ঢাকা ০১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধুর অনুরোধ রাখতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার

  • আপডেট সময়: ০৮:০৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯
  • ১৮৭ জন দেখেছে
Spread the love

ডেস্ক : বন্ধুর অনুরোধে তাঁর প্রেমিকার কাছে মুঠোফোন পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন বসন্ত শব্দকর (২৪)। কিন্তু বন্ধুর এ অনুরোধ রাখতে গিয়েই গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পীরের বাজার এলাকায়। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

গণপিটুনির শিকার হওয়া বসন্তের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকায়। তাঁকে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, বসন্তের বন্ধু একই এলাকার বাসিন্দা হবিব মিয়ার সঙ্গে পীরের বাজার এলাকার এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ওই তরুণী যোগাযোগের সুবিধার্থে হবিবের কাছে একটি মুঠোফোন চান। হবিব মুঠোফোন কিনে বন্ধু বসন্তকে সেটি প্রেমিকার কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন। রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে হবিবের দেওয়া চিঠি ও মুঠোফোন নিয়ে বসন্ত ওই তরুণীর বাড়ি খুঁজতে থাকেন। এ সময় তাঁকে দেখে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ছেলেধরা সন্দেহে লোকজন উত্তেজিত হয়ে বসন্তকে মারতে শুরু করেন। পরে চিৎকার শুনে কয়েকজন ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে বসন্তকে উদ্ধার করে একটি দোকানের ভেতর নিয়ে যান। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বসন্তকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে রাতেই অজ্ঞাতব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বসন্ত।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী সোমবার বলেন, বন্ধুর আবদার মেটাতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে বসন্ত গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। তাঁর কাছে বন্ধু হবিবের দেওয়া মুঠোফোন ও চিঠি পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সঞ্জয় চক্রবর্তী আরও বলেন, সম্প্রতি ছেলেধরা গুজবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে লোকজনকে বলা হয়েছে। কোনো মানুষের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

বন্ধুর অনুরোধ রাখতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার

আপডেট সময়: ০৮:০৯:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯
Spread the love

ডেস্ক : বন্ধুর অনুরোধে তাঁর প্রেমিকার কাছে মুঠোফোন পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন বসন্ত শব্দকর (২৪)। কিন্তু বন্ধুর এ অনুরোধ রাখতে গিয়েই গণপিটুনির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পীরের বাজার এলাকায়। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

গণপিটুনির শিকার হওয়া বসন্তের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকায়। তাঁকে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, বসন্তের বন্ধু একই এলাকার বাসিন্দা হবিব মিয়ার সঙ্গে পীরের বাজার এলাকার এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ওই তরুণী যোগাযোগের সুবিধার্থে হবিবের কাছে একটি মুঠোফোন চান। হবিব মুঠোফোন কিনে বন্ধু বসন্তকে সেটি প্রেমিকার কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করেন। রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে হবিবের দেওয়া চিঠি ও মুঠোফোন নিয়ে বসন্ত ওই তরুণীর বাড়ি খুঁজতে থাকেন। এ সময় তাঁকে দেখে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে ছেলেধরা সন্দেহে লোকজন উত্তেজিত হয়ে বসন্তকে মারতে শুরু করেন। পরে চিৎকার শুনে কয়েকজন ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে গিয়ে বসন্তকে উদ্ধার করে একটি দোকানের ভেতর নিয়ে যান। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বসন্তকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে রাতেই অজ্ঞাতব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বসন্ত।

কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী সোমবার বলেন, বন্ধুর আবদার মেটাতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে বসন্ত গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। তাঁর কাছে বন্ধু হবিবের দেওয়া মুঠোফোন ও চিঠি পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সঞ্জয় চক্রবর্তী আরও বলেন, সম্প্রতি ছেলেধরা গুজবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে লোকজনকে বলা হয়েছে। কোনো মানুষের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তা দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে।