ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তিগত শিক্ষার বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার

  • আপডেট সময়: ০৬:২৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ জন দেখেছে
Spread the love

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট:বাগেরহাটে স্কিল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

‎দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শনিবার ১৮ জুলাই বাগেরহাটে লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্কিল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে তরুণ প্রজন্মকে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সরকার দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার সফল বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ দেশের উন্নয়ন গতিধারাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দক্ষ জাতি গঠনের মাধ্যমেই কেবল একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বর্তমান সময়ে কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দক্ষতা অর্জনই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এবং যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার অপরিহার্য। লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ বাগেরহাটের তরুণদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ভুক্তভোগী বা বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে এ ধরনের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে অনুষ্ঠানে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার অভাব এবং এর ফলে তরুণদের কর্মসংস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে বলে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।

‎সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা কারিগরি শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জগলু জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষাবিদরা মনে করেন, কেবল সনদভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রি-অরিয়েন্টেড কারিকুলাম অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এমন সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা গেলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পায়ন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

‎উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাগেরহাটের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় যুবসমাজের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তা দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার এই বিস্তৃতি একদিকে যেমন তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা ব্যবস্থার এই রূপান্তরই এখন সময়ের প্রধান দাবি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

মোরেলগঞ্জে ক্লিনিক সিলগালার পর এবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তিগত শিক্ষার বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার

আপডেট সময়: ০৬:২৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Spread the love

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট:বাগেরহাটে স্কিল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

‎দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। শনিবার ১৮ জুলাই বাগেরহাটে লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্কিল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে তরুণ প্রজন্মকে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। সরকার দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার সফল বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ দেশের উন্নয়ন গতিধারাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দক্ষ জাতি গঠনের মাধ্যমেই কেবল একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বর্তমান সময়ে কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দক্ষতা অর্জনই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এবং যুবসমাজকে কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার অপরিহার্য। লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ বাগেরহাটের তরুণদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ভুক্তভোগী বা বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে এ ধরনের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে অনুষ্ঠানে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার অভাব এবং এর ফলে তরুণদের কর্মসংস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, তা কাটিয়ে উঠতে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে বলে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।

‎সাবেক সচিব ড. মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা কারিগরি শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম জগলু জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষাবিদরা মনে করেন, কেবল সনদভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রি-অরিয়েন্টেড কারিকুলাম অনুসরণ করলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এমন সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা গেলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পায়ন প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

‎উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাগেরহাটের শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় যুবসমাজের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে এই ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তা দেশের সামগ্রিক বেকারত্ব নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার এই বিস্তৃতি একদিকে যেমন তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা ব্যবস্থার এই রূপান্তরই এখন সময়ের প্রধান দাবি হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।