ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে যাবার সময় নদীতে ডুবলো শরণার্থী বাবা-মেয়ে!

  • আপডেট সময়: ১১:৪০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯
  • ১৬৬ জন দেখেছে
Spread the love

ডেস্ক :মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন অনলাইন ভার্সনের লিডেই রয়েছে ছবিটা, যা আপনার মনকে আদ্র করে তুলবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক নদীর জলে পড়ে থাকা বাবা আর শিশু কন্যার মৃত্যুদেহ দুটি যেন অমানবিকতার এক নির্মম দৃষ্টান্ত। তারা মারা গেছে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সময়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত সঙ্কট এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষ্ঠুর অভিবাসন নীতির জলন্ত প্রমাণ এই ছবি। যেন দুটি মানব সন্তান নয়, নদীতে ভাসছে বিশ্ব মানবতা!

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী রিও গ্রান্ড নদীর জলে ওপুর হয়ে পড়ে থাকা মানুষটির বাড়ি ছিলো এস সালভাদরে, নাম অস্কার আলবার্টো মার্টিনেজ। এল সালভাদরের সরকারি কর্মকর্তারা তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। রোববার মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশের সময় মেয়েকে নিয়ে নদীতে পড়ে যান অস্কার। সোমবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে নদীর জল থেকে তোলা হয়েছে বাবা আর মেয়ের মরদেহ। নিথর দেহদুটির ছবি তুলেছেন মেক্সিকোর সাংবাদিক জুলিয়া লি ডিউক।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ছোট মেয়ের মুখটি তার বাবার জামার মধ্যে ঢুকে গেছে। যেন এটাই তার পরম নির্ভরতার জায়গা। তার ডান হাতটি বাবার গলা জড়িয়ে আছে।

এই ছবি আমাদের ২০১৫ সালে তোলা ৩ বছরের সিরীয় বালক আয়লান কুর্দির কথা মনে করিয়ে দেয়। যে শিশু যুদ্ধ বিগ্রহ এড়িয়ে নিরাপদ জীবনের খোঁজে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি জমিয়েছিলো ইউরোপের কোনো দেশের উদ্দেশে। কিন্তু সাগরে নৌকাডুবে মারা যায় সে ও তার মা। তার স্তব্ধ দেহটি এভাবেই তুরস্কের সাগরতীরের বালিতে মুখ গুঁজে পড়েছিলো । সে সময় আয়লান কুর্দের এই ছবি গোটা বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তুলেছিলো। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে চলমান অভিবাসী সঙ্কটের কোনো সুরাহা যে হয়নি অস্কার ও তার মেয়ের মৃত্যুই তার প্রমাণ।

এদিকে বাবা ও মেয়ের এই মৃত্যুর ঘটনায় সালভাদরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্দ্রা হিল জনগণের প্রতি আর্জি জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন দেশেই থাকে, উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে না যায়। একই সঙ্গে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে লোকজন আর আমেরিকার দিকে ছুটে না যায়।

তিনি অস্কার ও তার মেয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আরো বলেন, ‘ফের শোকে ভাসছে দেশ। আমি সমস্ত পরিবারগুলোর কাছে অনুরোধ করছি, প্রিয় বাবারা, আপনারা ঝুঁকি নিবেন না। জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।’

মেক্সিকোতে থাকা সালভাদরের অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিল।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রে যাবার সময় নদীতে ডুবলো শরণার্থী বাবা-মেয়ে!

আপডেট সময়: ১১:৪০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯
Spread the love

ডেস্ক :মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন অনলাইন ভার্সনের লিডেই রয়েছে ছবিটা, যা আপনার মনকে আদ্র করে তুলবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক নদীর জলে পড়ে থাকা বাবা আর শিশু কন্যার মৃত্যুদেহ দুটি যেন অমানবিকতার এক নির্মম দৃষ্টান্ত। তারা মারা গেছে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সময়। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত সঙ্কট এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষ্ঠুর অভিবাসন নীতির জলন্ত প্রমাণ এই ছবি। যেন দুটি মানব সন্তান নয়, নদীতে ভাসছে বিশ্ব মানবতা!

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী রিও গ্রান্ড নদীর জলে ওপুর হয়ে পড়ে থাকা মানুষটির বাড়ি ছিলো এস সালভাদরে, নাম অস্কার আলবার্টো মার্টিনেজ। এল সালভাদরের সরকারি কর্মকর্তারা তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। রোববার মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় প্রবেশের সময় মেয়েকে নিয়ে নদীতে পড়ে যান অস্কার। সোমবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে নদীর জল থেকে তোলা হয়েছে বাবা আর মেয়ের মরদেহ। নিথর দেহদুটির ছবি তুলেছেন মেক্সিকোর সাংবাদিক জুলিয়া লি ডিউক।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ছোট মেয়ের মুখটি তার বাবার জামার মধ্যে ঢুকে গেছে। যেন এটাই তার পরম নির্ভরতার জায়গা। তার ডান হাতটি বাবার গলা জড়িয়ে আছে।

এই ছবি আমাদের ২০১৫ সালে তোলা ৩ বছরের সিরীয় বালক আয়লান কুর্দির কথা মনে করিয়ে দেয়। যে শিশু যুদ্ধ বিগ্রহ এড়িয়ে নিরাপদ জীবনের খোঁজে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি জমিয়েছিলো ইউরোপের কোনো দেশের উদ্দেশে। কিন্তু সাগরে নৌকাডুবে মারা যায় সে ও তার মা। তার স্তব্ধ দেহটি এভাবেই তুরস্কের সাগরতীরের বালিতে মুখ গুঁজে পড়েছিলো । সে সময় আয়লান কুর্দের এই ছবি গোটা বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন তুলেছিলো। কিন্তু বিশ্ব জুড়ে চলমান অভিবাসী সঙ্কটের কোনো সুরাহা যে হয়নি অস্কার ও তার মেয়ের মৃত্যুই তার প্রমাণ।

এদিকে বাবা ও মেয়ের এই মৃত্যুর ঘটনায় সালভাদরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্দ্রা হিল জনগণের প্রতি আর্জি জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন দেশেই থাকে, উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে না যায়। একই সঙ্গে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে লোকজন আর আমেরিকার দিকে ছুটে না যায়।

তিনি অস্কার ও তার মেয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে আরো বলেন, ‘ফের শোকে ভাসছে দেশ। আমি সমস্ত পরিবারগুলোর কাছে অনুরোধ করছি, প্রিয় বাবারা, আপনারা ঝুঁকি নিবেন না। জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।’

মেক্সিকোতে থাকা সালভাদরের অভিবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিল।