লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দেওয়া লিখিত জবানবন্দি ও প্রশ্নোত্তরে উঠে এসেছে টাকা লেনদেন, অডিও রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে একাধিক বিষয়।
জবানবন্দিদাতা মোঃ আলী জিন্নাহ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শ্রীদামের স্ত্রীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, এসআই নিরস্ত্র সুদর্শন রাজবংশীর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাঁর অনুপস্থিতিতে এসআই সুদর্শন রাজবংশীর মেসে নীল শীলের মাধ্যমে ওই টাকা দেওয়া হয়েছিল।
জবানবন্দিতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি নিজ হাতে এসআই সুদর্শন রাজবংশী কিংবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কোনো টাকা দিয়েছেন কি না। জবাবে তিনি জানান, তিনি নিজ হাতে কাউকে টাকা দেননি। তবে টাকা প্রদানকারীর একটি অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন। টাকা লেনদেনের কোনো লিখিত বা দালিলিক প্রমাণ আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, লিখিত প্রমাণ নেই, তবে অডিও রেকর্ড রয়েছে।
জবানবন্দিদাতা আরও দাবি করেন, বিষয়টি জানার পর তিনি মুঠোফোনে এসআই সুদর্শন রাজবংশীর সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কথোপকথনের একপর্যায়ে এসআই তাঁকে জানান, তাঁকে টাকা দেওয়া হয়নি; অন্যভাবে টাকা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা জানতে চাইলে পরবর্তী সময়ে তাঁর মোবাইল নম্বর ব্ল্যাকলিস্টে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, জবানবন্দিদাতার দাবি, অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট এসআইয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জবানবন্দির আগের অংশে শ্রীদামের স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, ৯৯৯-এ করা অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। এসব বক্তব্যের মধ্যে কিছু বিষয়ে অসংগতি রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে, যে নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বক্তব্য এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে কথিত অডিও রেকর্ডের সত্যতা, টাকা লেনদেনের সময় ও স্থান এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এসআই সুদর্শনের চাকরি নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানালেন অভিযোগকারী
অভিযোগকারী জানান, এসআই সুদর্শন রাজবংশী ও নিলুশীলের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ সময় এসআই সুদর্শন রাজবংশী তাঁর চাকরি যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনার জন্য অভিযোগকারীর কাছে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযোগকারী বলেন, তিনি কারও চাকরি বা ব্যক্তিগত ক্ষতি চান না। তবে ৫০ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে যাচাই হওয়া উচিত। টাকা ফেরত দেওয়া হয়ে থাকলে সেটির কারণ ও পরিস্থিতিও তদন্তে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনের কাছে দাবি: পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, কথিত অডিও রেকর্ড যাচাই এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।






















