত চলছে আসামি আটকের চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য যে, মাদারীপুরের সমাপ্তী বাড়ৈ তার পরিবারের কাছে দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস যাবৎ নিখোঁজ আছে। অনেক খোঁজাখুজির পর একপর্যায়ে কোন হদিস না পেয়ে সমাপ্তী বাড়ৈর পিতা কালু বাড়ৈ প্রথমে রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং পাচারকারী চক্রের হাতে সমাপ্তী বাড়ৈ জিম্মি আছেন উল্লেখ করে একটি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইবুনাল নড়াইল আদালতে মামলা দায়ের করেন। যেহেতু আসামিরা নড়াইল জেলার এবং প্রকাশ্যে রয়েছে, সেহেতু থানা পুলিশের দায় এড়ানো মন্তব্য থেকে বেরিয়ে এসে আসামিদের দ্রুত আটক করে, তাদের থেকে তথ্য বের করে অসহায় পিতাকে তার ১৪ বছরের মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা।

 

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

নড়াইলে মানবপাচারকারী মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে, প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা!

আপডেট সময়: ০৬:২৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,নড়াইল অফিস:সম্প্রতি সাংবাদিকদের অক্লান্ত অনুসন্ধানে মাদারীপুরের ১৪ বছরের ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে নড়াইলে এনে বিভিন্ন নথিপত্র জাল করে পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে পাচারের রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এঘটনায় কন্যা হারা পিতা পাচারকারী ভারতীয় নাগরিক আবির সহ নড়াইলের ৭জনের নামে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইবুনাল নড়াইল আদালতে মামলা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটির তদন্তের জন্য নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রাসেল সরোয়ারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

কিন্ত গত ১৬ সেপ্টেম্বর হতে এই সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত একজনও আসামি আটক হয়নি। অথচ আসামি ৮ জনের মধ্যে ৭জন নড়াইলের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ৭জনের মধ্যে ৩জন রাষ্ট্র নিযুক্ত কর্মচারী। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামীরা কিছুদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে বা অন্তরালে থাকলেও বর্তমানে তাদের নিজ এলাকায় এবং কর্মরত প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের প্রকাশ্যে চলাফেরায় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এখনও নিখোঁজ সমাপ্তী বাড়ৈ ও ১নং আসামি ভারতীয় নাগরিক আবিরকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দাতা নড়াইলের দেবভোগ গ্রামের সুব্রত রায় ও স্কুল সনদ জালকারী শিক্ষিকা মিঠু রাণী ভদ্রকে এলাকায় এতবড় অপরাধ করেও প্রকাশ্যে থাকাকে মেনে নিতে পারছেনা সচেতন মহল ও মানব পাচারকারী চক্রের রহস্য উন্মোচনকারী সাংবাদিকেরা।

মামলার বাদী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার চৌরাশী গ্রামের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সমাপ্তী বাড়ৈ(১৪) এর পিতা কালু বাড়ৈ এখনও পর্যন্ত মেয়ের কোন সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে অসহায় পিতাকে সম্পূর্ণ ভাবে সহযোগিতাকারী ৪ সাংবাদিক সাজ্জাদ আলম খান সজল, সুমন চক্রবর্তী, স্বপন কুমার দাস ও রিপন বিশ্বাস মন্তব্য করেছেন- ওয়ারেন্টভুক্ত মানব পাচারকারীরা কিছু দিন লুকিয়ে থেকে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে এবং আটক হচ্ছে না। বর্তমান সমাজে নড়াইল সদর থানা পুলিশের এহেন কার্যক্রম সত্যি দুঃখজনক ও সন্দেহজনক।

আমরা সার্বক্ষণিক ভাবে নিখোঁজ মেয়েকে ফিরে পেতে অসহায় পিতা কালু বাড়ৈকে সহযোগিতা করেছি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছি। কিন্তু নড়াইল সদর থানা পুলিশের বর্থ্যতার স্পষ্ট ছাপ ফুটে উঠেছে। বিজ্ঞ আদালতের কাছে অতিদ্রুত আসামি আটকের জন্য প্রশাসনের সেক্টর পরিবর্তনের আবেদন করব।
আসামি আটকের জন্য আদালত হতে নির্দেশিত নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রাসেল সরোয়ার সংবাদকর্মীকে বলেন, রাজৈর থানার মামলা আপনারা আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। তদন্ত চলছে আসামি আটকের চেষ্টা করছি।

উল্লেখ্য যে, মাদারীপুরের সমাপ্তী বাড়ৈ তার পরিবারের কাছে দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস যাবৎ নিখোঁজ আছে। অনেক খোঁজাখুজির পর একপর্যায়ে কোন হদিস না পেয়ে সমাপ্তী বাড়ৈর পিতা কালু বাড়ৈ প্রথমে রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং পাচারকারী চক্রের হাতে সমাপ্তী বাড়ৈ জিম্মি আছেন উল্লেখ করে একটি অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইবুনাল নড়াইল আদালতে মামলা দায়ের করেন। যেহেতু আসামিরা নড়াইল জেলার এবং প্রকাশ্যে রয়েছে, সেহেতু থানা পুলিশের দায় এড়ানো মন্তব্য থেকে বেরিয়ে এসে আসামিদের দ্রুত আটক করে, তাদের থেকে তথ্য বের করে অসহায় পিতাকে তার ১৪ বছরের মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছেন সাংবাদিকেরা।