লোকসমাচার ডেস্ক:ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (সিএমএম) কোর্টে শুক্রবারও বিচারপ্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ মামলার ফাইলপত্র নিয়ে ছোটাছুটি করছেন। আবার কেউ আইনজীবীদের সঙ্গে জামিনের বিষয়ে আলোচনা করছেন। অনেকে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ নিতে আদালতে এসেছেন। কেউ কেউ গ্রেপ্তার হওয়া স্বজনদের জন্য খাবার কিনে গারদখানায় পাঠাচ্ছেন। তবে বিচারপ্রার্থীদের সবার চোখে মুখে চিন্তার ভাজ লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে অভিযোগ করছেন, কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ তাদের স্বজনদের গ্রেপ্তার করেছে।
সিএমএম কোর্টের হাজতখানার সামনে কথা হয় আমিন আহমেদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমার ভাইয়ের কোনো খোঁজ নেই। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাচ্ছি। রাতে কাফরুল থানায় গিয়েও কোনো সন্ধান পাইনি।
তাই সকালে আদালতের হাজতখানায় এসে খোঁজ করছি। তবে বেলা ১টার দিকে কাফরুল থানা থেকে আসা একটি প্রিজনভ্যানে আমার ভাইকে দেখতে পেয়েছি। তিনি প্রিজনভ্যান থেকেই আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এখন আইনজীবী ধরে জামিনের জন্য ব্যবস্থা করছি। হাজতখানায় ওকালতনামাও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আইনজীবী বলেছে, আজকে জামিন হবে না । গ্রেপ্তার হওয়ার কারণ এখনো জানতে পারিনি।
বাগেরহাট চিতলমারি থেকে বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসা ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা ৪ জন এসেছি। কিন্তু খিলগাঁও এলাকা থেকে দু’জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। সকালে কোর্টে এসে জানতে পারলাম খিলগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের একটি পেন্ডিং মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এখন আমরা জামিন চাইতে আদালতে এসেছি।
সরেজমিন দেখা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই সিএমএম কোর্টের হাজতখানার সামনে শত শত বিচারপ্রার্থী এসে জড়ো হতে থাকেন। সকাল থেকেই আসামিদের নিয়ে একের পর এক প্রিজনভ্যান এসে হাজতখানায় প্রবেশ করে। আসামিদের অনেককেই প্রিজনভ্যান থেকেই সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দিতে দেখা গেছে। প্রতিটি প্রিজনভ্যান আদালত চত্বরে প্রবেশ করা মাত্রই বিচারপ্রার্থীরা এগিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া স্বজনদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। কে কোন থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে, সেই তথ্য জানতে চাচ্ছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা প্রিজনভ্যান থেকেই উচ্চস্বরে জবাব দিচ্ছেন। বেলা ১২ থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত আসামিদের নিয়ে প্রায় ১৭টি প্রিজনভ্যানে সিএমএম কোর্টে এসে হাজির হয়। তবে কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে তা জানা যায়নি।
সূত্র বলছে, বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে গতকাল বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন প্রায় ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সকালে বিভিন্ন থানা থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে। এজন্য শুক্রবার হওয়া সত্ত্বেও আদালতে বিচারপ্রার্থীদের ভিড় তৈরি হয়েছে।




















