ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই: বিরোধীদলীয় নেতা

  • আপডেট সময়: ১০:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৮৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, “এনার্জিতে এখন হাহাকার। তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নাই।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানিসংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ এবং এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক এ টি এম মাহবুব ই ইলাহী।

বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছে না। অথচ কালোবাজারে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। তার অভিযোগ, সিন্ডিকেটের প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং মাঝে মাঝে লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও কার্যকর সমাধান আসছে না।

তিনি আরও বলেন, সংসদে যখন ইনকামবেন্ট মিনিস্টার কোনো বিবৃতি দেন অথবা সরকারি দলের ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কেউ কথা বলেন, তখন মনে হয় যে তেলের ওপর বাংলাদেশ ভাসছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেমে গেলেও এর প্রভাব আরও কয়েক মাস থাকবে। এ পরিস্থিতিতে ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভেঙে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনে এগোতে হবে।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট পোষণের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, উন্নত দেশগুলো ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমালেও বাংলাদেশে সে ধরনের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খাতটি ‘লুটেপুটে খাওয়ার’ পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেমিনারে তিনি আরও বলেন, কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয়। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একই সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে ভবিষ্যতে উন্নতির আশা ব্যক্ত করেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নেই: বিরোধীদলীয় নেতা

আপডেট সময়: ১০:৫৫:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, “এনার্জিতে এখন হাহাকার। তেল আছে শুধু সংসদে, বাংলাদেশে নাই।”

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের কৃষিতে বিশ্ব জ্বালানিসংকটের প্রভাব: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে অ্যাগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ এবং এতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক এ টি এম মাহবুব ই ইলাহী।

বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছে না। অথচ কালোবাজারে আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। তার অভিযোগ, সিন্ডিকেটের প্রভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং মাঝে মাঝে লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও কার্যকর সমাধান আসছে না।

তিনি আরও বলেন, সংসদে যখন ইনকামবেন্ট মিনিস্টার কোনো বিবৃতি দেন অথবা সরকারি দলের ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কেউ কথা বলেন, তখন মনে হয় যে তেলের ওপর বাংলাদেশ ভাসছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেমে গেলেও এর প্রভাব আরও কয়েক মাস থাকবে। এ পরিস্থিতিতে ৬০ থেকে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিন্ডিকেট ভেঙে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বিকল্প জ্বালানি উৎপাদনে এগোতে হবে।

ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট পোষণের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, উন্নত দেশগুলো ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমালেও বাংলাদেশে সে ধরনের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

ব্যাংকিং খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, খাতটি ‘লুটেপুটে খাওয়ার’ পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেমিনারে তিনি আরও বলেন, কৃষির বিপর্যয় মানেই দেশের বিপর্যয়। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

একই সঙ্গে সংসদের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে ভবিষ্যতে উন্নতির আশা ব্যক্ত করেন।