লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:শিল্প সম্ভাবনার দিক থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি যশোর। ভৌগোলিক অবস্থান, সড়ক যোগাযোগ ও সীমান্তবর্তী বাণিজ্যের কারণে এ জেলায় নতুন শিল্প গড়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নতুন শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
যশোর বিসিক শিল্পনগরীতে বর্তমানে অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিল্প প্লটের সংকট। নতুন উদ্যোক্তারা শিল্প স্থাপনের আগ্রহ দেখালেও প্রয়োজনীয় জায়গার অভাবে অনেকেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি শিল্প এলাকার রাস্তা, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা, নিরাপত্তা ও পানি সরবরাহসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সমস্যাও শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোরে শিল্পের পরিধি বাড়াতে দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তব রূপ পায়নি। ফলে বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরীর ওপর বাড়ছে চাপ। পুরোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য জায়গার চাহিদা তৈরি হলেও সে অনুযায়ী শিল্প প্লট বাড়েনি।
বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও জায়গা নেই
স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, যশোরে কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, প্যাকেজিং, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু শিল্প স্থাপনের জন্য উপযুক্ত জায়গার সংকট থাকায় অনেক উদ্যোক্তা অন্যত্র বিনিয়োগের কথা ভাবছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে শুধু মালিক নয়—এর সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা হলে স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ে, পরিবহন, শ্রম, সরবরাহ ও সেবা খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে শিল্প প্লটের সংকটের বিষয়টি শুধু উদ্যোক্তাদের সমস্যা নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
অবকাঠামোগত দুর্বলতাও বড় বাধা
শিল্পাঞ্চলে নিয়মিত ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকলে বৃষ্টির পানি ও জলাবদ্ধতা উৎপাদন কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। একইভাবে রাস্তার অবস্থা, নিরাপত্তা, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সুবিধা শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে।
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলের অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা না হলে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে। বিশেষ করে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগের আগে যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, পানি, নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন খরচসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করেন।
দ্বিতীয় শিল্পনগরী এখন সময়ের দাবি
যশোরের শিল্প খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শুধু বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরীর ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। দ্রুত দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য শিল্প প্লটের ব্যবস্থা করা জরুরি।
তাদের দাবি, দ্বিতীয় শিল্পনগরী বাস্তবায়িত হলে যশোরে দেশীয় ও স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এতে জেলার অর্থনীতি আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পথও সহজ হবে।
প্রশ্ন এখন বাস্তবায়ন নিয়ে
দ্বিতীয় শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার করবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
যশোরে শিল্পের সম্ভাবনা আছে, উদ্যোক্তাও আছে; এখন প্রয়োজন শুধু সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর মতো জায়গা ও অবকাঠামো। দ্বিতীয় শিল্পনগরী বাস্তবায়ন হলে যশোরের শিল্প খাতে নতুন গতি আসবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।





















