ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে নির্যাতন সইতে না পেরে যমুনা নদী সাঁতরে গৃহবধূ থানায়!

  • আপডেট সময়: ০৮:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২০
  • ১৯১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : রাত ১২টা। মাঘের রাতে মানুষ যখন লেপ-কম্বল মুড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। তখন এক নারী ভিজা শরীর নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে থানায় এসে হাজির।

থানার ওসি মনিরুজ্জামান এমন দৃশ্য দেখে হতবাক।

জানা গেল, ওই নারী স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে জীবন বাঁচাতে শীতের রাতে নদী সাঁতরে ছুটে এসেছেন থানায়।

দিনাজপুরের বিরামপুর থানার এ ঘটনার বর্ণনা শুনে অনেকের বিবেক নাড়া দিয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলার বড় বাইলশিরা গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে কামরুন্নাহার রিনার সঙ্গে প্রস্তমপুর গ্রামের রায়হান কবীরের ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৪ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। রায়হান কবীর প্রায়ই স্ত্রী রিনাকে মারধর করত।

বৃহস্পতিবার লাঠি দিয়ে রিনাকে বেদম মারধর করলে স্বামীর বাড়ি থেকে রাত ১২টায় শাখা যমুনা নদী সাঁতরে পার হয়ে বিরামপুর থানায় এসে হাজির হয়।

থানার ওসি মনিরুজ্জামান তাৎক্ষণিক মহিলা পুলিশের নিকট থেকে শুকনো পোশাক ও কম্বল নিয়ে ওই নারীকে দিয়ে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করেন। রাতেই পুলিশ পাঠিয়ে স্বামী রায়হানকে আটক করে নিয়ে আসেন। পুলিশ ওই নারীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

শুক্রবার বিকালে থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রিনার সংসার ঠিক রাখার লক্ষ্যে বিষয়টি উভয়পক্ষ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে। তবে নির্যাতিতা রিনা লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

দিনাজপুরে নির্যাতন সইতে না পেরে যমুনা নদী সাঁতরে গৃহবধূ থানায়!

আপডেট সময়: ০৮:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : রাত ১২টা। মাঘের রাতে মানুষ যখন লেপ-কম্বল মুড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। তখন এক নারী ভিজা শরীর নিয়ে কাঁপতে কাঁপতে থানায় এসে হাজির।

থানার ওসি মনিরুজ্জামান এমন দৃশ্য দেখে হতবাক।

জানা গেল, ওই নারী স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে জীবন বাঁচাতে শীতের রাতে নদী সাঁতরে ছুটে এসেছেন থানায়।

দিনাজপুরের বিরামপুর থানার এ ঘটনার বর্ণনা শুনে অনেকের বিবেক নাড়া দিয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলার বড় বাইলশিরা গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে কামরুন্নাহার রিনার সঙ্গে প্রস্তমপুর গ্রামের রায়হান কবীরের ৬ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৪ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। রায়হান কবীর প্রায়ই স্ত্রী রিনাকে মারধর করত।

বৃহস্পতিবার লাঠি দিয়ে রিনাকে বেদম মারধর করলে স্বামীর বাড়ি থেকে রাত ১২টায় শাখা যমুনা নদী সাঁতরে পার হয়ে বিরামপুর থানায় এসে হাজির হয়।

থানার ওসি মনিরুজ্জামান তাৎক্ষণিক মহিলা পুলিশের নিকট থেকে শুকনো পোশাক ও কম্বল নিয়ে ওই নারীকে দিয়ে শীতের প্রকোপ থেকে রক্ষা করেন। রাতেই পুলিশ পাঠিয়ে স্বামী রায়হানকে আটক করে নিয়ে আসেন। পুলিশ ওই নারীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

শুক্রবার বিকালে থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রিনার সংসার ঠিক রাখার লক্ষ্যে বিষয়টি উভয়পক্ষ নিষ্পত্তির চেষ্টা করছে। তবে নির্যাতিতা রিনা লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।