ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যশোরে বৈদ্যুতিক তার চুরি: রানা’র ৬ মাসের জেল, তুহিনের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা—নেপথ্যে কি বড় চক্র?

  • আপডেট সময়: ০৯:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৭১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং আদালতের সাজাকে ঘিরে চোরাই তারের সম্ভাব্য বড় চক্রের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় সজীব ওরফে রানা (২২)-কে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং শাহিন হাসান তুহিন (৩৮)-কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের প্রবেশন শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ২ কেজি তামার তার
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন শেখহাটি-বাবলাতলা পুকুরপাড় সেতু টেইলার্সের সামনের এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষে অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। নথিতে তার বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশের অনুসন্ধানে ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে সজীব ওরফে রানাকে শনাক্ত করার কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চুরি করা বৈদ্যুতিক তারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে পুলিশের অভিযানে প্রায় ২ কেজি বৈদ্যুতিক তামার তার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত তারের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার টাকা বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তুহিনকে ধরতে পুলিশের অভিযান
নথিতে বলা হয়েছে, চুরি করা তারের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তুহিনের নামও সামনে আসে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তী অভিযানে তাকে আটক করে চোরাই বৈদ্যুতিক তারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আদালতে দুইজনের ভিন্ন সাজা
ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রানা’র ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং তুহিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের প্রবেশন শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—মাত্র ২ কেজি তামার তার উদ্ধারের এই ঘটনাটি কি বিচ্ছিন্ন কোনো চুরি, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো চোরাই তারের নেটওয়ার্ক?

উপশহরের আগের ঘটনাও তদন্তে
নথিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোরে যশোর শহরের উপশহর এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার চুরির একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চুরি করা তার কোথায় বিক্রি করা হয়, কারা এসব তার সংগ্রহ করে এবং তামা আলাদা করে বিক্রির সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা জরুরি।

পুলিশের ভূমিকা
এই ঘটনায় এসআই মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের অভিযান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভিডিও ফুটেজ যাচাই, স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং শেষ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক তামার তার উদ্ধারের ক্ষেত্রে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার কথা নথিতে উঠে এসেছে। তবে একই সঙ্গে তদন্তের পরবর্তী ধাপে চোরাই তারের সম্ভাব্য ক্রেতা, সরবরাহকারী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শনাক্ত করা গেলে এ ধরনের চুরি বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

দৈনিক লোকসমাচারের অনুসন্ধান
রানা ও তুহিনের সাজা এই মামলার একটি বিচারিক পরিণতি। কিন্তু অনুসন্ধানের বড় প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে—চুরি করা বৈদ্যুতিক তারের পেছনে আর কেউ আছে কি না? যশোর শহর ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ, একই ধরনের মামলার নথি এবং চোরাই তামার সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।

লোক সমাচারের অনুসন্ধান কালে,স্বনামধন্য যশোর পুলিশের ক সার্কেল এএসপি আহসান হাবীব জানান, গত ৩ দিন পূর্বে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদ্যোগে বিস্তার চুরি রোধে  যশোরের ভাংড়ি ব্যবসায়ীদের থানায় ডেকে সতর্কতা করা হয় যে চুরি জাতীয় দ্রব্য আপনাদের নিকট কেউ বিক্রি করতে আসলে সাথে সাথে পুলিশকে সংবাদ দিতে হবে ,কিন্তু গতকাল পুলিশের অভিযানে চোর এবং ভাংরি ব্যবসায়ী ধরা পড়লে পুলিশের সতর্কতার কোন মূল্যায়ন পরিলক্ষিত হয়নি। পুলিশের এ কর্মকর্তা লোক সমাচারকে জানিয়েছেন চুরি যাওয়া মাল এবং চোরের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দৈনিক লোকসমাচারের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যশোরে বৈদ্যুতিক তার চুরি: রানা’র ৬ মাসের জেল, তুহিনের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা—নেপথ্যে কি বড় চক্র?

আপডেট সময়: ০৯:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং আদালতের সাজাকে ঘিরে চোরাই তারের সম্ভাব্য বড় চক্রের বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় সজীব ওরফে রানা (২২)-কে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং শাহিন হাসান তুহিন (৩৮)-কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের প্রবেশন শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ২ কেজি তামার তার
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, যশোর কোতোয়ালি মডেল থানাধীন শেখহাটি-বাবলাতলা পুকুরপাড় সেতু টেইলার্সের সামনের এলাকায় বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষে অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। নথিতে তার বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন।

পুলিশের অনুসন্ধানে ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে সজীব ওরফে রানাকে শনাক্ত করার কথা নথিতে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চুরি করা বৈদ্যুতিক তারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে পুলিশের অভিযানে প্রায় ২ কেজি বৈদ্যুতিক তামার তার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত তারের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার টাকা বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তুহিনকে ধরতে পুলিশের অভিযান
নথিতে বলা হয়েছে, চুরি করা তারের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তুহিনের নামও সামনে আসে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তী অভিযানে তাকে আটক করে চোরাই বৈদ্যুতিক তারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আদালতে দুইজনের ভিন্ন সাজা
ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রানা’র ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং তুহিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের প্রবেশন শর্ত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—মাত্র ২ কেজি তামার তার উদ্ধারের এই ঘটনাটি কি বিচ্ছিন্ন কোনো চুরি, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো চোরাই তারের নেটওয়ার্ক?

উপশহরের আগের ঘটনাও তদন্তে
নথিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভোরে যশোর শহরের উপশহর এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে তার চুরির একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চুরি করা তার কোথায় বিক্রি করা হয়, কারা এসব তার সংগ্রহ করে এবং তামা আলাদা করে বিক্রির সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা জরুরি।

পুলিশের ভূমিকা
এই ঘটনায় এসআই মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের অভিযান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভিডিও ফুটেজ যাচাই, স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং শেষ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক তামার তার উদ্ধারের ক্ষেত্রে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতার কথা নথিতে উঠে এসেছে। তবে একই সঙ্গে তদন্তের পরবর্তী ধাপে চোরাই তারের সম্ভাব্য ক্রেতা, সরবরাহকারী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের শনাক্ত করা গেলে এ ধরনের চুরি বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

দৈনিক লোকসমাচারের অনুসন্ধান
রানা ও তুহিনের সাজা এই মামলার একটি বিচারিক পরিণতি। কিন্তু অনুসন্ধানের বড় প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে—চুরি করা বৈদ্যুতিক তারের পেছনে আর কেউ আছে কি না? যশোর শহর ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ, একই ধরনের মামলার নথি এবং চোরাই তামার সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।

লোক সমাচারের অনুসন্ধান কালে,স্বনামধন্য যশোর পুলিশের ক সার্কেল এএসপি আহসান হাবীব জানান, গত ৩ দিন পূর্বে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদ্যোগে বিস্তার চুরি রোধে  যশোরের ভাংড়ি ব্যবসায়ীদের থানায় ডেকে সতর্কতা করা হয় যে চুরি জাতীয় দ্রব্য আপনাদের নিকট কেউ বিক্রি করতে আসলে সাথে সাথে পুলিশকে সংবাদ দিতে হবে ,কিন্তু গতকাল পুলিশের অভিযানে চোর এবং ভাংরি ব্যবসায়ী ধরা পড়লে পুলিশের সতর্কতার কোন মূল্যায়ন পরিলক্ষিত হয়নি। পুলিশের এ কর্মকর্তা লোক সমাচারকে জানিয়েছেন চুরি যাওয়া মাল এবং চোরের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দৈনিক লোকসমাচারের অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।