ঢাকা ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে ঘুষকান্ডে ডিবি সদস্য মেহেদী ক্লোজড, তদন্ত কমিটি গঠন

  • আপডেট সময়: ০৯:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার:কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে বাবা-ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত টিম গঠন করেছে পুলিশ।

সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের পর ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবে।

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ভেলাকোপা গ্রামের কেচাপাড়া এলাকায় থাই মিস্ত্রি শাহীন আলম (৪৫) ও তার ছেলে রবিউল ইসলামকে (১৭) অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগ ওঠে ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় দুই যুবকের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ওই টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

পরদিন টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একপর্যায়ে শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন মেহেদী হাসান। পরে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ফেললে তিনি অবরুদ্ধ হন। খবর পেয়ে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মেহেদী হাসান ও স্থানীয় দুই যুবক তাজুল ও বাবু ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ তোলেন এবং শাহীন আলম ও তার ছেলের কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গাছ বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করেন তারা। পরে টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির দাবি, ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের আরও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান-পিপিএম সাংবাদিকদের জানান, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাততঃ তাকে পুলিশ লাইন্সে শাস্তিমূলক ক্লোজড করা হয়েছে।”

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

কুড়িগ্রামে ঘুষকান্ডে ডিবি সদস্য মেহেদী ক্লোজড, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময়: ০৯:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার:কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে বাবা-ছেলেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত টিম গঠন করেছে পুলিশ।

সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের পর ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হবে।

এর আগে শুক্রবার গভীর রাতে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ভেলাকোপা গ্রামের কেচাপাড়া এলাকায় থাই মিস্ত্রি শাহীন আলম (৪৫) ও তার ছেলে রবিউল ইসলামকে (১৭) অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ দাবির অভিযোগ ওঠে ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় দুই যুবকের মাধ্যমে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ওই টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

পরদিন টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। একপর্যায়ে শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন মেহেদী হাসান। পরে স্থানীয়রা তাকে ঘিরে ফেললে তিনি অবরুদ্ধ হন। খবর পেয়ে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মেহেদী হাসান ও স্থানীয় দুই যুবক তাজুল ও বাবু ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ তোলেন এবং শাহীন আলম ও তার ছেলের কাছে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৮ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গাছ বিক্রি করে ওই টাকা পরিশোধ করেন তারা। পরে টাকা ফেরত চাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির দাবি, ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের আরও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে ডিবি সদস্য মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান-পিপিএম সাংবাদিকদের জানান, “তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাততঃ তাকে পুলিশ লাইন্সে শাস্তিমূলক ক্লোজড করা হয়েছে।”