লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের উপশহর এলাকায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলা নম্বর ৪৯ তারিখ ১৭-৯-২০২৬ এর প্রধান আসামি বাঘারপাড়া উপজেলার খালিয়া গ্রামের মৃত বেলায়েত বিশ্বাসের ছেলে জিন্নাত আলী বিশ্বাসকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে চৌগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী খড়িংশা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আবু মামুন ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে জিন্নাত আলী বিশ্বাসকে আটক করেন। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। তবে তিনি এ প্রতিনিধীকে জানান আটক মামলার প্রধান আসামী দীর্ঘদিন উপশহর বিরামপুরে বসবাস করে আসছে।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ, একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য
স্থানিয় একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য অনুযায়ী, ১৪ বছরের ওই কিশোরী দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে—এমন অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
তবে কার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। পুলিশও বলছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সঙ্গে যৌনকর্ম সংঘটিত হলে সম্মতি থাকলেও তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হয়।
মামলাটি দায়েরের পর পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে চৌগাছা উপজেলার বর্ডার সংলগ্ন খড়িংশা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই জিন্নাত আলী বিশ্বাসকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিকে থানায় নেওয়ার পর মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
ধর্ষণ মামলাকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
এদিকে, মামলাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আসামিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন—এমন একটি অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও অর্থ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, কারা টাকা নিয়েছেন এবং কী উদ্দেশ্যে টাকা দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—মামলার আইনগত প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো পক্ষের সঙ্গে অর্থ লেনদেন হয়ে থাকলে সেটি মামলার তদন্ত ও ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অর্থ লেনদেনের অভিযোগের বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং তিনি বিষয়টি যাচাই করে দেখছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তদন্তে এখন কয়েকটি প্রশ্ন
এই ঘটনায় এখন মূলত কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে—১৪ বছরের কিশোরীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা, ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা, প্রধান আসামির ভূমিকা এবং মামলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কোনো পক্ষ আসামিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে কি না।
এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে পুলিশি তদন্ত, ভুক্তভোগীর বক্তব্য, মামলার নথি, মেডিকেল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ওপর।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অর্থ গ্রহণ বা অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে চূড়ান্তভাবে দায়ী বলা যাচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, সব অভিযোগই যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে ।
ভুক্তভোগী শিশুর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় কার অপরাধ কতটুকু—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। পুলিশও বলছে, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

























