ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সম্রাটের ২০ দিনের রিমান্ড শুনানি কাল

  • আপডেট সময়: ১০:৩১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
  • ১৩০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার ২০ দিনের রিমান্ড আবেদনের এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা সিএমএম আদালতে বেলা ১১টার দিকে মামলাগুলোয় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ এ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।

সূত্র মতে, প্রথমে রমনা থানার নির্ধারিত আমলী আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানি হবে। আদালত যদি গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন তারপর অন্য আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর সম্রাটকে মামলাগুলোয় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ প্রত্যেক মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। যার শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর ধার্য করা হয়। কিন্তু তার আগেই কারাকর্তৃপক্ষ তাকে অসুস্থতার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করায় সেদিন ওই শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর ধার্য করেন আদালত।

পরবর্তীতে গত ১২ অক্টোবর এ আসামিকে হাসপাতাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। তাই মঙ্গলবার সম্রাটকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে উপন্থাপন করা হবে বলে কারা সূত্র জানিয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে মাদক আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর যুবলীগের নেতা এনামুল হক আরমানও। গত ৯ অক্টোবর তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার একই সঙ্গে তারও উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি হবে।

অস্ত্র আইনের মামলায় রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহফুজুল হক ভূঞা ওই রিমান্ডের আবেদন করেছেন।

অস্ত্র আইনের মামলায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করা হয়। আটকের সময় আরমান মাদকাসক্ত থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কাকরাইল অফিসে আরও মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার সহযোগীরা অবস্থান করছে। সেই সংবাদ ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বেলা একটার দিকে কাকরাইল অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সম্রাটের দেখানো মতে তার বেড রুমের জাজিমের ওপরে তোষকের নিচ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। রুম থেকে দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন ও দুটি লাঠি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে কেউ ভিন্ন মত পোষণ করলে কিংবা কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার ক্যাডার বাহিনী ইলেকট্রিক শক ও লাঠি দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতন করত বলে আবেদনে বলা হয়।

মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কাকরাইলে সম্রাটকে নিয়ে অভিযানে তার দেখানো মতে সেখান থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, চার প্যাকেট তাস ও এক হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। প্রাথমিক তদন্তে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

আরমান ক্যাসিনো সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অবৈধ মাদকের যোগানদাতা। তারা পরস্পর যোগসাজসে ঘটনাস্থলে মাদক সংরক্ষণ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরও মাদকদ্রব্য উদ্ধার দ্রব্যের মূল রহস্য উদঘাটনে সম্রাট এবং আরমানের এবং অস্ত্র-গুলির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে সম্রাটকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার রাজধানীর কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া পাওয়া যায়। এ চামড়া রাখার দায়ে সম্রাটকে ছয মাসের কারাদণ্ড দিয়ে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা রয়েছে- সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সম্রাটের ২০ দিনের রিমান্ড শুনানি কাল

আপডেট সময়: ১০:৩১:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার ২০ দিনের রিমান্ড আবেদনের এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা সিএমএম আদালতে বেলা ১১টার দিকে মামলাগুলোয় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ এ রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন।

সূত্র মতে, প্রথমে রমনা থানার নির্ধারিত আমলী আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানি হবে। আদালত যদি গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন তারপর অন্য আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর সম্রাটকে মামলাগুলোয় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনসহ প্রত্যেক মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। যার শুনানির জন্য ৯ অক্টোবর ধার্য করা হয়। কিন্তু তার আগেই কারাকর্তৃপক্ষ তাকে অসুস্থতার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করায় সেদিন ওই শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর ধার্য করেন আদালত।

পরবর্তীতে গত ১২ অক্টোবর এ আসামিকে হাসপাতাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছে। তাই মঙ্গলবার সম্রাটকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে উপন্থাপন করা হবে বলে কারা সূত্র জানিয়েছে।

মামলাগুলোর মধ্যে মাদক আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর যুবলীগের নেতা এনামুল হক আরমানও। গত ৯ অক্টোবর তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার একই সঙ্গে তারও উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি হবে।

অস্ত্র আইনের মামলায় রমনা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় একই থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মাহফুজুল হক ভূঞা ওই রিমান্ডের আবেদন করেছেন।

অস্ত্র আইনের মামলায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানকে আটক করা হয়। আটকের সময় আরমান মাদকাসক্ত থাকায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে জানান, কাকরাইল অফিসে আরও মাদকদ্রব্য ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার সহযোগীরা অবস্থান করছে। সেই সংবাদ ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে বেলা একটার দিকে কাকরাইল অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। সম্রাটের দেখানো মতে তার বেড রুমের জাজিমের ওপরে তোষকের নিচ থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। রুম থেকে দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন ও দুটি লাঠি উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্রের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে কেউ ভিন্ন মত পোষণ করলে কিংবা কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তার ক্যাডার বাহিনী ইলেকট্রিক শক ও লাঠি দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতন করত বলে আবেদনে বলা হয়।

মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, কাকরাইলে সম্রাটকে নিয়ে অভিযানে তার দেখানো মতে সেখান থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ, চার প্যাকেট তাস ও এক হাজার ১৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। প্রাথমিক তদন্তে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত মর্মে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

আরমান ক্যাসিনো সম্রাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং অবৈধ মাদকের যোগানদাতা। তারা পরস্পর যোগসাজসে ঘটনাস্থলে মাদক সংরক্ষণ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আরও মাদকদ্রব্য উদ্ধার দ্রব্যের মূল রহস্য উদঘাটনে সম্রাট এবং আরমানের এবং অস্ত্র-গুলির প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে সম্রাটকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার রাজধানীর কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া পাওয়া যায়। এ চামড়া রাখার দায়ে সম্রাটকে ছয মাসের কারাদণ্ড দিয়ে রাতে কারাগারে পাঠানো হয়।