ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাওনা টাকার বিরোধে আদালতের পরিবর্তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এসপির কাছে আবেদন করেও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত চান আলী জিন্নাহ

  • আপডেট সময়: ০৭:৩১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার, নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে কথিত পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে এবার আদালতের মাধ্যমে আইনগত সমাধানের পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন মোঃ আলী জিন্নাহ। তাঁর দাবি, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের শুরুতে তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টির একটি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একই বিষয়ে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি পুনরায় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তাঁর অভিযোগ, এরপরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

আলী জিন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো বিরোধের সূত্রপাত তাঁর খালাতো বোনের স্বামী বিল্লালের সঙ্গে ব্যবসায়ী কামাল ফারাজির কথিত পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তিনি বিল্লালের পাশে দাঁড়ান এবং তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিল্লালের দায়ের বিষয়ে জামিনদার হিসেবে নিজের চেক ও স্ট্যাম্প দেন। তবে আলী জিন্নাহ স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কারও পাওনা অস্বীকার করছেন না। তাঁর বক্তব্য, যদি কামাল ফারাজির কোনো বৈধ পাওনা থেকে থাকে, তাহলে তিনি আইনগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তাঁর পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা করতে পারেন।

‘জামিনদার হয়েছিলাম পারিবারিক দায়িত্ব থেকে’
আলী জিন্নাহ বলেন, বিল্লাল তাঁর আত্মীয় হওয়ায় এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি বিষয়টিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, বিল্লালের কাছ থেকে পাওয়া কিস্তি/দায় পরিশোধের বিষয়ে তিনি কামাল ফারাজির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজের চেক ও স্ট্যাম্প জামিনদার হিসেবে দেন।

তাঁর প্রশ্ন, সেই জামিনের সুযোগ নিয়ে যদি পরবর্তীতে তাঁর ওপর ব্যক্তিগতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি না করে কেন বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হবে?
প্রথম দফায় এসপির কাছে অভিযোগের পর সমাধানের উদ্যোগ ।

আলী জিন্নাহর দাবি, বিরোধের প্রথম পর্যায়ে কামাল ফারাজির পক্ষ থেকে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীতে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু হয়।
বিএনপি নেতা আনসারুল হক রানার কাছে যাওয়ার অভিযোগ।
আলী জিন্নাহর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে কামাল ফারাজি জেলা বিএনপির নেতা আনসারুল হক রানার কাছে যান। এরপর রানা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পূর্বে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন।
তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আনসারুল হক রানা, কামাল ফারাজি এবং যাঁদের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ বা হুমকির অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
পুনরায় এসপির কাছে অভিযোগ, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি।

আলী জিন্নাহ বলেন, পরিস্থিতি আবারও গুরুতর হয়ে উঠলে তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে পুনরায় লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগে তিনি তাঁর ওপর কথিত চাপ, হুমকি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এরপরও দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আলী জিন্নাহ বলেন, “আমি আইনকে সম্মান করি। আমার খালুর বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। একইভাবে কামাল ফারাজির যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত দাবি থাকে, তিনিও আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমি তা আইন অনুযায়ী মেনে নেব।”
‘আইনের বাইরে কোনো চাপ চাই না’
আলী জিন্নাহর বক্তব্য, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি আদালত বা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর অভিযোগ, আদালতে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে সেটি তাঁকে হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলছে।
তিনি বলেন, “কামাল ফারাজির যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো বৈধ দাবি থাকে, তিনি আদালতে যান। আমি আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেব। কিন্তু আদালতের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হোক—এটা আমি চাই না।”
তদন্তে যেসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন
এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে কয়েকটি বিষয় নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত হতে পারে—
১. কামাল ফারাজির প্রকৃত পাওনা কত এবং তার পক্ষে কী কী নথি রয়েছে।
২. ২২ লাখ টাকা থেকে পরবর্তীতে ১৪ লাখ টাকার হিসাব কীভাবে নির্ধারিত হয়েছিল।সর্বশেষ সাড়ে আট লাখ টাকায় মিটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কিভাবে নিয়েছিলেন কামাল ফরাজি নিজেই।
৩. আলী জিন্নাহর চেক ও স্ট্যাম্প কোন শর্তে নেওয়া হয়েছিল।
৪. আলী জিন্নাহর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত দাবি করা হয়েছে কি না।
৫. প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
৬. সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা লিখিত নথি তৈরি করেছিলেন কি না।
৭. আনসারুল হক রানা বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে আলী জিন্নাহর ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা কী।
৮. কথিত হত্যার হুমকির কোনো কল রেকর্ড, অডিও, সাক্ষী বা অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে কি না।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
আলী জিন্নাহ বলেন, তিনি কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধ বাড়াতে চান না। তাঁর দাবি একটাই—বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তিনি বলেন, “আমি কারও পাওনা আত্মসাৎ করতে চাই না। আবার কোনো পাওনা থাকলে আদালতের মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি হোক। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে আইনগত দাবি থাকলে আদালতে মামলা করা হোক। কিন্তু আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে আমাকে চাপ দেওয়া বা ভয় দেখানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।” এ বিষয়ে কামাল ফারাজি, আনসারুল হক রানার মোবাইলে কল করা হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জিডি/অভিযোগ, চেক-স্ট্যাম্প, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

পাওনা টাকার বিরোধে আদালতের পরিবর্তে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এসপির কাছে আবেদন করেও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত চান আলী জিন্নাহ

