ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকগাছায় এসিল্যান্ড পদ শূন্য, ভোগান্তিতে মানুষ

  • আপডেট সময়: ১০:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,পাইকগাছা প্রতিনিধি:জমির মালিকানা আছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত কিন্তু নামজারি কিংবা জমাভাগের কাজ শেষ করতে অপেক্ষার যেন শেষ নেই। কেউ পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নামে রেকর্ড করতে চান, কেউ জমি কেনার পর নামজারি করতে গিয়ে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। আবার কারও জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ, কারও প্রয়োজন জরুরি শুনানি। এসব সমস্যার সমাধান পেতে যাঁদের যাওয়ার কথা উপজেলা ভূমি অফিসে, তাঁদের জন্যই এখন তৈরি হয়েছে বাড়তি অনিশ্চয়তা।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদ শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে কর্মকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এতে ভূমি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভূমি অফিসের সেবা মানুষের সম্পত্তির অধিকার ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। একটি নামজারি আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে জমির মালিকানা হালনাগাদ আটকে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়ে জমি কেনাবেচা, ব্যাংকঋণ গ্রহণ, উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন কাজে। আবার জমাভাগ, নামজারির আপত্তি, শুনানি কিংবা ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকতে পারে মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তিসংক্রান্ত বিষয়। এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রমের দায়িত্ব অতিরিক্তভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর পড়েছে। ফলে নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনের কাজের পাশাপাশি ভূমি অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রমও সমন্বয় করতে হচ্ছে তাঁকে। একজন কর্মকর্তার পক্ষে একসঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো কতটা সহজ, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নামজারি থেকে খাসজমি, সর্বত্রই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শুধু ভূমি অফিসের প্রশাসনিক প্রধান নন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত। নামজারি ও জমাভাগের আবেদন নিষ্পত্তি, শুনানি গ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় তদারকি, সরকারি খাসজমি সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।এ পদে কর্মকর্তা না থাকলে নামজারি আবেদন ও আপত্তির শুনানি, শুনানি শেষে আদেশ প্রদান এবং জটিল আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের আশঙ্কা থাকে। একইভাবে জমাভাগের আবেদন, সরকারি জমি বন্দোবস্ত এবং ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়েও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়।

পাইকগাছার মতো উপকূলীয় উপজেলায় সরকারি খাসজমি, জলাশয়, কৃষিজমি ও বিভিন্ন সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলে মাঠপর্যায়ে নজরদারি, অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত মামলার শুনানি, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহযোগিতা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মতো দায়িত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতি কেবল একটি পদ শূন্য থাকার বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরো ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রম।

পাইকগাছার এক সেবাগ্রহীতা হাফিজুর রহমান জানান, জমির নামজারি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ নিয়ে ভূমি অফিসে আসতে হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় কাজের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। সময়মতো কাজ সম্পন্ন না হলে জমি নিয়ে পরবর্তী বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পড়তে হবে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা চান।

আরেক সেবাগ্রহীতা স্পষ্ট করেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ভূমি অফিসে আসতে যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই ব্যয় হয়। একদিনে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন না হলে আবার আসতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। দ্রুত নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করে ভূমি অফিসের সেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। সেবাগ্রহীতাদের এমন ভোগান্তির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নতুন কর্মকর্তা পদায়নের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শুনানি, অনুমোদন কিংবা সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর বদলি, পদ শূন্য পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর এ উপজেলায় যোগদান করেন। প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাঁকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় বদলি করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর বদলির আদেশের পর ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসে যোগদান করেন। তাঁর বদলির পর থেকে পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে এসিল্যান্ডের পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়নের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, নতুন ব্যাচের ভূমি-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি প্রকাশ্যে আনেন, ‘২৪ ঘণ্টায় তো চাপ থাকে।’ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্বের পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

পাইকগাছার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকার কারণে তাঁদের জমি-জমাসংক্রান্ত কাজে যেন হয়রানি বা অযথা বিলম্বের শিকার হতে না হয়। দ্রুত নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সময়ে কার্যকর তদারকি ও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমিসেবা নিশ্চিত করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

পাইকগাছায় এসিল্যান্ড পদ শূন্য, ভোগান্তিতে মানুষ

পাইকগাছায় এসিল্যান্ড পদ শূন্য, ভোগান্তিতে মানুষ

আপডেট সময়: ১০:১৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,পাইকগাছা প্রতিনিধি:জমির মালিকানা আছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত কিন্তু নামজারি কিংবা জমাভাগের কাজ শেষ করতে অপেক্ষার যেন শেষ নেই। কেউ পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নামে রেকর্ড করতে চান, কেউ জমি কেনার পর নামজারি করতে গিয়ে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। আবার কারও জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ, কারও প্রয়োজন জরুরি শুনানি। এসব সমস্যার সমাধান পেতে যাঁদের যাওয়ার কথা উপজেলা ভূমি অফিসে, তাঁদের জন্যই এখন তৈরি হয়েছে বাড়তি অনিশ্চয়তা।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদ শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে কর্মকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এতে ভূমি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভূমি অফিসের সেবা মানুষের সম্পত্তির অধিকার ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। একটি নামজারি আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে জমির মালিকানা হালনাগাদ আটকে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়ে জমি কেনাবেচা, ব্যাংকঋণ গ্রহণ, উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন কাজে। আবার জমাভাগ, নামজারির আপত্তি, শুনানি কিংবা ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকতে পারে মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তিসংক্রান্ত বিষয়। এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রমের দায়িত্ব অতিরিক্তভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ওপর পড়েছে। ফলে নিয়মিত উপজেলা প্রশাসনের কাজের পাশাপাশি ভূমি অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রমও সমন্বয় করতে হচ্ছে তাঁকে। একজন কর্মকর্তার পক্ষে একসঙ্গে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো কতটা সহজ, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নামজারি থেকে খাসজমি, সর্বত্রই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শুধু ভূমি অফিসের প্রশাসনিক প্রধান নন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত। নামজারি ও জমাভাগের আবেদন নিষ্পত্তি, শুনানি গ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় তদারকি, সরকারি খাসজমি সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।এ পদে কর্মকর্তা না থাকলে নামজারি আবেদন ও আপত্তির শুনানি, শুনানি শেষে আদেশ প্রদান এবং জটিল আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের আশঙ্কা থাকে। একইভাবে জমাভাগের আবেদন, সরকারি জমি বন্দোবস্ত এবং ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়েও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়।

পাইকগাছার মতো উপকূলীয় উপজেলায় সরকারি খাসজমি, জলাশয়, কৃষিজমি ও বিভিন্ন সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলে মাঠপর্যায়ে নজরদারি, অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত মামলার শুনানি, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহযোগিতা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মতো দায়িত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতি কেবল একটি পদ শূন্য থাকার বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরো ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রম।

পাইকগাছার এক সেবাগ্রহীতা হাফিজুর রহমান জানান, জমির নামজারি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ নিয়ে ভূমি অফিসে আসতে হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় কাজের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। সময়মতো কাজ সম্পন্ন না হলে জমি নিয়ে পরবর্তী বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পড়তে হবে। সাধারণ মানুষ দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা চান।

আরেক সেবাগ্রহীতা স্পষ্ট করেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ভূমি অফিসে আসতে যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই ব্যয় হয়। একদিনে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন না হলে আবার আসতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। দ্রুত নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করে ভূমি অফিসের সেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। সেবাগ্রহীতাদের এমন ভোগান্তির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নতুন কর্মকর্তা পদায়নের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শুনানি, অনুমোদন কিংবা সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এক বছর দায়িত্ব পালনের পর বদলি, পদ শূন্য পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর এ উপজেলায় যোগদান করেন। প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাঁকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় বদলি করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর বদলির আদেশের পর ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসে যোগদান করেন। তাঁর বদলির পর থেকে পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে এসিল্যান্ডের পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়নের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, নতুন ব্যাচের ভূমি-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মকর্তা পদায়ন করা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি প্রকাশ্যে আনেন, ‘২৪ ঘণ্টায় তো চাপ থাকে।’ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্বের পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

পাইকগাছার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকার কারণে তাঁদের জমি-জমাসংক্রান্ত কাজে যেন হয়রানি বা অযথা বিলম্বের শিকার হতে না হয়। দ্রুত নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সময়ে কার্যকর তদারকি ও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমিসেবা নিশ্চিত করা হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।