আপডেট সময়: ০৭:৩১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার, নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে কথিত পাওনা টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে এবার আদালতের মাধ্যমে আইনগত সমাধানের পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন মোঃ আলী জিন্নাহ। তাঁর দাবি, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের শুরুতে তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করলে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টির একটি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে একই বিষয়ে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি পুনরায় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তাঁর অভিযোগ, এরপরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন।

আলী জিন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো বিরোধের সূত্রপাত তাঁর খালাতো বোনের স্বামী বিল্লালের সঙ্গে ব্যবসায়ী কামাল ফারাজির কথিত পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তিনি বিল্লালের পাশে দাঁড়ান এবং তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিল্লালের দায়ের বিষয়ে জামিনদার হিসেবে নিজের চেক ও স্ট্যাম্প দেন। তবে আলী জিন্নাহ স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কারও পাওনা অস্বীকার করছেন না। তাঁর বক্তব্য, যদি কামাল ফারাজির কোনো বৈধ পাওনা থেকে থাকে, তাহলে তিনি আইনগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হয়ে তাঁর পাওনা আদায়ের ব্যবস্থা করতে পারেন।

‘জামিনদার হয়েছিলাম পারিবারিক দায়িত্ব থেকে’
আলী জিন্নাহ বলেন, বিল্লাল তাঁর আত্মীয় হওয়ায় এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি বিষয়টিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, বিল্লালের কাছ থেকে পাওয়া কিস্তি/দায় পরিশোধের বিষয়ে তিনি কামাল ফারাজির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজের চেক ও স্ট্যাম্প জামিনদার হিসেবে দেন।

তাঁর প্রশ্ন, সেই জামিনের সুযোগ নিয়ে যদি পরবর্তীতে তাঁর ওপর ব্যক্তিগতভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি না করে কেন বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হবে?
প্রথম দফায় এসপির কাছে অভিযোগের পর সমাধানের উদ্যোগ ।

আলী জিন্নাহর দাবি, বিরোধের প্রথম পর্যায়ে কামাল ফারাজির পক্ষ থেকে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন। পরে একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পরবর্তীতে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু হয়।
বিএনপি নেতা আনসারুল হক রানার কাছে যাওয়ার অভিযোগ।
আলী জিন্নাহর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে কামাল ফারাজি জেলা বিএনপির নেতা আনসারুল হক রানার কাছে যান। এরপর রানা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি পূর্বে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন।
তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। আনসারুল হক রানা, কামাল ফারাজি এবং যাঁদের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ বা হুমকির অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্যও তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
পুনরায় এসপির কাছে অভিযোগ, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবি।

আলী জিন্নাহ বলেন, পরিস্থিতি আবারও গুরুতর হয়ে উঠলে তিনি যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে পুনরায় লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, অভিযোগে তিনি তাঁর ওপর কথিত চাপ, হুমকি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এরপরও দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আলী জিন্নাহ বলেন, “আমি আইনকে সম্মান করি। আমার খালুর বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। একইভাবে কামাল ফারাজির যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত দাবি থাকে, তিনিও আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমি তা আইন অনুযায়ী মেনে নেব।”
‘আইনের বাইরে কোনো চাপ চাই না’
আলী জিন্নাহর বক্তব্য, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ থাকলে সেটি আদালত বা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর অভিযোগ, আদালতে মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে সেটি তাঁকে হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলছে।
তিনি বলেন, “কামাল ফারাজির যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো বৈধ দাবি থাকে, তিনি আদালতে যান। আমি আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেব। কিন্তু আদালতের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মাধ্যমে আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হোক—এটা আমি চাই না।”
তদন্তে যেসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন
এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে কয়েকটি বিষয় নথিপত্রের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত হতে পারে—
১. কামাল ফারাজির প্রকৃত পাওনা কত এবং তার পক্ষে কী কী নথি রয়েছে।
২. ২২ লাখ টাকা থেকে পরবর্তীতে ১৪ লাখ টাকার হিসাব কীভাবে নির্ধারিত হয়েছিল।সর্বশেষ সাড়ে আট লাখ টাকায় মিটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কিভাবে নিয়েছিলেন কামাল ফরাজি নিজেই।
৩. আলী জিন্নাহর চেক ও স্ট্যাম্প কোন শর্তে নেওয়া হয়েছিল।
৪. আলী জিন্নাহর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত দাবি করা হয়েছে কি না।
৫. প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
৬. সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো তদন্ত প্রতিবেদন বা লিখিত নথি তৈরি করেছিলেন কি না।
৭. আনসারুল হক রানা বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে আলী জিন্নাহর ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা কী।
৮. কথিত হত্যার হুমকির কোনো কল রেকর্ড, অডিও, সাক্ষী বা অন্যান্য প্রমাণ রয়েছে কি না।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
আলী জিন্নাহ বলেন, তিনি কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধ বাড়াতে চান না। তাঁর দাবি একটাই—বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তিনি বলেন, “আমি কারও পাওনা আত্মসাৎ করতে চাই না। আবার কোনো পাওনা থাকলে আদালতের মাধ্যমে তার নিষ্পত্তি হোক। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার বিরুদ্ধে আইনগত দাবি থাকলে আদালতে মামলা করা হোক। কিন্তু আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে আমাকে চাপ দেওয়া বা ভয় দেখানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।” এ বিষয়ে কামাল ফারাজি, আনসারুল হক রানার মোবাইলে কল করা হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে পুলিশ সুপারের কাছে দেওয়া অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট জিডি/অভিযোগ, চেক-স্ট্যাম্প, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।